SIR শুনানিতে গিয়ে বিএলও-র চেয়ারে বসলেন সৌমিতৃষা! তুমুল বিতর্ক

আপলোড সময় : ২১-০১-২০২৬ ০৯:৩১:৩৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০১-২০২৬ ০৯:৩১:৩৬ অপরাহ্ন
সাধারণ প্রশাসনিক শুনানি। কাগজে কলমে নিছকই এক নাগরিকের তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়া। অথচ সেদিনই ছোট জাগুলিয়া আইটিআই কলেজ চত্বর যেন আচমকাই বদলে যায় উত্তেজনায়। সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চায় ভরে ওঠে সেই মঞ্চ। হাজির ছিলেন সৌমিতৃষা কুণ্ডু। আর তাঁর উপস্থিতির মুহূর্তেই শুরু হয়ে যায় একের পর এক প্রশ্ন—এটা কি নিয়মভঙ্গ, না কি ভুল বোঝাবুঝি? ক্ষমতার আসনে বসা কি ছিল ইচ্ছাকৃত, না কি অনভিপ্রেত?

নির্বাচন কমিশনের নথিতে বাবার নামের একটি ভুল—সেই কারণেই এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছিল অভিনেত্রীকে। নির্দিষ্ট দিনে তিনি পৌঁছন কেন্দ্রটিতে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিয়ো, যেখানে দেখা যায়—তারকাকে সামনে পেয়েই যেন গলে গিয়েছে প্রশাসনের কঠোরতা। অভিযোগ উঠতে থাকে, লাইনে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, সৌমিতৃষা নাকি সোজাসুজি বসে পড়েছেন বিএলও-র চেয়ারে। সেই দৃশ্য দেখেই নাকি ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিডিও।

ভাইরাল ফুটেজে স্পষ্ট—এআরও নিতাইচন্দ্র বিশ্বাস নিজেই নিজের চেয়ার ছেড়ে দেন। তারকার প্রতি ভক্তি, না কি মুহূর্তের অস্বস্তি—সে প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। কিন্তু সেই চেয়ারে বসেই সৌমিতৃষার নথিপত্রে স্বাক্ষরের কাজ শুরু হয়। আর ঠিক তখনই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বারাসতের বিডিও রাজীব দত্ত চৌধুরী। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। উচ্চস্বরে কথা, ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ—চারপাশের মানুষ তাকিয়ে থাকে স্তব্ধ হয়ে।

এই ঘটনার পর সৌমিতৃষার নাম জড়িয়ে যায় ‘তারকা-সুলভ আচরণ’-এর বিতর্কে। কিন্তু অভিনেত্রী নিজে সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একেবারে অন্য ছবি। তিনি বলেন, বিএলও নিজেই তাঁকে বসতে অনুরোধ করেছিলেন। চেয়ারটি যে সরকারি কর্মীর জন্য নির্দিষ্ট—সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না। বিডিওর রাগ তাঁর দিকে নয়, বরং বিএলও-র প্রতিই ছিল, কারণ এই ধরনের দৃশ্য সামনে এলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরি বিপদের মুখে পড়তে পারে।

সৌমিতৃষা স্পষ্ট করে দেন—বিডিওর সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ হয়নি। বরং পরে এসে সেই চিৎকারের জন্য ক্ষমাও চান প্রশাসনিক কর্তা। তবু ঘটনার অভিঘাত থেকে যায়। মানসিক অস্বস্তি নিয়ে তিনি যান বারাসত ১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হালিমা বিবি এবং সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মণ্ডলের কাছে। সেখানেও শোনেন—বিএলও যেহেতু নিজের চেয়ার ছেড়ে দিয়েছিলেন, আর সাধারণ নাগরিকের সেখানে বসার অধিকার নেই, তাই প্রশাসনিক রোষ নেমে আসে।

তবে শুনানি কেন্দ্র ছেড়ে বেরোনোর সময় সৌমিতৃষা এই বিতর্কে আর একটিও শব্দ যোগ করতে চাননি। প্রশ্নের মুখে পড়ে পুরো বিষয়টি এড়িয়েই যান। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—লাইন ভাঙার অভিযোগ কি সত্যি? উত্তরে তাঁর কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট বিস্ময়, “আমি তো এমন কিছু শুনিইনি।”

টেলিভিশনের ‘মিঠাই’ হয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া এই অভিনেত্রীকে সাম্প্রতিক কালে দেখা গিয়েছে ‘কালরাত্রি ২’ ওয়েব সিরিজে। অভিনয়ের বাইরেও রাজনীতির মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি এখন আর অচেনা নয়। তৃণমূলের সভায় তাঁকে দেখা যায় নিয়মিতই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর অনুরাগ প্রকাশ্যে। এমনকি সুযোগ এলে ভোটের ময়দানে নামতেও তিনি যে প্রস্তুত, সে কথাও অকপটে বলেছেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]