অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যুবরাজ

আপলোড সময় : ২৯-০১-২০২৬ ০৪:২২:৫১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০১-২০২৬ ০৪:২২:৫১ অপরাহ্ন
ভারতকে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক যুবরাজ সিং। কিন্তু জাতীয় দলে তার শেষটা খুব একটা সুখকর হয়নি। ২০১৯ সালের জুনে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও তার দুই বছর আগেই থেমে গিয়েছিল জাতীয় দলের ক্যারিয়ার। সম্প্রতি অবসর নেওয়ার পেছনের মানসিক ও আবেগগত ক্লান্তির কথা প্রকাশ করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন এই অলরাউন্ডার। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অপমানিত ও অসমর্থিত বোধ করার অনুভূতিই শেষ পর্যন্ত তার প্রিয় খেলাটির প্রতি ভালোবাসাকে ছাপিয়ে যায়।

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ভারতের স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ার কিছুদিন পরই ক্রিকেটকে বিদায় জানান যুবরাজ সিং। সেই সিদ্ধান্ত কার্যত তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এবং আইপিএলের সঙ্গে সম্পর্কেরও ইতি টানে। ৪৪ বছর বয়সী যুবরাজ স্বীকার করেছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি কেবল দল থেকে বাদ পড়া বা সুযোগ কমে যাওয়ার কারণেই নয়, বরং তার চেয়েও অনেক গভীর ছিল।

ভারতের সাবেক টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার সঙ্গে একটি সাম্প্রতিক পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে যুবরাজ স্বীকার করেন, ক্রিকেট থেকে তিনি যে আনন্দ একসময় পেতেন, তা ধীরে ধীরে হারিয়ে গিয়েছিল।

যুবরাজ বলেন, 'আমি আমার খেলাটা উপভোগ করছিলাম না। আমার মনে হচ্ছিল—যখন আমি আনন্দই পাচ্ছি না, তখন ক্রিকেট খেলছি কেন? আমি নিজেকে সমর্থিত মনে করছিলাম না, সম্মানিতও মনে হচ্ছিল না। তখন ভাবলাম, যখন এগুলোই নেই, তখন কেন আমি এটা করছি? এমন কিছুর সঙ্গে কেন লেগে আছি, যেটা আমি উপভোগ করছি না? কাকে প্রমাণ করার জন্য খেলছি? মানসিক বা শারীরিকভাবে এর চেয়ে বেশি আর দিতে পারছি না, আর এটা আমাকে কষ্ট দিচ্ছিল। যেদিন আমি থামলাম, সেদিনই আমি আবার নিজেকে ফিরে পেলাম।'

তার মতে, এই স্থায়ী অসন্তুষ্টির অনুভূতিই তাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে, যদিও খেলাটির প্রতি তার আবেগ অনেক গভীর।

ভারতের সাদা বলের ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত যুবরাজ ২০০৭ সালের আইসিসি বিশ্ব টি–টোয়েন্টি ও ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখেন। ২০১১ বিশ্বকাপে তিনি টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও পান। দৃঢ়তা, নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলা এবং অদম্য প্রতিযোগিতামনস্কতায় ভরা ক্যারিয়ারের একজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে এই স্বীকারোক্তি তার শেষ দিকের বছরগুলোর ভেতরের দ্বন্দ্বের এক বিরল ঝলক দেখায়।

২০১১ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর যুবরাজ আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার লড়াইয়ে নামেন এবং ২০১২ সালে প্রত্যাবর্তন করেন নিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে। তবে চিকিৎসার শারীরিক প্রভাব ও দীর্ঘ বিরতির কারণে তিনি আগের সেই বিধ্বংসী ম্যাচ-উইনার চেহারা হারিয়ে ফেলেছিলেন।

পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা কমতে থাকায় সুযোগও আসতে থাকে কম। ২০১৯ বিশ্বকাপের সময় তিনি পুরোপুরি ছিটকে যান এবং স্কোয়াডে তার না থাকা ছিল স্পষ্ট বার্তা–নির্বাচকরা তাকে আর বিবেচনা করছেন না। তার ভাষায়, এরপর আর খেলা চালিয়ে যাওয়া তার কাছে অর্থবহ মনে হয়নি।

জীবনের শুরুর দিকের এক ঘটনার কথাও স্মরণ করেন যুবরাজ, যখন তার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল, যা তার পরিবারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি জানান, কথাগুলো তিনি ব্যক্তিগতভাবে না নিলেও, তার বাবা, সাবেক ক্রিকেটার যোগরাজ সিং সেগুলোতে ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলেন।
 
যুবরাজ বলেন, 'এখন পেছনে তাকিয়ে দেখি, মনে হয় তিনি আমাকে ঠিকভাবে দেখার সময়ই পাননি। হয়তো বাবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছিলেন। তখন আমার বয়স ১৩ বা ১৪, আমি কেবল একটা খেলাকে বুঝতে শুরু করেছি। আমি এটা ব্যক্তিগতভাবে নিইনি, কিন্তু আমার বাবা নিয়েছিলেন।'

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় ও সম্মানিত চরিত্রদের একজন হয়েও যুবরাজের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ইঙ্গিত দেয়—তার ক্যারিয়ারের শেষটা স্কোরকার্ডের সংখ্যার চেয়েও বেশি নির্ধারিত হয়েছিল মানসিক সুস্থতার প্রশ্নে।

তিনি সংক্ষেপে বলেন, 'এটা আমাকে কষ্ট দিচ্ছিল। আর যেদিন আমি থামলাম, সেদিনই আমি আবার নিজের মতো হয়ে গেলাম।'

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]