রাজশাহীর দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রী কলেজে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কলেজের প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মারধর, শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও কলেজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের (ইউপি) দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই কলেজ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সচেতন মহল প্রদর্শক হীরার বেতন বন্ধসহ দৃস্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, আগামি ৪ ও ৫মে দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার সকালে দাওয়াতপত্র নিয়ে এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কলেজে প্রবেশ করেন।কিন্ত্ত কলেজের প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা তাদের লক্ষ্য করে অসম্মান জনক কথা বলেন।
তাদের দাবি, অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়েই তারা ভেতরে যান। তবে, দাওয়াতপত্র দেওয়ার আগেই প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা উত্তেজিত হয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অসম্মানজনক কথা বলাবলি শুরু করেন। একজন এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করে প্রদর্শক হীরা।এনিয়একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহিরাগতদের পক্ষ থেকে কোনো উসকানি ছিল না। বরং হীরার আক্রমণ ও আচরণেই পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জয়নগর ইউনিয়ন কৃষকদল নেতা জয়নাল আবেদিন, মৎস্য ব্যবসায়ী শাহাদত এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এজদার আলীসহ আরও কয়েকজন।
স্থানীয়রা বলছে, অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক হীরাকে নিয়ে আগে থেকেই নানা আলোচনা ও মুখরুচোক গুঞ্জন ছিল। তাদের দাবি, হঠাৎ স্থানীয়দের উপস্থিতি পছন্দ না হওয়ায় হীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, আলেয়া খাতুন হীরা দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তিনি প্রায় অধ্যক্ষের আশপাশে অবস্থান করেন এবং অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে অধ্যক্ষের যোগাযোগে বাধা দেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এতে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, “আমি কাউকে অপমান করিনি। যারা এসেছিল তারা মাহফিলের নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অধ্যক্ষকে রক্ষা করতে গিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। বরং আমাকেই মারধর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কলেজে সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। ঘটনার সময় বাইরে কী হয়েছে তা আমি নিশ্চিত নই।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।
স্থানীয় বিএনপির এক নেতা বলেন, এই কলেজে দীর্ঘসময় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মোজাম্মেল হক। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে কলেজের জমি, গাছপালা বিক্রিসহ বিভিন্নখাতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন মোজাম্মেল হক। সেই সময়ের হিসাবের ফিরিস্তি বারবার চাইলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের দেননি। উল্টো আমাদেরকে ভয় ভীতি দেখান। এমনকি ঘটনার দিনে কলেজের শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা প্রথমে আমাদের উপরে হামলা করে এবং কয়েকজন নেতাকর্মীকে চড়-থাপ্পড় মারেন। যার ফলশ্রুতিতে নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে অফিসের কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে।
এবিষয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে কেন্দ্র হিসেবে ও আশেপাশের ১০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি ছিলো। অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটতে পারে এমন সংবাদ পেয়ে কলেজে গিয়ে শিক্ষক ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে দফায় দফায় দফায় কথা বলে তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমিসহ আমার পুলিশ সদস্যরা বাধা দেয়ার পরেও কিছু লোকজন কলেজে অনধিকার প্রবেশ করে ভাংচুর চালায়।বর্তমান সময়ে পুলিশ সদস্যরা কতটা অসহায় ও নিরুপায় তা আর বলার অবকাশ রাখে না। তবে এ ব্যপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, আগামি ৪ ও ৫মে দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার সকালে দাওয়াতপত্র নিয়ে এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কলেজে প্রবেশ করেন।কিন্ত্ত কলেজের প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা তাদের লক্ষ্য করে অসম্মান জনক কথা বলেন।
তাদের দাবি, অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়েই তারা ভেতরে যান। তবে, দাওয়াতপত্র দেওয়ার আগেই প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা উত্তেজিত হয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অসম্মানজনক কথা বলাবলি শুরু করেন। একজন এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করে প্রদর্শক হীরা।এনিয়একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহিরাগতদের পক্ষ থেকে কোনো উসকানি ছিল না। বরং হীরার আক্রমণ ও আচরণেই পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জয়নগর ইউনিয়ন কৃষকদল নেতা জয়নাল আবেদিন, মৎস্য ব্যবসায়ী শাহাদত এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এজদার আলীসহ আরও কয়েকজন।
স্থানীয়রা বলছে, অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক হীরাকে নিয়ে আগে থেকেই নানা আলোচনা ও মুখরুচোক গুঞ্জন ছিল। তাদের দাবি, হঠাৎ স্থানীয়দের উপস্থিতি পছন্দ না হওয়ায় হীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, আলেয়া খাতুন হীরা দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তিনি প্রায় অধ্যক্ষের আশপাশে অবস্থান করেন এবং অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে অধ্যক্ষের যোগাযোগে বাধা দেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এতে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, “আমি কাউকে অপমান করিনি। যারা এসেছিল তারা মাহফিলের নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অধ্যক্ষকে রক্ষা করতে গিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। বরং আমাকেই মারধর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কলেজে সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। ঘটনার সময় বাইরে কী হয়েছে তা আমি নিশ্চিত নই।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।
স্থানীয় বিএনপির এক নেতা বলেন, এই কলেজে দীর্ঘসময় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মোজাম্মেল হক। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে কলেজের জমি, গাছপালা বিক্রিসহ বিভিন্নখাতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন মোজাম্মেল হক। সেই সময়ের হিসাবের ফিরিস্তি বারবার চাইলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের দেননি। উল্টো আমাদেরকে ভয় ভীতি দেখান। এমনকি ঘটনার দিনে কলেজের শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা প্রথমে আমাদের উপরে হামলা করে এবং কয়েকজন নেতাকর্মীকে চড়-থাপ্পড় মারেন। যার ফলশ্রুতিতে নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে অফিসের কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে।
এবিষয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে কেন্দ্র হিসেবে ও আশেপাশের ১০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি ছিলো। অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটতে পারে এমন সংবাদ পেয়ে কলেজে গিয়ে শিক্ষক ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে দফায় দফায় দফায় কথা বলে তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমিসহ আমার পুলিশ সদস্যরা বাধা দেয়ার পরেও কিছু লোকজন কলেজে অনধিকার প্রবেশ করে ভাংচুর চালায়।বর্তমান সময়ে পুলিশ সদস্যরা কতটা অসহায় ও নিরুপায় তা আর বলার অবকাশ রাখে না। তবে এ ব্যপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আলিফ হোসেন