রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি শাহিনুর রহমান সুজন'কে হামলা চালিয়ে আহত করায় চারঘাট মডেল থানায় ২ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। তবে থানা পুলিশ এখনও কোন পদক্ষেপ না নিলেও চারঘাট পৌর বিএনপির এক সংবাদ সম্মেলনে ডেকে ওই ২ নেতাকে দলের পদ সাময়িক বহিস্কার করেছে।
আগামী ৭২ঘন্টার মধ্যে ঐ ২ নেতা সঠিক ব্যাখ্যা না দিতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সিন্ধান্ত নিবেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বাঘা-চারঘাট আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পৌর বিএনপি সভাপতি মোমিনুল হক সারদা বাজাের একটি অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে মোমিনুল বলেন, সাংবাদিকের সঠিক সংবাদ প্রকাশের কারনে বিএনপি দেশের দায়িত্ব নিয়েছে। এই উপজেলার সাংবাদিকের উপর হামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষৎতে সাংবাদিকের উপর অতর্কিত হামলা না হওয়ার সকল ব্যবস্থা নিবে বিএনপি। সর্বোপরি তিনি অভিযুক্ত দুই নেতাকে সাময়িক বহিস্কার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল আলম-সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একটি সরকারি মাদ্রাসায় অবৈধ পুকুর খনন এবং মাটি লুটের সংবাদ প্রকাশের জের ধরে এসব ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক সুজন বুধবার রাতে চারঘাট মডেল থানায় পাঁচ বিএনপি নেতাকর্মী এবং এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
চারঘাটের স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, গত এক সপ্তাহ থেকে চারঘাট পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ও মনির নেতৃত্বে উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর সরকারি মাদ্রাসায় অবৈধভাবে রাতের আঁধারে পুকুর খনন শুরু হয়। পুকুরের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। মাটি বহনে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেড়েছে জনদুর্ভোগ। এলাকাবাসি এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখান।
এ ঘটনায় গত বুধবার দুপুরে ‘রাতের আঁধারে সরকারি মাদ্রাসার মাটি লুট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক সুজন। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি অবগত হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান সেখানে অভিযান চালান। এসময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। সহকারী কমিশনার ঘটনাস্থলে থাকা দুটি এক্সকেভেটর (মাটি খননকারী যন্ত্র) মেশিন অকেজো করেন।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান বলেন, সংশ্লিষ্টরা পুকুর সংস্কারের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদৌ সেটি পুকুর নয়। এটি নিচু জমি। ফসল ফলে। একারণে পুকুর কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তারপরেও তারা আইনলঙ্ঘন করে পুকর কাটছিলেন। পুকুরের মাটি বাইরে বিক্রি করছিলেন। মাটি বাইরে বিক্রির বিধান নেই। এর সকল প্রমাণ আছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা সেখানে অভিযান চালিয়েছি। এসময় ঘটনাস্থলে খননকারীরা ছিলেন না। একারণে খনন কাজে ব্যবহার করা দুটি এক্সকেভেটরের ব্যাটারি বিনষ্ট করে মেশিন দুটি অকেজো করা হয়েছে।
এদিকে অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে বিএনপি নেতা মনি ফোনে সাংবাদিক সুজনকে অশ্লীল গালাগাল করেন। এসময় মনি প্রাণনাশের হুমকি দেন। সুজনের হাত কেটে নেওয়ার কথা বলেন। পরে ওই বিএনপি নেতা মনির সাথে ভয়েস রেকর্ডটির কথপোকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন সাংবাদিক সুজন। তিনি ভয়েস রেকর্ড প্রকাশ করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এরপর রাত নয়টার দিকে চারঘাট পৌরসভা সদরের শহীদ মিনার এলাকার একটি চায়ের স্টলে বসেছিলেন সাংবাদিক সুজন। এসময় তার ওপর হামলা চালান বিএনপি নেতা মনি এবং আলমগীরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা। তারা বাঁশের এবং কাঠের লাঠি দিয়ে সুজনকে বেধড়ক পেটান। স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে