মা-মেয়েকে একসঙ্গে হত্যা করে ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস, লোমহর্ষক তথ্য দিলেন হত্যাকারী

আপলোড সময় : ১৭-০১-২০২৬ ০৯:৪২:৫১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০১-২০২৬ ০৯:৪২:৫১ অপরাহ্ন
সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে। মা-মেয়েকে একসঙ্গে হত্যা করে ২১ দিন ওই দুই লাশ নিজ ফ্ল্যাটে রেখেই পরিবার নিয়ে দিব্যি বসবাস করছিলেন হত্যাকারী। 

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় নুসরাত মীম নামে এক শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা ও তার মা রোকেয়া রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

এ ঘটনায় শিক্ষিকা নুসরাত মীম (২৪), তাঁর স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮), মীমের ১৫ বছর ও ১১ বছর বয়সী দুই বোনকে আটক করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসাবাদে লোমহর্ষক তথ্য পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের পর ২১ দিন ধরে মা-মেয়ের লাশ ফ্ল্যাটে রেখেই পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন ওই শিক্ষিকা।

এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিল স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। এ ঘটনার পরদিন রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহম্মেদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ৬ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় অপহরণের মামলা করেন তিনি।

নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার নুসরাত মীম একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন তাঁর শিক্ষার্থী জোবাইদার মা রোকেয়া রহমান। নির্ধারিত সময়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এনজিও কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে রোকেয়া ও নুসরাতের মধ্যে একাধিকবার কথা–কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় গেলে নুসরাতের ছোট বোনের (১৫) সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফাতেমাকে গলা চেপে হত্যা করে তার ওই বোন।
 
ওসি সাইফুল আলম বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি আড়াল করতে ফাতেমার পোশাক পরে বাসা থেকে বের হয় নুসরাতের বোন, যাতে সিসিটিভি ফুটেজে মনে হয় ফাতেমা নিজেই বাসা ছেড়ে চলে গেছে। ওই ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফাতেমার মাকে ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানান নুসরাত। তৎক্ষণাৎ মেয়েকে নিতে নুসরাতের বাসায় ঢুকলে পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে রোকেয়ার গলা চেপে ধরেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন নুসরাত। পরে দুই বোন মিলে শ্বাসরোধে রোকেয়াকে হত্যা করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার পর রোকেয়ার লাশ নুসরাতের শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে এবং ফাতেমার লাশ শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। দুটি লাশ ফ্ল্যাটে রেখেই অভিযুক্ত দুই বোন ও তাদের পরিবার প্রায় ২১ দিন সেখানে বসবাস করে আসছিল। 

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত ও তার ছোট বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ইতোমধ্যে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নুসরাতের বোন নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]