ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ , ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নৈতিক অবক্ষয় ও ইন্টারনেট আসক্তি সমাজকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে: আফিয়া আখতার রাজশাহীর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিরল কষ্টি পাথরের মূর্তি ও বিপুল পরিমান মাদক সিরাপ জব্দ নগরীতে পুলিশের অভিযান গ্রেফতার - ২৭ তেলের দাম বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর এভরিথিং’: ট্রাম্প রাজশাহীতে অস্ত্র-মাদক-সহ ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেবে না ইরান অনুমোদন ছাড়াই সেমাই বিক্রি, নগরীর শাহী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজকে বিএসটিআইয়ের জরিমানা শরণখোলায় ১৮ ফুট লম্বা অজগরের পেটে ছাগল ফুলবাড়ীতে মশার কয়েলের আগুনে গোয়ালঘর পুড়ে ছাই রাণীনগরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত ইরানের সরকারপতন নির্ভর করছে সেখানকার জনগণের ওপর : নেতানিয়াহু ওদের ডুবিয়েই আমাদের বেশি মজা: মার্কিন বাহিনী জামিনের জন্য এক কোটি টাকা ঘুস চাওয়ার অভিযোগ তদন্ত হবে: চিফ প্রসিকিউটর গাইবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না: প্রধানমন্ত্রী নাগালের বাইরে অ্যান্টিবায়োটিক-ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধের দাম তানোরে তুলার গুদামে ভয়াবহ আগুন ২০ হাজার কোটি ডলারের গোপন সাম্রাজ্য! মৃত খামেনেইয়ের ‘এটিএম’ কাঁপিয়ে দিচ্ছে আমেরিকা-ইজরায়েলকে জঙ্গল সলিমপুরে সাঁড়াশি অভিযান, অস্ত্র-বিস্ফোরক উদ্ধারসহ আটক ১২ চাঁদপুরে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ, বখাটেদের হাতে বাবা খুন

নাগালের বাইরে অ্যান্টিবায়োটিক-ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধের দাম

  • আপলোড সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০৪:১৫:৪৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০৪:১৫:৪৭ অপরাহ্ন
নাগালের বাইরে অ্যান্টিবায়োটিক-ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধের দাম ফাইল ফটো
জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে অনেক জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট থাকলেও, ওষুধ প্রশাসন ও মালিক সমিতি দাবি করছে, গত এক বছরে দাম বাড়েনি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লুট নাকি কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত; এই অস্থিরতার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

জরুরি ওষুধের জন্য হন্যে হয়ে এক ফার্মেসি থেকে অন্য ফার্মেসিতে ঘুরে ওষুধ মিললেও চড়া দামে হতাশ ২৩ বছরের তরুণ নাফি। তিনি জানান, ‘মিথাইফেনটেন’ নামের ওষুধটি প্রথমে দাম বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করা হয়। এরপর ওষুধের স্টক লিমিটেড করে ফেলে, ১৫-২০ পিসের দাম দাঁড়ায় ২ হাজার ২০০ টাকা।’
 
ক্যানসার, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ-রোগ যাই হোক না কেন, বাজারে গেলে এভাবেই রোগীদের পকেট খালি হচ্ছে। গত কয়েক মাসে অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন ও হৃদরোগের ওষুধের দাম ৩০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমান বাজারে কিছু ওষুধের সংকট এবং চড়া দামের কারণে রোগীরা দিশেহারা।
 
রোগীরা বলছেন, অনেক ওষুধ বাজারে পাওয়া যায় না। অনেকের এক বক্স লাগছে না, এক-দুই পিস দরকার। তবুও বেশি খরচ দিয়ে পুরো বক্স কিনতে হচ্ছে। ৭৮৫ টাকার কোনো কোনো হোলসেল রেটের ওষুধ খুচরা রেটে কিনতে ৮২০ টাকা দিতে হচ্ছে।
 
কারণ যাই হোক, এই ভোগান্তি ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই। উন্নত দেশগুলোর তুলনায় ওষুধ তৈরির খরচ কম বাংলাদেশে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় কাঁচামাল ও মেধাসত্তায় বিশেষ ছাড় পেয়ে থাকলেও, সেই সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ওষুধের উচ্চমূল্য নিয়ে জনসাধারণ প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, সরকারের উচিত এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা।
 
এদিকে, এরই মধ্যে সরকার ২৯৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকায় রেখে দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি নির্দেশনা মানার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বাজারে বাস্তবতা ভিন্ন; ওষুধ প্রশাসন ও মালিক সমিতি জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনার পরই তারা ওষুধের দাম সমন্বয় করেছেন।
 
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক ডা. আকতার হোসেন বলেন, এক বছরের মধ্যে কোনো ওষুধের দাম বাড়েনি। দাম নির্ধারণের জন্য একটি প্রক্রিয়া আছে। কোম্পানি প্রথমে ইনফরমেশন দেবে, এরপর প্রত্যায়নপত্র পাওয়ার পর নির্ধারিত দামে ওষুধ বাজারে ছাড়তে পারবে। তবে কোনো কোম্পানি নিজে দাম মুদ্রণ করে ওষুধ বাজারে ছাড়ছে-এরকম হওয়ার কথা নয়।
 
বাংলাদেশ ওষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, ২৬ থেকে ২৮ হাজার ব্র্যান্ডের মধ্যে আসলে কতগুলো ব্র্যান্ডের দাম বাড়ে? সারা বছরে হয়ত ৫০ বা ১০০টার মতো। বাকি ব্র্যান্ডগুলোর দাম বাড়ে না। আবার কখনও সমন্বয় করতে গেলে দাম বাড়তে পারে।

তবে ওষুধ ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন খরচ ও ডলারের সংকটের কারণে গত দুই মাসে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের দামও বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, কোম্পানি রেট বাড়াচ্ছে। তাই ভোক্তাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়ছে। কিছু ডায়াবেটিসের ওষুধ, যেমন ইনসুলিন, নবমিক্স-এসবের দাম বেড়েছে।
 
মাঠ পর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থ ও ভোক্তা অধিকার রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, জাতীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া মালিক সমিতি দাম বাড়াচ্ছে না বলে দাবি করছে। তবুও বাজারে গিয়ে মানুষ দেখছে দাম বেড়ে গেছে। একদিকে ওষুধ প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার, অন্যদিকে যারা ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা করে তাদেরকেও একসঙ্গে নিয়ে আসা গেলে বহুমুখী তদারকির মাধ্যমে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
 
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গণিতগতভাবে বাড়তে থাকা ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত ওষুধ প্রাইসিং অথোরিটির কার্যক্রম চালুর ওপরও জোর দেন তারা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নৈতিক অবক্ষয় ও ইন্টারনেট আসক্তি সমাজকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে: আফিয়া আখতার

নৈতিক অবক্ষয় ও ইন্টারনেট আসক্তি সমাজকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে: আফিয়া আখতার