পরিবার বলছে অন্যায়, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান জাবেজকে গুলি করার ব্যাখ্যা দিল পুলিশ

আপলোড সময় : ০১-০২-২০২৬ ০২:৫১:২৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০২-২০২৬ ০২:৫১:২৮ অপরাহ্ন
নিউ ইয়র্কের কুইন্সে পুলিশ গুলিতে গুরুতর আহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাবেজ চক্রবর্তী পুলিশ কর্মকর্তাদের পিছু পিছু ধাওয়া করছিলেন এবং হাতে ছুরি নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বলে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন নিউইর্ক পুলিশ। শনিবার দ্য পোস্ট–কে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিউ ইয়র্ক পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।

সোমবারের ওই ঘটনার বর্ণনা আসে একদিন পর, যখন জাবেজ চক্রবর্তীর পরিবার পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকার সমালোচনা করে।

২২ বছর বয়সী জাবেজ চক্রবর্তীর পরিবার জানায়, তারা ৯১১–এ ফোন করেছিল কারণ তিনি পারিবারিক বাসভবন ব্রায়ারউডের দেয়ালে কাচ ছুঁড়ছিলেন। তবে তারা বলেন, পুলিশও সেখানে আসবে এটা তারা আশা করেননি।

দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠন ডেসিস রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং (ড্রাম)–এর মাধ্যমে অনলাইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে পরিবার জানায়, আমরা আমাদের ছেলের জন্য অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছিলাম, কারণ সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। আমরা পুলিশ ডাকিনি।

নিউ ইয়র্ক পুলিশ জানায়, ৯১১ কলের সময় পরিবারকে জানানো হয়েছিল যে অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি পুলিশও পাঠানো হবে।

পুলিশ পৌঁছালে তারা বাসায় ঢোকার অনুমতি চাইলে পরিবার তা দিয়েছিল বলেও জানায় বিভাগটি।

পুলিশের দাবি, চক্রবর্তী বড় একটি রান্নাঘরের ছুরি তুলে নিয়ে তাদের হুমকি দিতে শুরু করলে তবেই কর্মকর্তারা অস্ত্র বের করেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে করতে এবং পিছু হটতে হটতে কর্মকর্তারা দেখতে পান, চক্রবর্তী ছুরি হাতে নিয়ে তাদের ধাওয়া করছেন এবং অস্ত্র ফেলতে বললেও তিনি তা মানেননি।

নিউ ইয়র্ক পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, কর্মকর্তারা নিজেদের মাঝে একটি দরজাও বন্ধ করেছিলেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি তা খুলে আবার এগিয়ে আসেন।
পরিবার আরও অভিযোগ করে, পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করেছে এবং তারা কোন দেশের মানুষ তা জানতে চেয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য, আমাদের ছেলে যখন গুলিবিদ্ধ হয়ে মেঝেতে পড়ে ছিল, তখন নিউ ইয়র্ক পুলিশ আইসের মতো আচরণ করে আমাদের জেরা করছিল আমরা কোন দেশের মানুষ।

নিউ ইয়র্ক পুলিশ জানায়, ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কুইন্স জেলা অ্যাটর্নির প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে এসে ফোন সংগ্রহ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।

মুখপাত্র বলেন,একাধিক পরিবারের সদস্য স্বেচ্ছায় সম্মতি দিয়ে তাদের ফোন দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বডি-ক্যামেরার বহু ঘণ্টার ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ কোনো অভিবাসনসংক্রান্ত প্রশ্ন করার প্রমাণ পায়নি।

পরিবারের অভিযোগ ছিল পুলিশ চিকিৎসা সহায়তা দেয়নি। তবে নিউ ইয়র্ক পুলিশ বলছে, কর্মকর্তারা জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং টুর্নিকেট ব্যবহারসহ সব ধরনের চেষ্টা করেছেন।

ঘটনার পর মেয়র মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি 'প্রথম সাড়া দানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞ।' এ নিয়ে পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমাদের চোখের সামনে যারা প্রায় আমাদের ছেলেকে মেরে ফেলেছে, মেয়র কেন তাদের প্রশংসা করছেন?'

কুইন্স জেলা অ্যাটর্নির দপ্তর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে আছেন এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তার নজরদারিতে রয়েছেন। তার পরিবার জেলা অ্যাটর্নির কাছে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]