সাহস মানে কোনো বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়, সাহস মানে অন্যায় আদেশ না মানা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপলোড সময় : ১৮-০১-২০২৬ ০৪:২৮:১১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০১-২০২৬ ০৪:২৮:১১ অপরাহ্ন
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, সাহস মানে কোনো বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়, সাহস মানে অন্যায় আদেশ না মানা, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, মজলুমের পক্ষে কাজ করা, দায়িত্ব পালনে ন্যায়ানুগ পন্থা অবলম্বন করা এবং নিজেকে সঠিক পথে অটল রাখা।
 
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে সারদার বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পুলিশের ৪১তম বিসিএস ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
 
প্রশিক্ষণ শেষ করা সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অংশ নয়। এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। জনগণের কল্যাণই আপনাদের একমাত্র ব্রত। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, কোনো ব্যক্তি সম্পর্ক কোনো প্রভাব বা কোনো চাপ যেন আপনাদের বিবেক কে দুর্বল করতে না পারে সেদিকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তি স্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে তা শুধু আইন ভঙ্গ নয়, সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে। 
 
বাংলাদেশের মানুষ ভয় সৃষ্টি না করা পুলিশ বাহিনী প্রত্যাশা করে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষ এমন পুলিশ বাহিনী প্রত্যাশা করে, যারা নিরাপত্তা ও আস্থার নিশ্চয়তা দেয়। যারা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে, মানুষের কষ্ট বোঝে, সম্মান ও ভদ্রতার সঙ্গে আচরণ করে। আইন প্রয়োগ মানেই কঠোরতা নয়, প্রকৃত শক্তি আছে ন্যায়ের মধ্যে। বিচার করার দায়িত্ব আদালতের কিন্তু তদন্ত, গ্রেপ্তার, আচরণ ও সিদ্ধান্তে পুলিশের বিচক্ষণতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ আপনাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। মানবিক আচরণ কোনো দুর্বলতা নয়, এটি পেশাদার, যুগোপযোগী, আধুনিক, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী পুলিশের পরিচয় বহন করে। 
 
উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষ সেবা গ্রহণে পুলিশের সাথে মুক্তভাবে কথা বলতে চায়। পুলিশের কাছে তাদের প্রাপ্য সেবাটুকু নির্বিঘেœ পেতে চায়, হাসিমুখে সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চায়, পুলিশের সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে চায়, নিরাপদে বাঁচতে চায় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশের কাছে জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং আইনের শাসন এসব রক্ষা করার দায়িত্ব মাঠ পর্যায়ের পুলিশের আচরণের সাথে সরাসরি জড়িত। আপনারা যদি জনগণের আস্থার জায়গায় দাঁড়াতে পারেন তবে আইন প্রয়োগ সহজ হয়। আর যদি আস্থা হারান তবে শক্তি প্রয়োগেও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
 
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা ও শতভাগ নিরপেক্ষতার সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে পুলিশের ভ‚মিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আপনার নৈতিক ও পবিত্র দায়িত্ব নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করা। আপনাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক বেশি। কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের নিকট থেকে কোনো প্রকার অনৈতিক বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। দায়িত্ব পালনে তাদের কোনো প্রতিনিধির নিকট থেকে কোনো খাবারও গ্রহণ করবেন না। কেন্দ্রে কোনো প্রকার অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসারের পরামর্শ মোতাবেক শক্ত হাতে দমন করতে হবে। আমি আশা করি, আপনারা পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দায়িত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করবেন। 
 
নতুন পুলিশ অফিসারদের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখে উপদেষ্টা বলেন, এদেশের ইতিহাস, সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে হৃদয়ে ধারণ করুন। জনগণের কাছে জবাবদিহি করবেন, আইনের শাসন রক্ষা করবেন, দুর্নীতি ও পক্ষপাত থেকে দূরে থাকবেন এবং নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে নিজেদেরকে সর্বতোভাবে নিয়োজিত করবেন। 
 
এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রধান অতিথি হিসেবে সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পদক ও সনদ তুলে দেন। 
 
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি, আইজিপি বাহারুল আলম, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরীসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  
 
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম ব্যাচের ১ জন, ৩৫তম ব্যাচের ৩ জন, ৩৬তম ব্যাচের ১ জন, ৩৭তম ব্যাচের ২ জন এবং ৪০তম ব্যাচের ২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। 
 
প্রশিক্ষণে সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বেস্ট প্রবেশনার, মো. মেহেদী আরিফ বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়াড, মো. সঞ্জীব হোসেন বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়াড, মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং সালমান ফারুক বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]