ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা শেষের দিকে। শেষ সময়ে প্রার্থীরা কাকডাকা ভোর থেকে রাত অবধি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি।
এবারের নির্বাচনে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলমের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালেক চৌধুরীকে আলোচনায় রাখছেন অনেকে। তিন প্রার্থীই নিজেদের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
প্রচার-প্রচারণায় বিএনপির 'ফ্যামিলি কার্ড', জামায়াতের 'পরিবর্তনের অঙ্গীকার' আর স্বতন্ত্রের 'ব্যক্তি ইমেজ' ইস্যু নির্বাচনী প্রচারে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা প্রচারে প্রাধান্য দিচ্ছেন এ তিনটি বিষয়। এছাড়াও রয়েছে এলাকার উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য দুই প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির আকবর আলী ও ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল হক শাহ্। তাঁদের নির্বাচনী প্রচার তেমন চোখে পড়ছে না বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী ওই তিন প্রার্থী তাঁদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দিন-রাত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি এলাকা ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী জনসভা, পথসভা ছাড়াও গণসংযোগ করছেন সমানতালে। প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়ন ও নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন ভোটারদের।
বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা ডামি ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিভিন্ন পাড়া ও পথসভায়। ডামি কার্ড দেখিয়ে তাঁরা বলছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ ধরনের কার্ড প্রতিটি পরিবারে দেওয়া হবে। প্রতি মাসে কার্ড দেখিয়ে প্রতিটি পরিবার নগদ আড়াই হাজার টাকা বা সমমূল্যের প্রয়োজনীয় পণ্য পাবে। আর কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা পাবেন ব্যাংক লোন।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ সোনার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। ধর্ম, বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকগণ এই ফ্যামিলি কার্ডের সুফল ভোগ করতে পারবেন। প্রথমে গরিব, অসহায়, দুঃস্থ ব্যক্তিরা এই কার্ড পাবেন। পর্যায়ক্রমে অন্যরাও এই কার্ডের সুবিধা পাবেন।
নিজের বিজয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, 'নওগাঁ-১ আসনটি মূলত কৃষি প্রধান অঞ্চল। এখানে ধানের পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম উৎপাদন হচ্ছে। আমশিল্পকে যুগোপযোগী করার জন্য এই এলাকায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, গবেষণাগার, জুস ফ্যাক্টরী করা হবে। উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানির ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে চাই।' এছাড়া কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানির জন্য নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহারের সঙ্গে সান্তাহারের রেলযোগাযোগ স্থাপন করা হবে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলার পানির স্তর দিন দিন নেমে যাচ্ছে। পানি সংকট মোকাবেলার জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সরকারি পুকুর-খাল খনন ও সংস্কার করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' কৃষি সম্পর্কিত শিক্ষার উন্নয়নে এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে প্রাধান্য পাচ্ছে 'নতুন মুখ' ও 'পরিবর্তনের অঙ্গীকার' ইস্যু। দলের পক্ষে এমন প্রচার চালিয়ে নিজেদের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম পেশায় একজন শিক্ষক। সাপাহারে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন।
'নতুন মুখ' হিসেবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম বলেন, 'এর আগের নির্বাচনগুলোতে বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামীলীগ ও বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে। এবারে জনগণ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোটাররা 'নতুন মুখকে' নির্বাচিত করে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকবে।'
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার সব গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ করবেন। নারী ও শিশুদের জন্য নির্মাণ করবেন বিশেষায়িত হাসপাতাল। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আধুনিকায়ন করবেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ানো হবে স্বাস্থ্য সেবার মান। রেললাইন স্থাপন করা হবে আর আম প্রক্রিয়াকরণ জোন স্থাপন করা হবে বলেন জানান।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালেক চৌধুরী বলেন, 'চারজন নিয়ে আমি দল তৈরি করেছি। নির্বাচন করেছি। এই আসনে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এমপি থাকাকালীন এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। জনগণ শিক্ষিত ও সৎ লোককে ভোট দিতে চায়। তাই তাঁরা আমাকেই বেছে নেবে।' নির্বাচিত হলে জনগণের খেদমত ও এলাকার উন্নয়ন করার আশাবাদ করেন তিনি ।
