যুক্তরাষ্ট্রে কলেজছাত্রীকে ‘ভুল’বহিষ্কার, আদালতে ক্ষমা চাইল ট্রাম্প প্রশাসন

আপলোড সময় : ১৬-০১-২০২৬ ০৪:২১:২৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০১-২০২৬ ০৪:২১:২৩ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের এক কলেজছাত্রীকে বহিষ্কারের ঘটনায় ‘ভুল’ হয়েছে বলে আদালতে ক্ষমা চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে একই সঙ্গে তারা বিতর্কিতভাবে দাবি করেছে, এই ভুলটি শেষ পর্যন্ত তার মামলার ফলাফলে প্রভাব ফেলবে না।

১৯ বছর বয়সী বাবসন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এনি লুসিয়া লোপেজ বেলোজাকে গত ২০ নভেম্বর বোস্টনের বিমানবন্দরে আটক করা হয় এবং দুই দিন পর তাকে হন্ডুরাসে পাঠানো হয়। অথচ ২১ নভেম্বর জারি হওয়া একটি জরুরি আদালতের আদেশে সরকারকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তাকে অন্তত ৭২ ঘণ্টা ম্যাসাচুসেটস বা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই রাখতে হবে।

লোপেজ বেলোজার পরিবার ২০১৪ সালে হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। বর্তমানে তিনি হন্ডুরাসে তার দাদা–দাদির সঙ্গে থাকছেন এবং অনলাইনে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এখন আটক অবস্থায় নন এবং সম্প্রতি এল সালভাদরে এক খালার বাসায় গিয়েছিলেন।

তার ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের আদেশ অমান্য করে চালানো একাধিক বহিষ্কারের সর্বশেষ উদাহরণ। কিলমার আব্রেগো গার্সিয়াকেও আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছিল, পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। গত জুনে ও.সি.জি. নামে পরিচিত এক গুয়াতেমালান নাগরিককেও পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়, যখন এক বিচারক বলেন, মেক্সিকো থেকে তার বহিষ্কার 'ন্যূনতম আইনি প্রক্রিয়ার কোনো ছাপই রাখেনি।'

মঙ্গলবার বোস্টনের ফেডারেল আদালতে শুনানিতে সরকার দাবি করে, আদালতের এখতিয়ার নেই, কারণ লোপেজ বেলোজার আইনজীবীরা মামলা দায়ের করেছিলেন টেক্সাসে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পর, যখন তাকে দেশ থেকে বের করে নেওয়া হচ্ছিল। তবে একই সঙ্গে সরকার স্বীকার করে, তারা বিচারকের আদেশ লঙ্ঘন করেছে।

আদালতে দাখিল করা নথি ও প্রকাশ্য শুনানিতে সরকারি আইনজীবীরা জানান, আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর এক বহিষ্কার কর্মকর্তা ভুলভাবে ধরে নিয়েছিলেন যে, লোপেজ বেলোজা ম্যাসাচুসেটস ছেড়ে যাওয়ায় আদেশটি আর কার্যকর নয়। ওই কর্মকর্তা সেই সতর্কতামূলক সিস্টেম চালু করেননি, যা অন্য আইসিই কর্মকর্তাদের জানায় যে মামলাটি বিচারাধীন এবং বহিষ্কার স্থগিত রাখতে হবে।

সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি মার্ক সাউটার বিচারককে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বুঝতে পেরেছেন যে তিনি 'ভুল করেছেন।' সাউটার আরও বলেন, এটি ছিল 'একজন ব্যক্তির অনিচ্ছাকৃত ভুল, ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের আদেশ অমান্য নয়।'

২ জানুয়ারি আদালতে জমা দেওয়া এক ঘোষণায় ওই আইসিই কর্মকর্তা স্বীকার করেন, তিনি টেক্সাসের পোর্ট ইসাবেল আইসিই অফিসকে জানাননি যে বহিষ্কার অভিযান বাতিল করা দরকার। তিনি বলেন, তার ধারণা ছিল, লোপেজ বেলোজা রাজ্য ছেড়ে যাওয়ার পর বিচারকের আদেশ আর প্রযোজ্য নয়।

সরকার বলছে, তার বহিষ্কার আইনসম্মত ছিল, কারণ ২০১৬ সালে এক অভিবাসন বিচারক লোপেজ বেলোজা ও তার মাকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন এবং ২০১৭ সালে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস তাদের আপিল খারিজ করে। প্রসিকিউটররা বলেন, তিনি আরও আপিল করতে পারতেন বা বহিষ্কার স্থগিতের আবেদন জানাতে পারতেন।

তার আইনজীবী টড পোমারলু পাল্টা যুক্তি দেন, ২১ নভেম্বরের আদেশ সরাসরি লঙ্ঘন করেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এতে তার ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন,আমি আশা করেছিলাম সরকার কিছুটা মানবিকতা দেখিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনবে। তারা আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছে।

মার্কিন জেলা বিচারক রিচার্ড স্টার্নস সরকারের ভুল স্বীকারকে স্বাগত জানিয়ে একে 'দুঃখজনক' ডেমোক্রেটিক ভুল বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি সরকারকে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করার সম্ভাবনা নাকচ করেন, কারণ লঙ্ঘনটি ইচ্ছাকৃত বলে মনে হয়নি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদৌ তার আদালতের এখতিয়ার আছে কি না, এবং ইঙ্গিত দেন যে মামলাটি টেক্সাসে পাঠানোর পরই দায়ের হওয়ায় সরকার পক্ষের যুক্তির সঙ্গে তিনি একমত।

স্টার্নস বলেন, এটা হয়তো কারও ইচ্ছাকৃত দোষ নয়, কিন্তু সে এর শিকার হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি যোগ করেন, লোপেজ বেলোজা চাইলে শিক্ষার্থী ভিসার জন্য আবেদন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

পোমারলু বলেন, সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে তাকে পড়াশোনা শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে দেওয়া, আর সেই সঙ্গে তিনি বহিষ্কারের পুরোনো আদেশ পুনরায় খোলার চেষ্টা করবেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]