যান। এরপর সুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন তুহিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আগামী ৭২ঘন্টার মধ্যে ঐ ২ নেতা সঠিক ব্যাখ্যা না দিতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সিন্ধান্ত নিবেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বাঘা-চারঘাট আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পৌর বিএনপি সভাপতি মোমিনুল হক সারদা বাজাের একটি অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে মোমিনুল বলেন, সাংবাদিকের সঠিক সংবাদ প্রকাশের কারনে বিএনপি দেশের দায়িত্ব নিয়েছে। এই উপজেলার সাংবাদিকের উপর হামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষৎতে সাংবাদিকের উপর অতর্কিত হামলা না হওয়ার সকল ব্যবস্থা নিবে বিএনপি। সর্বোপরি তিনি অভিযুক্ত দুই নেতাকে সাময়িক বহিস্কার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল আলম-সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একটি সরকারি মাদ্রাসায় অবৈধ পুকুর খনন এবং মাটি লুটের সংবাদ প্রকাশের জের ধরে এসব ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক সুজন বুধবার রাতে চারঘাট মডেল থানায় পাঁচ বিএনপি নেতাকর্মী এবং এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
চারঘাটের স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, গত এক সপ্তাহ থেকে চারঘাট পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ও মনির নেতৃত্বে উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর সরকারি মাদ্রাসায় অবৈধভাবে রাতের আঁধারে পুকুর খনন শুরু হয়। পুকুরের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। মাটি বহনে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেড়েছে জনদুর্ভোগ। এলাকাবাসি এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখান।
এ ঘটনায় গত বুধবার দুপুরে ‘রাতের আঁধারে সরকারি মাদ্রাসার মাটি লুট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক সুজন। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি অবগত হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান সেখানে অভিযান চালান। এসময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। সহকারী কমিশনার ঘটনাস্থলে থাকা দুটি এক্সকেভেটর (মাটি খননকারী যন্ত্র) মেশিন অকেজো করেন।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান বলেন, সংশ্লিষ্টরা পুকুর সংস্কারের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদৌ সেটি পুকুর নয়। এটি নিচু জমি। ফসল ফলে। একারণে পুকুর কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তারপরেও তারা আইনলঙ্ঘন করে পুকর কাটছিলেন। পুকুরের মাটি বাইরে বিক্রি করছিলেন। মাটি বাইরে বিক্রির বিধান নেই। এর সকল প্রমাণ আছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা সেখানে অভিযান চালিয়েছি। এসময় ঘটনাস্থলে খননকারীরা ছিলেন না। একারণে খনন কাজে ব্যবহার করা দুটি এক্সকেভেটরের ব্যাটারি বিনষ্ট করে মেশিন দুটি অকেজো করা হয়েছে।
এদিকে অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে বিএনপি নেতা মনি ফোনে সাংবাদিক সুজনকে অশ্লীল গালাগাল করেন। এসময় মনি প্রাণনাশের হুমকি দেন। সুজনের হাত কেটে নেওয়ার কথা বলেন। পরে ওই বিএনপি নেতা মনির সাথে ভয়েস রেকর্ডটির কথপোকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন সাংবাদিক সুজন। তিনি ভয়েস রেকর্ড প্রকাশ করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এরপর রাত নয়টার দিকে চারঘাট পৌরসভা সদরের শহীদ মিনার এলাকার একটি চায়ের স্টলে বসেছিলেন সাংবাদিক সুজন। এসময় তার ওপর হামলা চালান বিএনপি নেতা মনি এবং আলমগীরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা। তারা বাঁশের এবং কাঠের লাঠি দিয়ে সুজনকে বেধড়ক পেটান। স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে যান। এরপর সুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন তুহিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরিফুল হক (রুবেল),