এবারের নির্বাচনে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলমের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালেক চৌধুরীকে আলোচনায় রাখছেন অনেকে। তিন প্রার্থীই নিজেদের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
প্রচার-প্রচারণায় বিএনপির 'ফ্যামিলি কার্ড', জামায়াতের 'পরিবর্তনের অঙ্গীকার' আর স্বতন্ত্রের 'ব্যক্তি ইমেজ' ইস্যু নির্বাচনী প্রচারে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা প্রচারে প্রাধান্য দিচ্ছেন এ তিনটি বিষয়। এছাড়াও রয়েছে এলাকার উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য দুই প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির আকবর আলী ও ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল হক শাহ্। তাঁদের নির্বাচনী প্রচার তেমন চোখে পড়ছে না বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী ওই তিন প্রার্থী তাঁদের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দিন-রাত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি এলাকা ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী জনসভা, পথসভা ছাড়াও গণসংযোগ করছেন সমানতালে। প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়ন ও নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন ভোটারদের।
বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা ডামি ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিভিন্ন পাড়া ও পথসভায়। ডামি কার্ড দেখিয়ে তাঁরা বলছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এ ধরনের কার্ড প্রতিটি পরিবারে দেওয়া হবে। প্রতি মাসে কার্ড দেখিয়ে প্রতিটি পরিবার নগদ আড়াই হাজার টাকা বা সমমূল্যের প্রয়োজনীয় পণ্য পাবে। আর কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা পাবেন ব্যাংক লোন।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ সোনার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। ধর্ম, বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকগণ এই ফ্যামিলি কার্ডের সুফল ভোগ করতে পারবেন। প্রথমে গরিব, অসহায়, দুঃস্থ ব্যক্তিরা এই কার্ড পাবেন। পর্যায়ক্রমে অন্যরাও এই কার্ডের সুবিধা পাবেন।
নিজের বিজয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, 'নওগাঁ-১ আসনটি মূলত কৃষি প্রধান অঞ্চল। এখানে ধানের পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম উৎপাদন হচ্ছে। আমশিল্পকে যুগোপযোগী করার জন্য এই এলাকায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, গবেষণাগার, জুস ফ্যাক্টরী করা হবে। উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানির ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে চাই।' এছাড়া কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানির জন্য নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহারের সঙ্গে সান্তাহারের রেলযোগাযোগ স্থাপন করা হবে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলার পানির স্তর দিন দিন নেমে যাচ্ছে। পানি সংকট মোকাবেলার জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সরকারি পুকুর-খাল খনন ও সংস্কার করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' কৃষি সম্পর্কিত শিক্ষার উন্নয়নে এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে প্রাধান্য পাচ্ছে 'নতুন মুখ' ও 'পরিবর্তনের অঙ্গীকার' ইস্যু। দলের পক্ষে এমন প্রচার চালিয়ে নিজেদের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম পেশায় একজন শিক্ষক। সাপাহারে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন।
'নতুন মুখ' হিসেবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম বলেন, 'এর আগের নির্বাচনগুলোতে বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামীলীগ ও বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে। এবারে জনগণ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোটাররা 'নতুন মুখকে' নির্বাচিত করে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকবে।'
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার সব গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ করবেন। নারী ও শিশুদের জন্য নির্মাণ করবেন বিশেষায়িত হাসপাতাল। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আধুনিকায়ন করবেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ানো হবে স্বাস্থ্য সেবার মান। রেললাইন স্থাপন করা হবে আর আম প্রক্রিয়াকরণ জোন স্থাপন করা হবে বলেন জানান।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালেক চৌধুরী বলেন, 'চারজন নিয়ে আমি দল তৈরি করেছি। নির্বাচন করেছি। এই আসনে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এমপি থাকাকালীন এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। জনগণ শিক্ষিত ও সৎ লোককে ভোট দিতে চায়। তাই তাঁরা আমাকেই বেছে নেবে।' নির্বাচিত হলে জনগণের খেদমত ও এলাকার উন্নয়ন করার আশাবাদ করেন তিনি ।