মুক্তির প্রথম দিনে ১০ কোটির টাকার ব্যবসা করেছে আলিয়ার 'গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি'।
২৫- শে ফেব্রুয়ারি ভারতে ছবিটি মুক্তির আগে ৭২ তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রিমিয়ারে প্রদর্শিত হয়েছে। আলিয়ার নিখুঁত অভিনয় সকলের মন জয় করে নিয়েছে। নায়িকার পর্দা উপস্থিতি সকলের মন জয় করে নিয়েছে।
আলিয়া জ্বরে কাবু গোটা দেশ। দাপুটে অভিনেত্রী হিসেবে ইতিমধ্যেই বি-টাউনে নিজের ছাপ রেখেছেন মহেশ কন্যা। গোটা ছবিতে আলিয়াকে যতবার দেখছে ততবারই যেন নতুন করে প্রেমে পড়েছে দর্শক।
হাজারো বিতর্ক, সমালোচনাকে তুড়ি মেড়ে উড়িয়ে অবশেষে সারা দেশজুড়ে মুক্তি পেল পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালির পিরিয়ড ড্রামা 'গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি'। বারবার মুক্তির দিন পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ছবি। ছবির মুক্তি উপলক্ষ্যে মুম্বইয়ের খারের গ্যালাক্সি সিনেমা হলে দর্শকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন আলিয়া ভাট।
'গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি 'র ট্রেলারেই আলিয়াকে বলতে শোনা গিয়েছিল, 'কেহতে হ্যায় কামাঠিপুরা মে কভি আমাবাস কি রাত নেহি আতি। কিঁউকি ওয়াহা গাঙ্গু রেহতি হ্যায়। অউর গাঙ্গি চাঁদ থি অউর চাঁদ রহেগি '। গাঙ্গুবাঈয়ের চরিত্রের জন্য এটাই যেন যথেষ্ঠ। কামাথিপুরার পতিলালয় সত্যিই যেন চাঁদ আলিয়া ভাট। এস হুসেন জাইদির লেখা বই 'মাফিয়া কুইনস অফ মুম্বই' অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ছবির চিত্রনাট্য। ষাটের দশকে মুম্বিয়ে যৌন সাম্রাজ্য থেকে সমাজকর্মী ও মাফিয়া গল্প বলেছে 'গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি’। মুম্বইয়ের কুখ্যাত রেড লাইট এলাকা। এলাকার ম্যাডামজি নামেই পরিচিত গাঙ্গুবাই। ১৯৬০-এর দশকে মুম্বইয়ের রেড লাইট এলাকা কামাথিপুরার সবচেয়ে ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন গাঙ্গুবাঈ। কীভাবে গুজরতের এক গ্রামের মেয়ে হয়ে উঠল কামাথিপুরার ম্যাডামজি। এলাকার ম্যাডামজি নামেই পরিচিত গাঙ্গুবাই। মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সমস্ত খবর থাকে তার নখদর্পনে।
গুজরাতের এক গ্রামের মেয়ে কীভাবে হয়ে উঠল মুম্বইয়ের কুখ্যাত যৌনপল্লী কামাথিপুরার ম্যাডামজি , তা এবার রূপোলি পর্দায় তুলে ধরলেন পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি। মুম্বইয়ের রেডলাইট এলাকার উন্নয়নেক জন্য রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নেয় গাঙ্গুবাই। যৌনপল্লীর পতিতা নারীদের লড়াই, যন্ত্রণা, তাদের সন্তানদের যোগ্য সম্মান দাবিতে সরব হতে দেখা যায় গাঙ্গুবাঈ-কে। রাজিয়া বাঈকে নিজের জমি ছাড়তে নারাজ গাঙ্গুবাঈ। কামাথিপুরের মাফিয়া কুইনের নাভিশ্বাস ওঠা প্রতিটা মুহূর্তকে যেন পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছেন আলিয়া ভাট। ছবিতে মাফিয়া কুইন হিসেবেই দেখা মিলবে আলিয়াকে । সাধারণ কিশোরীর নির্মম গণিকালয়ের মালকিন হয়ে ওঠার জার্নি ফুটে উঠেছে এই ছবিতে। গাঙ্গুবাঈয়ের চরিত্রে নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে পুরোনো ছক ভেঙে নতুন করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন আলিয়া ভাট। কপালে বড় লাল টিপ, চোখে মোটা কাজল পরে পুরো অন্য বেশে ধরা দিয়েছেন আলিয়া ভাট। তার অভিনয়কে সেলাম। পর্দায় গাঙ্গুবাঈয়ের চরিত্রে নয় বরং নিজেই হয়ে উঠেছিলেন গাঙ্গুবাঈ। এক মুহূর্তের জন্যও ফিকে হতে দেননি গাঙ্গু-কে। এত কম বয়সে এভাবে দাপুটে অভিনয়ে চোখ সরানো দায়।
রাজশাহীর সময় /এএইচ