নোটিশ ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্ন, নেসকো নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে লিগ্যাল এইডে অভিযোগ

আপলোড সময় : ০৫-০১-২০২৬ ০১:২২:২৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০১-২০২৬ ০১:২২:২৮ অপরাহ্ন
বিদ্যুৎ সংযোগের সাত দিনের মাথায় কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্ন, গ্রাহকের সঙ্গে অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো), ঠাকুরগাঁও বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন একজন ভুক্তভোগী। এঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জানা গেছে, নিজ বসতবাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে আবেদন করেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ জামান। হোল্ডিং নম্বর, টিন সনদ, জমির দলিল, খারিজ খাজনাসহ সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর নেসকো কর্তৃপক্ষ পরপর দুই দফা সার্ভে সম্পন্ন করে। এরপর গত ৬ নভেম্বর ভুক্তভোগী ফিরোজ জামানের বাসায় প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। ওই সংযোগে মিটার নম্বর ৩২০৫১০২২০১০ ও কনজুমার নম্বর ৯৪৯০০৬৭৯ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংযোগ পাওয়ার পর তিনি রিচার্জও করেন। কিন্তু সংযোগ দেওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় এক রাতে কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। 

এতে ফিরোজ জামান ও তার পরিবার পুরো রাত অন্ধকারে থাকেন এবং ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়। পরদিন সকালে সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণ জানতে ঠাকুরগাঁও নেসকো অফিসে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা বলেন। এসময় নির্বাহী প্রকৌশলী গ্রাহকের সঙ্গে অসদাচরণ করে মামলার হুমকিও প্রদান করেন ।

দীর্ঘদিন পরিবার নিয়ে অন্ধকারে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সংযোগ পুনর্বহালের আশায় তিনি একাধিকবার নেসকো অফিসে যোগাযোগ করলেও কোনো সমাধান পাননি। গত ২৩ নভেম্বর নির্বাহী প্রকৌশলীর বরাবরে একটি উকিল নোটিশ পাঠান। উকিল নোটিশ দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে একটি নোটিশ দেওয়া হয় এবং সেখানেও মামলার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় একজন নারী কর্মকর্তাসহ নেসকোর একটি সার্ভে টিম আবারও তার বাড়িতে গিয়ে সার্ভে করে। পরবর্তীতে কোন উপায় না পেয়ে ন্যায় বিচার পেতে নেসকোর নিবার্হী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ করে ফিরোজ জামান বলেন, আমি বিদ্যৎ অফিসে সংযোগ পেতে হোল্ডিং, টিন সনদ, জমির দলিল-খারিজ খাজনা সহ বিধি মোতাবেক আবেদন করেছি। এমনকি অফিস একটি অঙ্গীকারনামা লেখে নিয়েছে। সব যাচাই-বাছাই শেষে প্রিপেড মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর হঠাৎ সাত দিনের মাথায় কেটে দেওয়া হলো। যদি সমস্যা থেকেই থাকে, তাহলে সংযোগই বা দেওয়া হলো কেন?

তিনি আরও বলেন, বারবার অনুরোধ করেও সংযোগ পুনরায় না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গত ২৯ ডিসেম্বর আমি লিগ্যাল এইড অফিসে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল ও হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে অভিযোগ দায়ের করেছি।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল, হুমায়ন, মমিন ও নাজমূল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সব কাগজপত্র যাচাই করে, দুইবার সার্ভে করে সংযোগ দেওয়ার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ কেটে দেওয়া সাধারণ ভুল নয় এটা স্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার। উকিল নোটিশ দেওয়ার পর যদি একজন নাগরিক হয়রানির শিকার হন, তাহলে ন্যায় বিচার চাওয়াটাই কি এখন অপরাধ?

তারা আরও বলেন, বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া মানে একটি পরিবারকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে একটি পরিবার যদি দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন থাকে, তার দায় কে নেবে? যদি এসব ঘটনায় জবাবদিহি না থাকে, তাহলে মানুষ রাষ্ট্রীয় সেবার ওপর আস্থা হারাবে। 

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা সুজনের সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল লতিফ বলেন, নোটিশ ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার। যাচাই-বাছাই শেষে সংযোগ দিয়ে আবার কেটে দেওয়া মানে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা। এ ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে রাষ্ট্রীয় সেবার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।

ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান জিলানী বলেন, কোনো অবস্থাতেই একজন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ পূর্ব নোটিশ ছাড়া হঠাৎ বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এটি বিদ্যুৎ আইন ও ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে গ্রাহককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে । সরকারি সংস্থা হলেও নেসকো এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।

অভিযোগ প্রসঙ্গে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফিরোজ জামানের বোনেরা বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ করেছেন। সে কারণেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

তবে সার্ভে শেষে জমিতে বসবাস নিশ্চিত হওয়ার পরও কেন নোটিশ ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এব্যাপারে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) মজনু মিয়া বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আইন অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]