০৫ মার্চ ২০২৪, মঙ্গলবার, ০৩:২২:১১ পূর্বাহ্ন


গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইউক্রেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০২-২০২৪
গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইউক্রেন


পশ্চিমাদের থেকে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র ও আর্থিক সাহায্য পাওয়ার পড়েও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যর্থতার কারনে সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি সম্প্রতি বহিষ্কার করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন স্থলবাহিনীর প্রধান আলেকসান্দর সিরস্কি।

কিন্তু দায়িত্ব নিয়েই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নতুন সেনাপ্রধান। কেননা, খুব শিগগির ইউক্রেন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর আভদিবকার নিয়ন্ত্রণ হারাতে চলেছে। আর নতুনভাবে পুনর্গঠিত রুশ বাহিনী নিপার নদীর দিকে এগোতে শুরু করতে যাচ্ছে। এর মানে চূড়ান্তভাবে রুশ বাহিনী কিয়েভের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে।

লোকবল–সংকট ও অস্ত্র–গোলাবারুদের ঘাটতিতে থাকা ইউক্রেনের জন্য রুশ বাহিনীর এ আক্রমণ সামাল দেয়া কঠিন হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, প্রতিদিন ইউক্রেনে যে হতাহতের ঘটনা ঘটছে, তাতে দেশটির জনমতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের জন্য কিয়েভ সরকার অজনপ্রিয় অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে হুমকি দেয়া ও ভয় দেখানোর মতো ঘটনাও রয়েছে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে কাউকে পাঠানো মানে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি।

জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে কোনো সমঝোতায় জেতে রাজি নন। কারণ, মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটন কোনো সমঝোতা করতে চায় না। রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতাকে তারা ন্যাটোর বড় পরাজয় বলে মনে করে। রাজনৈতিকভাবে জেলেনস্কির মিত্রতা অনেক বেশি রুশবিরোধীদের সঙ্গে। এই অংশকে রাশিয়া ফ্যাসিবাদী ও নাৎসিবাদী বলে বিবেচনা করে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, রাশিয়ার আক্রমণ অভিযান শুরু করে রাজধানী কিয়েভকে কীভাবে রক্ষা করবে ইউক্রেন?

এ বাস্তবতা কিয়েভকে একটা ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইউক্রেনের এখনকার নিয়ন্ত্রণরেখা যদি রুশ বাহিনী ভেঙে ফেলতে পারে, তাহলে কিয়েভকে রক্ষা করা জেলেনস্কির জন্য প্রায় অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। পরিস্থিতি বিবেচনায়, ইউক্রেন সরকারকে সরিয়ে আরও পশ্চিম দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে। সম্ভবত পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী লিভিভ শহরে ইউক্রেন সরকারকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। পোল্যান্ড সরকার এরই মধ্যে বলেছে, লিভিভকে সুরক্ষিত রাখতে তারা তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করতে দেবে।

ডিপস্টেট ম্যাপিং সাইট সাম্প্রতিক দিনগুলিতে রাশিয়ান অগ্রগতির একটি সিরিজ দেখিয়েছে এবং এখন মস্কোর যোদ্ধারা শহরের স্টেশনের ঠিক উত্তরে রেললাইনের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ইউক্রেনের দক্ষিণ বাহিনীর কমান্ডার ওলেক্সান্ডার টারনাভস্কি শনিবার বলেছেন যে, তার রসদ দলগুলি এখনও শহরে সরবরাহ পেতে সক্ষম হয়েছে এবং তিনি নতুন যোদ্ধাদের যুদ্ধে পাঠানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত গুলি চালানোর অবস্থান স্থাপন করছেন।

তা সত্ত্বেও, ডিপস্টেট ম্যাপিং সাইটটি পরামর্শ দেয় যে রাশিয়ান বাহিনী সম্ভবত শহরের প্রধান সরবরাহ রুট থেকে কয়েকশ মিটারের বেশি দূরে নয়। ৫৯ তম পৃথক মোটরাইজড ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের একজন অফিসার সের্হি সেখোটস্কি ইউক্রেনীয় টেলিভিশনকে বলেছেন যে, রাশিয়া আভদিবকার যুদ্ধে প্রচুর সংখ্যক সেনা মোতায়েন করছে। ‘তারা তাদের লোকদের রেহাই দেয় না, তাই আমাদের অনেক কাজ করার আছে,’ তিনি বলেছিলেন।

তিনি আবারও রুশ ড্রোনের ব্যাপকতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, শুধুমাত্র একদিনে শহরে ইউক্রেনীয় ব্রিগেড অবস্থানে রাশিয়ান ইউএভি থেকে প্রায় ৭০টি বোমা ফেলার কথা জানান। ‘তাদের (ড্রোনের) স্টক পুনরায় পূরণ করা হচ্ছে, তারা ক্রমাগত তাদের ইউএভি উন্নত করছে, এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধও ব্যবহার করছে,’ তিনি বলেছিলেন। সূত্র: সিএনএন।