ভিন্ন দেশ–ভাষা পেরিয়ে লক্ষ্মীপুরে ফরাসি তরুণীর সুখী দাম্পত্য

আপলোড সময় : ১১-০১-২০২৬ ১০:৪০:১৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০১-২০২৬ ১০:৪০:১৫ অপরাহ্ন
ভালোবাসা যে সীমান্ত, ভাষা কিংবা সংস্কৃতির পার্থক্য মানে না, ফ্রান্সের এক তরুণী ও বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরের এক তরুণের জীবনকথা তারই বাস্তব উদাহরণ। ভিন্ন দেশ ও ভিন্ন সংস্কৃতির পথ পেরিয়ে তাদের পরিচয় আজ রূপ নিয়েছে সুখী দাম্পত্যে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকার সমসের উদ্দিন খলিফা বাড়ির মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম রাসেল উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১১ সালে ইংল্যান্ডে যান। ২০১৩ সালে পড়ালেখার উদ্দেশ্যে তিনি ফ্রান্সে গেলে সেখানেই তার পরিচয় হয় ফরাসি তরুণী সিনথিয়া ইসলামের সঙ্গে। পড়ালেখার সূত্রে শুরু হওয়া সেই পরিচয় ধীরে ধীরে গভীর সম্পর্কে রূপ নেয়।

সম্পর্কের শুরুতে ভাষাগত জটিলতাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফরাসি ভাষাভাষী পরিবেশে যোগাযোগের জন্য রাসেলকে প্রায়ই গুগল ট্রান্সলেটের সহায়তা নিতে হতো। প্রায় এক বছর পর সেই বাধা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠেন তারা। একপর্যায়ে সিনথিয়ার মধ্যেও বাংলা ভাষা শেখার আগ্রহ তৈরি হয়। ভাষার ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বিশ্বাসে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

রাসেল জানান, পরিচয়ের শুরুর দিকে এক বন্ধুর মাধ্যমে প্রেমের প্রস্তাব দিতে গিয়ে সিনথিয়ার হাসিতেই যেন থমকে যান তিনি। পরে আল্লাহর রহমতে সেই অনুভূতিই বাস্তবতায় রূপ নেয়। প্রেম থেকে পরিণয়ে পৌঁছায় তাদের সম্পর্ক।

বিয়ের বিষয়ে শুরুতে সিনথিয়ার বাবা রাজি না হলেও পরে সম্মতি দেন। ২০১৭ সালে সিনথিয়া বাংলাদেশে এসে খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে রাখেন সিনথিয়া ইসলাম। এরপর ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী লক্ষ্মীপুরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ পর্যন্ত সিনথিয়া পাঁচবার শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন।

বর্তমানে এই দম্পতির দুই সন্তান, আমেনা ইসলাম (৬) ও আলিফ ইসলাম (৪)। বড় মেয়ের নাম রাখা হয়েছে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মায়ের নামে, যা ছিল সিনথিয়ারই পছন্দ। রাসেল জানান, কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের বাংলা শেখাতে তিনি পুরোপুরি সফল হতে পারেননি, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা ভাষাটি শিখবে বলে বিশ্বাস করেন।

সম্প্রতি রাসেল স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে এসেছেন। সেখানে সিনথিয়াকে গ্রামীণ পরিবেশে স্বচ্ছন্দে মিশে যেতে দেখা গেছে, কখনো মেঠোপথে হাঁটা, কখনো হাওয়াই মিঠাই খাওয়া, আবার কখনো স্থানীয়দের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠা। মেঘনা নদীর তীরসহ লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি তারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতও ভ্রমণ করেছেন। সেই মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তারা।

২০২৪ সালে বাংলাদেশি সংস্কৃতি বিশ্বদরবারে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে ‘রাসেল এন্ড সিনথিয়া’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ চালু করেন তারা। বর্তমানে পেইজটির ফলোয়ার প্রায় ২১ লাখ। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি এবং ৬০ শতাংশ বিদেশি; সবচেয়ে বেশি অনুসারী রয়েছে আরব দেশগুলোতে। কনটেন্ট তৈরির কাজ মূলত রাসেলই করেন, মাঝে মাঝে আইডিয়া দেন সিনথিয়া।

নোয়াখালী অঞ্চলের ভাষা বেশি ব্যবহারের বিষয়ে রাসেল বলেন, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী একই অঞ্চলের অংশ। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষা দেশ-বিদেশে পরিচিত হওয়ায় সেটির মাধ্যমেই তারা মানুষের গল্প তুলে ধরতে আগ্রহী।

পারিবারিক জীবনের কথা বলতে গিয়ে রাসেল জানান, ছোটবেলায় সিনথিয়ার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। সেই শূন্যতা তিনি নিজের মায়ের স্নেহে পূরণ করছেন বলেই সিনথিয়া বারবার বাংলাদেশে ফিরতে চান।

বাংলা ভাষায় অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সিনথিয়া বলেন, “আমার দেশ বাংলাদেশ।” শাশুড়ির হাতে বানানো পিঠাই তার সবচেয়ে প্রিয় খাবার। তার মতে, পরিবারের বন্ধন ও মানুষের আন্তরিকতাই বাংলাদেশকে আলাদা করে তোলে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে রাসেল বলেন, বাংলাদেশ তার মাতৃভূমি হলেও সন্তানদের মায়ের দেশ ফ্রান্সকেও তিনি গুরুত্ব দেন। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ছয় মাস বাংলাদেশ ও ছয় মাস ফ্রান্সে বসবাসের মাধ্যমে সন্তানদের দুই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করাতে চান।

ভালোবাসা, বিশ্বাস আর পারস্পরিক মানিয়ে নেওয়ার শক্তিতেই সিনথিয়া ও রাসেলের সংসার আজ সুখী, এমনটাই জানান এই দম্পতি।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]