রাজশাহী-১ আসনে ব্যারিস্টার পরিবারের অবদান

আপলোড সময় : ০১-০২-২০২৬ ১১:৩৮:১৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০২-২০২৬ ১১:৩৮:১৫ অপরাহ্ন
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনের এই নির্বাচনী এলাকা ভৌগোলিক বৈচিত্র্যেঘেরা। গোদাগাড়ীতে পদ্মার ধু-ধু মরুভূমি আর তানোরে ঠা-ঠা বরেন্দ্রভূমি।
প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক পরিবারের প্রচেষ্টায় বদলে গেছে পদ্মার ধু ধু মরুভূমি ও তানোরের ঠা ঠা বরেন্দ্র ভুমি।

জানা গেছে, এই জনপদের মানুষের সেই কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুলের ভাই প্রকৌশলী ড,এম আসাদুজ্জামান বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) প্রতিষ্ঠা করেন। বিএমডিএ'র গভীর নলকুপ সেচ প্রকল্পের কল্যানে এক ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে পরিনত হয়।এক সময়ের ধু ধু মরুভূমি ও ঠা ঠা বরেন্দ্রভুমি এখন সবুজে সবুজে ভরে উঠেছে।

এছাড়াও প্রচন্ড খরাপ্রবণ এই অঞ্চলের মানুষের বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তবে এসব মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করতে গভীর নলকুপে পানির ট্যাংকি ও পানি সরবরাহের লাইন স্থাপন করে ট্যাপের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ করা হয়।

অন্যদিকে এলাকার সরকারি মজা খাল-খাড়ি ও পুকুর খনন করে এসবের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়।এবং খনন ও পুনঃখনন করা খাল-খাড়ি ও পুকুর গৃহস্থালি কাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।এতে সাধারণ মানুষ এসব খাল-খাড়ি ও পুকুরের পানি গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার এবং সম্পুরুক সেচ দিয়ে অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ করেন।

অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস ও পানির স্তর ধরে রাখতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে মজা খাল-খাড়ি পুনঃখনন করে ক্রসড্যাম, রাবারড্যাম নির্মাণ ও পাতকুয়া স্থাপন করা হয়।

এছাড়াও আইল বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে জমির আইল ও পতিত জমিতে ফলজ গাছ রোপণ।সড়ক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে সড়কের দুধারে ফলজ,বনজ ও ওষুধী গাছ রোপণ। 

অন্যদিকে বজ্রপাত প্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে বজ্রপাত প্রতিরোধে তাল ও খেজুর বীজ রোপণ।

অন্যদিকে দুর্গম ও প্রত্যন্ত পল্লী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে ব্রীজ-কালভ্রাট নির্মাণ এবং রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণ করা হয়। ধু ধু মরুভূমি ও ঠা ঠা বরেন্দ্রভুমি চিরচেনা চেহারা পাল্টে যায়। সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। ঠা ঠা বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভবনার দ্বার খুলে দেয় বিএমডিএ সেচ প্রকল্প। অথচ এসব জমিতে চাষাবাদ করতে একটা সময় মান্ধাতা আমলের মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো কৃষকদের। বছরে প্রকৃতির বৃষ্টি নির্ভর একটি ফসল উৎপাদন করা যেতো। তার পরেও বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি,খরা ও ঝড়-ঝাপটা ছিলো নিত্যসঙ্গী। অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে মাঠের ফসল মাঠে পড়ে থাকতো। তবে বিএমডিএ'র গভীর নলকুপ সেচ প্রকল্প কৃষিতে নতুন দিগন্তের সুচনা করেছে ও কৃষিক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। এক সময়ের পতিত জমি গুলোতেও এখন সারা বছরই তিন থেকে চারটি ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে। 

এদিকে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও ডাকমন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক ছিলেন এই জনপদের অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব।তার হাতেই এই জনপদের মুল উন্নয়ন হয়।তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তানোর ও গোদাগাড়ীকে আধুনিক যোগাযোগ বান্ধব করতে অসংখ্য ব্রীজ-কালভার্ট ও শত শত কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করেছেন।তিনি তানোর ও গোদাগাড়ীতে দুটি করে চারটি পৌরসভা ও তানোরে একটি ইউনিয়ন (ইউপি) প্রতিষ্ঠা করেছেন। এছাড়াও তানোর ও গোদাগাড়ীতে একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, তানোরে একটি ও গোদাগাড়ীতে দুটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপন করেছেন।

তানোর ও গোদাগাড়ীতে দুটি ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপন ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছেন।

অন্যদিকে শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া তানোর ও গোদাগাড়ীকে শিক্ষায় এগিয়ে নিতে শত শত স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন।এতে একদিকে যেমন কৃষক পরিবারের সন্তানেরা বাড়ির কাছেই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি অন্যদিক শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হয়েছে।

এদিকে খরাপ্রবণ জনপদের মানুষের বিশুদ্ধ খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করণে, পদ্মা নদীর পানি রিফাইন করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করতে সরমংলা ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা।এছাড়াও পদ্মা নদী থেকে ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ব্যারিস্টার আমিনুল হক পরিবারের আরো অসংখ্য উন্নয়ন কাজ রয়েছে। তাদের এসব উন্নয়নের সুফল কি শুধু বিএনপির দলীয় মানুষ ভোগ করছেন ? তাহলে যে পরিবার এই জনপদের মানুষের জন্য এতো কিছু করেছেন,তাদের প্রতি কি এই জনপদের মানুষের কোনো দায়বদ্ধতা নাই। সে হিসেবে সেই পরিবারের সদস্য মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন কি এসব মানুষের কাছে থেকে একটি ভোট প্রত্যাশা করতে পারেন না,এটা তো প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ তার অধিকার।কারণ প্রতিটি দানই, প্রতিদান চাই। তাহলে যে পরিবার এই জনপদের মানুষের জন্য এতোকিছু দান করলেন, প্রতিদান হিসেবে সেই পরিবারের সদস্য শরিফ উদ্দিন এসব মানুষের একটা করে ভোট প্রত্যাশা করতেই পারেন এটা তার অধিকার।

সচেতন মহল বলছেন ,যারা উপকারীর উপকার শিকার করে না, দানের প্রতিদান দেন না বা দেবার চেষ্টা করে না তারা অকৃতজ্ঞ। আর অকৃতজ্ঞদের ধ্বংস অনিবার্য।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]