রোজার নিয়ত, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

আপলোড সময় : ২৩-০১-২০২৬ ০১:৪৬:০৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০১-২০২৬ ০১:৪৬:০৫ অপরাহ্ন
নিয়ত বলা হয় মূলত অন্তরের ইচ্ছাকে। নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়। আরবিতে নিয়ত করাও জরুরি নয়। অন্তরে কেউ যদি ইচ্ছা করে যে ‘আগামীকাল আমি রোজা রাখবো’ এটাই নিয়ত গণ্য হবে। তবে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। বাংলায়ই মুখে উচ্চারণ করে রোজার নিয়ত করতে পারেন। অন্তরের ইচ্ছার সাথে সাথে মুখে এভাবে বলবেন: 

আমি আগামীকাল রমজানের রোজা/ অমুক রোজার কাজা/ নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।

এভাবে নিয়ত করলে রোজা হয়ে যাবে। তবে কেউ চাইলে আরবিতেও নিয়ত করতে পারেন।

রমজানের রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ
নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রমাযানাল মুবারাক ফারযাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।

রমজানের রোজার নিয়ত বাংলা অর্থ
হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল বরকতময় রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করছি আপনার ফরজ বিধান হিসেবে, আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

রমজানের কাজা রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ
নাওয়াইতু আন আসুমা গাদান সাওমা কাজাই ফারযি রমাযানা লিল্লাহি তাআলা।

রমজানের কাজা রোজার নিয়ত বাংলা অর্থ
আগামীকাল আল্লাহর জন্য রমজানের রোজার কাজা আদায় করার নিয়ত করছি।

নফল রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ
নাওয়াইতু আন আসুমা গাদান লিল্লাহি তা'আলা মিন নাফলি সাওমিন।

নফল রোজার নিয়ত বাংলা অর্থ
আগামীকাল আল্লাহ তাআলার জন্য নফল রোজা রাখার নিয়ত করছি।

রোজার নিয়ত কখন করবেন?
রমজানের ফরজ রোজা ও বছরের অন্যান্য সময়ের যে কোনো নফল রোজার নিয়ত রাতে করা উত্তম। উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না তার রোজা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না। (সুনানে আবু দাউদ: ১/৩৩৩)

যদি কেউ রাতে রোজার নিয়ত না করতে পারে, তাহলে দিনে সূর্য ঢলার প্রায় এক ঘণ্টা আগে নিয়ত করলেও রোজা হয়ে যাবে। শর্ত হলো, সুবহে সাদিকের পর থেকে নিয়তের পূর্ব পর্যন্ত রোজার পরিপন্থী কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সুবহে সাদিকের পর রোজার পরিপন্থী কোনো কাজ করলে অর্থাৎ কিছু খেলে, পান করলে বা রোজা ভেঙে যায় এমন কিছু করলে আর রোজার নিয়ত করার সুযোগ থাকবে না।

সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) বলেন, (আশুরার রোজা যখন ফরজ ছিল তখন) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলাম গোত্রের একজন ব্যক্তিকে ঘোষণা করতে বললেন, যে সকাল থেকে কিছু খায়নি সে বাকি দিন রোজা রাখবে। (সহিহ বুখারি: ২০০৭)

আবদুল করিম জাযারি (রহ). বলেন, এক রমজানে কিছু লোক সকালে চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিল। তখন ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) বললেন, যে ব্যক্তি (ইতিমধ্যে কিছু) খেয়েছে সে বাকি দিন খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। আর যে খায়নি সে বাকি দিন রোজা রাখবে। (বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৯)

নিয়তের সময় শুরু হয় রোজার আগের দিনের সূর্যাস্তের পর থেকে। যেমন-মঙ্গলবারের রোজার নিয়ত সোমবার দিবাগত রাত তথা সূর্যাস্তের পর থেকে করা যায়। সোমবার সূর্যাস্তের আগে মঙ্গলবারের রোজার নিয়ত করা যথেষ্ট নয়।

কাজা ও কাফফারার রোজার নিয়ত রাতেই করতে হয়। সুবহে সাদিকের পর কাজা কাফফারার রোজার নিয়ত করা যায় না। এ ছাড়া কেউ যদি অনির্দিষ্টভাবে যে কোনো দিন রোজা রাখার মানত করে, তাহলে ওই মানতের রোজার নিয়তও রাতে অর্থাৎ আগের দিন সূর্যাস্তের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত যে কোনো সময় করা জরুরি।

কারো যদি একাধিক রমজানের রোজা কাজা হয়ে যায়, তাহলে কাজা আদায় করার সময় কোন রমজানের রোজার কাজা আদায় করছে এটা নির্দিষ্ট করে নিয়ত করা জরুরি। তবে যদি কাজা রোজার সংখ্যা অনেক বেশি হয় এবং তা নির্দিষ্ট করা কঠিন হয় তাহলে ‘আমার ওপর ফরজ কাজা রোজাগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম কাজা হওয়া রোজাটি রাখলাম’ এভাবেও নিয়ত করা যাবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]