২২ মে ২০২২, রবিবার, ০১:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন


সাদা হাজরে আসওয়াদ কালো হলো কেন?
রাজশাহীর সময় ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০১-২০২২
সাদা হাজরে আসওয়াদ কালো হলো কেন? ফাইল ফটো


ইসলামীক ডেস্ক: কাবা শরিফের এক কোনে জড়ানো একটি পাথর- 'হাজরে আসওয়াদ'। এ কোনটিকে রোকনে হাজরে আসওয়াদও বলা হয়। এ কোন থেকেই হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা তাওয়াফ শুরু করেন। আবার এ কোনে এসেই তাওয়াফ শেষ হয়।  বর্তমানে হাজরে আসওয়াদ দেখতে কুচকুচে কালো। আর নাম হচ্ছে- হাজরে আসওয়াব বা কালো পাথর। কিন্তু একটি কথা বহুল প্রচলিত যে, ‌'হাজরে আসওয়াদ প্রথমে ধবধবে সাদা ছিল; কথাটি সত্যি? এ সম্পর্কে হাদিসের দিকনির্দেশনাই বা কী?

হ্যাঁ, এ কথাটি সত্য যে, হাজরে আসওয়াদ ধবধবে সাদা ছিল। এটি একটি জান্নাতি পাথর। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনটি ঘোষণা করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে এমন অবস্থায় অবতীর্ণ হয়েছিল; যখন এটি দুধ হতেও বেশি সাদা ছিল। কিন্তু এটিকে আদম সন্তানের গুনাহ এমন কালো করে দিয়েছে।' (তিরমিজি, ইবজে খুজায়মা, মিশকাত, তালিকুর রাগিব)

হাজরে আসওয়াদ একটি আলোকপ্রভা, উজ্জ্বল পাথর ছিল। যার আলোকে নিষ্প্রভ করে দেওয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি, 'হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহিম জান্নাতের ইয়াকুত (দীপ্তিশীল মূল্যবান মণি) থেকে দুটি ইয়াকুত। আল্লাহ্ তাআলা এই দুটির আলোকপ্রভা নিম্প্রভ করে দিয়েছেন। এ দুটির আলোকপ্রভা যদি তিনি নিস্তেজ করে না দিতেন তাহলে তা পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে যা কিছু আছে সব আলোকিত করে দিত।' (তিরমিজি, মিশকাত)

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস দ্বারা প্রমাণ হয়ে গেলো, সত্যিই হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে উজ্জ্বল আলো ও দুধের চেয়ে ধবধবে সাদা অবস্থায় দুনিয়াতে আসে। আর তা মানুষের গুনাহের কারণে আস্তে আস্তে কালোতে পরিণত হয়।

এ থেকে কিছু বিষয় শিক্ষণীয়ও রয়েছে; তাহলো-

১. পাপের প্রভাব কঠিন শক্ত বস্তুও কালো হয়ে যায়। এ পাপের প্রভাব যদি কোনো কোমল মনের ওপর পড়ে তবে তা পাথরের চেয়েও তাড়াতাড়ি মানুষের হৃদয়কে কুলষিত করে তুলতে পারে। সুতরাং পাপ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

২. হাজরে আসওয়াদ কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব কোনে সিনা বরাবর দেড় মিটার উঁচুতে কাবা শরিফের দেওয়ালে রূপার বৃত্তে গাঁথা। এ পাথরকে হাজরে আসওয়াদ বলা হয়। এ পাথর থেকে কাবা শরিফ তাওয়াফ শুরু হয়। সাত চক্করের মাধ্যমে এক তাওয়াফ সম্পন্ন হয়।

৩. নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ পাথরটিকে চুম্বন করায় এটিকে চুম্বন করার উম্মতের জন্য সুন্নাত।

রাজশাহীর সময় / এফ কে