রাজশাহীতে ফসলি জমিতে থামছে না পুকুর খনন, ভেকুতে আগুন দিল বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী

আপলোড সময় : ০১-০১-২০২৬ ০৫:৫৮:২৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০১-২০২৬ ০৫:৫৮:২৬ অপরাহ্ন
রাজশাহী অঞ্চলে ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন ও জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপসয়েল) কাটার প্রবণতা কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। সর্বশেষ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় জোরপূর্বক পুকুর খননকে কেন্দ্র করে আবারও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে অবৈধ খননের অভিযোগে চারটি এক্সেভেটরে (ভেকু) আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।

ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টার পর দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের উজানখলসী বিলে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই বিলে ফসলি জমিতে পুকুর খনন চলছিল। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত উত্তেজিত জনতা ভেকুগুলোতে আগুন দেয়।

ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, জোর করে পুকুর খননের বিষয়ে তাঁরা আগেই দুর্গাপুরের সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের পর তিনি ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। তবে কৃষকদের দাবি, সেই অভিযান ছিল লোক দেখানো। কারণ প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবারও পুকুর খনন শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের পরদিন সোমবার নতুন উদ্যমে একযোগে আরও তিনটি এক্সেভেটর এনে খনন কাজ শুরু করা হয়। এ সময় পুকুরপাড়ে অচেনা লোকজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ পাহারায় রাখা হয়। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুর খননকারীরা পাশের তাহেরপুর পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা এবং তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ না থাকায় শেষ পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন একজোট হয়ে চারটি এক্সেভেটরে আগুন ধরিয়ে দেন।

উজানখলসী বিলে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে খননকাজ বন্ধ রয়েছে। সেখানে পাঁচটি এক্সেভেটর থাকলেও চারটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন জানান, সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভেকুগুলোতে আগুন জ্বলছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৫০ বিঘা ফসলি জমি ঘিরে পুকুর খনন করছিলেন তাহেরপুর পৌরসভা এলাকার ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার ঝিনাইয়ের মোড়, কয়ামাজমপুর, সুখানদিঘি, উজানখলসী ও মাড়িয়াসহ একাধিক এলাকায় পুকুর খনন চলছে। প্রশাসনের অভিযানের পর কাজ সাময়িক বন্ধ থাকলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা আবার শুরু হয়। একই চিত্র তানোর উপজেলার কামারগাঁ কলেজপাড়া, পাঁচন্দর ইউনিয়নের কচুয়া মোহাম্মদপুর বালিকা বিদ্যালয়পাড়া, গোদাগাড়ীর আমতলা ও সাধুর মোড় এলাকা, মাটিকাটা, গোগ্রাম, দেওপাড়া, মোহনপুর ও পাকড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত মাটি কেটে ট্রাকে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে কাঁচা ও পাকা রাস্তা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক পরিবেশ দূষণও হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামে ফসলি জমিতে পুকুর খননে বাধা দিতে গিয়ে এক তরুণ কৃষককে এক্সেভেটরের চাকার নিচে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করলেও চালক ছাড়া এখনো অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রশাসনের অভিযান কি কেবল লোক দেখানো, নাকি অবৈধ পুকুর ও মাটি খননকারী সিন্ডিকেট প্রশাসনের চেয়েও শক্তিশালী? অভিযান চালানোর পরও কেন বন্ধ হচ্ছে না ফসলি জমিতে পুকুর খনন ও টপসয়েল কাটা, এই প্রশ্নের জবাব জানতে চায় সচেতন মহলের।

দূর্গাপুরে পুকুর খনন, বিক্ষুদ্ধ জনতার ভেকুতে আগুন এবং রাজাবাড়ি গোদাগাড়ীতে কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই রাতভর ফসলি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রিয়ের ব্যপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), মোহাঃ সবুর আলী জানান, বিষয়গুলি আমার জানা নাই। তবে খোঁজ নিয়ে অবৈধ পুকুর ও মাটি খননকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]