১৪ জুন ২০২৪, শুক্রবার, ০২:১৩:৪৬ অপরাহ্ন


চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে রাবির ৩৫ শিক্ষার্থীর অবস্থান কর্মসসূচি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক,রাবি:
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৫-২০২৪
চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে রাবির ৩৫ শিক্ষার্থীর অবস্থান কর্মসসূচি চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে রাবির ৩৫ শিক্ষার্থীর অবস্থান কর্মসসূচি


মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ৩৫জন শিক্ষার্থী।

বুধবার (২৯মে) দুপুর ২টা থেকে মমতাজ উদ্দীন কলা ভবনে বিভাগের সামনে এ অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি চলমান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের মাস্টার্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৬শে মে তাদের উপস্থিতির ফলাফল দেওয়া হয়। সেখানে মাস্টার্সের ১১৮জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫জনকে ডিসকলিজিয়েট করা হয়েছে। এদিকে, আগামী ৩ জুন পরীক্ষার ফর্মফিলাপ শেষ তারিখ। বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে কোনো উপায় না পেয়ে আজকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

মায়ের ক্যান্সারের কারণে দীর্ঘদিন ক্লাস করতে মানিক মিয়া। তিনি জানান, নির্বাচনের পর আমার মায়ের ক্যান্সার ধরা পরে, তখন আমি আমার মায়ের কাছে ছিলাম। তখন ক্লাস করতে পারিনি। দুর্ভাগ্যক্রমে আমার মা ২৫শে ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। এরপর থেকেই আমি মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি। বাড়ি থেকে বলেছিলো যে, স্যারদের বললে তোকে পরীক্ষা দিতে দিবে। কিন্তু এখন স্যাররা আমার কথায় শুনচ্ছেন না।

ফারহানা রিনি নামে আরেক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ৩৫ জনকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়ায় আজকে আমরা এখানে বসেছি। আমরা বারবার ডিপার্টমেন্ট গিয়েছি স্যারদের অনুরোধ করেছি। কিন্তু স্যার আমাদের পরীক্ষা কিছুতেই দিচ্ছেন না। এর আগে বড় ভাইরা উপস্থিতি কম থাকার পরও তাদের পরীক্ষা দিতে পেরেছে কিন্তু আমাদের কেন দিচ্ছে না। আমাদের উপস্থিতি তো একদাম কম নয়  যে আমাদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া যাবে না। এখন ইয়ার সিস্টেম হওয়ার কারণে আমাদের আরো একবছর থাকতে হবে। এমনিতে করোনার কারণে আমাদের ২বছর বেশি লাগছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নিলোফা আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে অ্যাকাডেমিক মিটিংয়ে আলোচনা করবো। সেখানে সিদ্ধান্ত নিবো আসলে কি করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা থাকতেই পারে, মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষকরা সেটা দেখতে পারে। কিন্তু ক্লাসে যদি ছাত্ররা উপস্থিতিই না থাকে, তাহলে শিক্ষকরা কিভাবে উপস্থিতি দেখাবে। যেসব শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে যদি শিক্ষকরা মার্ক দেয়, তাহলে যারা নিয়মিত ক্লাস করে তাদের সাথে অন্যায় করা হবে। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।