ট্রাম্পকে ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি, ‘আঙুল ট্রিগারে আছে’

আপলোড সময় : ২৩-০১-২০২৬ ০১:৩৯:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০১-২০২৬ ০১:৩৯:২১ অপরাহ্ন
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। 

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের সরাসরি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, তার বাহিনীর ‘আঙুল এখন ট্রিগারে রয়েছে’। যেকোনো ধরনের উসকানি বা সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত বলে তিনি দাবি করেন। 

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বিশাল নৌবহর পারস্য উপসাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এএফপি-র এক প্রতিবেদনে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার বিষয়টি উঠে এসেছে।

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না খারাপ কিছু ঘটুক, তবে আমরা ইরানের ওপর অত্যন্ত কড়া নজর রাখছি এবং প্রয়োজনে বড় নৌবহর মোতায়েন করা হচ্ছে।’ ট্রাম্পের মতে, তেহরান এখনো আলোচনার টেবিলে ফেরার আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটিও তিনি পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। 

উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলকে সমর্থন জানিয়ে ইরানীয় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে মার্কিন হামলার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সম্প্রতি ট্রাম্প এমন হুমকিও দিয়েছেন, যদি মার্কিন স্বার্থ বা নেতৃত্বের ওপর কোনো আঘাত আসে, তবে ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়া হবে’।

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, গত ডিসেম্বরের শেষে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের গণবিক্ষোভ দেশটির ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। যদিও বর্তমানে সেই বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হয়ে এসেছে, তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছেন। 

তার মতে, বাইরের শত্রু পক্ষটি ‘১২ দিনের যুদ্ধে’ হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নিতে ইরানে উসকানি দিচ্ছে। জেনারেল পাকপুর এই ‘১২ দিনের যুদ্ধের’ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষকে সতর্ক করেছেন যে, কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করলে তাদের ‘বেদনাদায়ক পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিক্ষোভ নিস্তেজ হয়ে আসায় এবং উভয় পক্ষ থেকে কূটনৈতিক আলোচনার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যাওয়ায় এখনই হয়তো বড় কোনো যুদ্ধের সম্ভাবনা নেই। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া ভাষা এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতি এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ ও অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বে বিপ্লবী গার্ডের এই ‘ট্রিগারে আঙুল’ রাখার ঘোষণা বিশ্ববাসীকে নতুন কোনো সংঘাতের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। আপাতত উভয় পক্ষই একে অপরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপের জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: এএফপি

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]