ধর্ষণের পরে প্রতিবন্ধীর সন্তান জন্ম, ১৮ বছর পর ধর্ষকের যাবজ্জীবন


অনলাইন ডেস্ক: , আপডেট করা হয়েছে : 07-02-2024

ধর্ষণের পরে প্রতিবন্ধীর সন্তান জন্ম, ১৮ বছর পর ধর্ষকের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের মামলায় মো. সোনাউল্যাহ (৫৫) নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের শিকার সেই ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া ছেলের বয়স এখন ১৭ বছর।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক বেগম সালমা খাতুন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় দেন।   

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মো. মুক্তার হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আসামি এ মামলায় জামিনে ছিলেন। আজ রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত হন। আসামির উপস্থিতিতে আদালত এই রায় দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার ও বিচার কার্যক্রমের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ২০০৫ সালে বাড়িতে একা পেয়ে প্রতিবেশী ২০ বছরের মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ করেন সোনাউল্যাহ। কিন্তু ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিষয়টি সামনে আসেনি। এরপর মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে। এরপর ভুক্তভোগীর বাবা আদালতে মামলার আবেদন দিলে আদালত কাজিপুর থানা পুলিশকে মামলাটি (এফআইআর) এজাহার হিসেবে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ মামলাটি নিয়ে তদন্ত করে আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। 

তিনি বলেন, এর মধ্যেই সেই প্রতিবন্ধী নারী একটি ছেলের জন্ম দেন। এভাবেই মামলাটি চলতে থাকে। মাঝখানে বাদী-বিবাদী হয়ত মীমাংসা করে নেন। আদালতের বর্তমান বিচারক দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি অভিযুক্ত ও ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া ছেলের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

মুক্তার হোসেন বলেন, এর মধ্যে তাদের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট আসলে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদের ডিএনএ ম্যাচ করে। এরপর ডাক্তারের সাক্ষ্য নেওয়া হলে তিনিও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তখন সকল সাক্ষ্য ও সাক্ষীর বক্তব্য পর্যালোচনা করে অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় আদালত আজ এ রায় দেন।

তিনি যোগ করেন, তারা মীমাংসা হলেও যেহেতু অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং সেটা প্রমাণ হয়েছে তাই এ রায় দেওয়া হয়। মামলা হওয়ার প্রায় দেড় যুগ পরে এমন রায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও ভুক্তভোগী ন্যায় বিচার পেলেন। এছাড়াও ভুক্তভোগী নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানটি তার মায়ের হেফাজতেই আছেন বলেও জানান তিনি।  


Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204  Thana : Motihar,Rajshahi
Email : [email protected], [email protected]