ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লংগদুতে বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ চারঘাট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৭২ বোতল ভারতীয় জেডি মদ জব্দ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে বিভিন্ন প্রজাতির আম উপহার মান্দায় এলসিএস কর্মী নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচার গোদাগাড়ীতে দুই মাদক সেবীর কারাদণ্ড ভারতে আবারও করোনা ভাইরাসের হানা, সতর্কতা জারি কলা, ডিম খেয়ে হত পেটব্যথা, ব্লেড, সাইকেল, টিভির পর দু’বছর ধরে আস্ত বিমান চিবিয়ে খেয়েছিলেন ফরাসি শিল্পী! রাণীনগরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন গয়নার দোকানে গিয়ে জল ভেবে অ্যাসিড খেয়ে ফেললেন তরুণী আত্রাইয়ে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপন, আলোচনা সভা ও শ্রেষ্ঠ কর্মীদের সম্মাননা গাড়ির ভিতরে সমুদ্রসৈকতে যশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিয়ারা আত্রাই অগ্রণী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বাবার রক্তের প্রতিশোধ নেবই’! আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হতেই হুঁশিয়ারি পুত্র মোজতবার তানোর পৌর নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা ইরানের ১৪০ জায়গায় হামলা আমেরিকার, প্রত্যাঘাতও শুরু তেহরানের! মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আগামীকাল রাজশাহী আসবেন গাইবান্ধায় ঘুমিয়ে থাকা চাচাকে গলা কেটে হত্যা করলেন ভাতিজা দামকুড়া থানায় গাঁজাসহ মাদক কারবারী মিলন গ্রেফতার মোহনপুরে আম চুরিকে কেন্দ্র করে হত্যা: মূলহোতাসহ দুই আসামি গ্রেফতার রাজশাহী সেনানিবাসে বিআইআরসি ডেপুটি কমান্ড্যান্টের সঙ্গে রাসিক প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নাগালের বাইরে অ্যান্টিবায়োটিক-ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধের দাম

  • আপলোড সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০৪:১৫:৪৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০৪:১৫:৪৭ অপরাহ্ন
নাগালের বাইরে অ্যান্টিবায়োটিক-ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধের দাম ফাইল ফটো
জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে অনেক জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট থাকলেও, ওষুধ প্রশাসন ও মালিক সমিতি দাবি করছে, গত এক বছরে দাম বাড়েনি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লুট নাকি কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত; এই অস্থিরতার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

জরুরি ওষুধের জন্য হন্যে হয়ে এক ফার্মেসি থেকে অন্য ফার্মেসিতে ঘুরে ওষুধ মিললেও চড়া দামে হতাশ ২৩ বছরের তরুণ নাফি। তিনি জানান, ‘মিথাইফেনটেন’ নামের ওষুধটি প্রথমে দাম বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করা হয়। এরপর ওষুধের স্টক লিমিটেড করে ফেলে, ১৫-২০ পিসের দাম দাঁড়ায় ২ হাজার ২০০ টাকা।’
 
ক্যানসার, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ-রোগ যাই হোক না কেন, বাজারে গেলে এভাবেই রোগীদের পকেট খালি হচ্ছে। গত কয়েক মাসে অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন ও হৃদরোগের ওষুধের দাম ৩০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমান বাজারে কিছু ওষুধের সংকট এবং চড়া দামের কারণে রোগীরা দিশেহারা।
 
রোগীরা বলছেন, অনেক ওষুধ বাজারে পাওয়া যায় না। অনেকের এক বক্স লাগছে না, এক-দুই পিস দরকার। তবুও বেশি খরচ দিয়ে পুরো বক্স কিনতে হচ্ছে। ৭৮৫ টাকার কোনো কোনো হোলসেল রেটের ওষুধ খুচরা রেটে কিনতে ৮২০ টাকা দিতে হচ্ছে।
 
কারণ যাই হোক, এই ভোগান্তি ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় ওষুধ তৈরির খরচ কম বাংলাদেশে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় কাঁচামাল ও মেধাসত্তায় বিশেষ ছাড় পেয়ে থাকলেও, সেই সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ওষুধের উচ্চমূল্য নিয়ে জনসাধারণ প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, সরকারের উচিত এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা।
 
এদিকে, এরই মধ্যে সরকার ২৯৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকায় রেখে দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি নির্দেশনা মানার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বাজারে বাস্তবতা ভিন্ন; ওষুধ প্রশাসন ও মালিক সমিতি জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনার পরই তারা ওষুধের দাম সমন্বয় করেছেন।
 
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক ডা. আকতার হোসেন বলেন, এক বছরের মধ্যে কোনো ওষুধের দাম বাড়েনি। দাম নির্ধারণের জন্য একটি প্রক্রিয়া আছে। কোম্পানি প্রথমে ইনফরমেশন দেবে, এরপর প্রত্যায়নপত্র পাওয়ার পর নির্ধারিত দামে ওষুধ বাজারে ছাড়তে পারবে। তবে কোনো কোম্পানি নিজে দাম মুদ্রণ করে ওষুধ বাজারে ছাড়ছে-এরকম হওয়ার কথা নয়।
 
বাংলাদেশ ওষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, ২৬ থেকে ২৮ হাজার ব্র্যান্ডের মধ্যে আসলে কতগুলো ব্র্যান্ডের দাম বাড়ে? সারা বছরে হয়ত ৫০ বা ১০০টার মতো। বাকি ব্র্যান্ডগুলোর দাম বাড়ে না। আবার কখনও সমন্বয় করতে গেলে দাম বাড়তে পারে।

তবে ওষুধ ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন খরচ ও ডলারের সংকটের কারণে গত দুই মাসে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের দামও বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, কোম্পানি রেট বাড়াচ্ছে। তাই ভোক্তাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়ছে। কিছু ডায়াবেটিসের ওষুধ, যেমন ইনসুলিন, নবমিক্স-এসবের দাম বেড়েছে।
 
মাঠ পর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থ ও ভোক্তা অধিকার রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, জাতীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া মালিক সমিতি দাম বাড়াচ্ছে না বলে দাবি করছে। তবুও বাজারে গিয়ে মানুষ দেখছে দাম বেড়ে গেছে। একদিকে ওষুধ প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার, অন্যদিকে যারা ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা করে তাদেরকেও একসঙ্গে নিয়ে আসা গেলে বহুমুখী তদারকির মাধ্যমে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
 
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গণিতগতভাবে বাড়তে থাকা ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত ওষুধ প্রাইসিং অথোরিটির কার্যক্রম চালুর ওপরও জোর দেন তারা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে বিভিন্ন প্রজাতির আম উপহার

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে বিভিন্ন প্রজাতির আম উপহার