কলকাতার মতো শহরে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ একে অপরের পাশ দিয়ে হেঁটে যায় — কাউকে মনে থাকে না, কারও মুখও না। তবু হঠাৎ কখনও কখনও একটুখানি ঘটনা পুরো দিনটাকে বদলে দেয়। এমনই এক ছোট্ট মুহূর্ত বড়দিনের আগে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের জীবনে হয়ে উঠল একরাশ উষ্ণতার গল্প।
স্বস্তিকার কাছে সেদিনটা ছিল টানা ছুটোছুটি। মিটিং, বন্ধু তোলা, পোষ্যদের জন্য কেনাকাটা, তারপর পেট কার্নিভালে যাওয়ার প্রস্তুতি — দিনের শুরু থেকেই যেন ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়। তাড়াহুড়ো করে অ্যাপ ক্যাবে ওঠা, চালকের সঙ্গে হালকা গল্প, হাসিমুখ বিদায় — সবই ছিল একেবারে রোজকার মতো। শুধু সেই তাড়াহুড়োর মধ্যেই অজান্তে গাড়ির সিটে থেকে গেল একটা ব্যাগ। ভেতরে ছিল উপহার, পোষ্যদের খাবার, কিছু দরকারি আর কিছু একান্ত ব্যক্তিগত জিনিস।
ঘণ্টা দুয়েক পরে হঠাৎ তাঁর মনে পড়ে — ব্যাগটা নেই! সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল চেনা অস্থিরতা। কোথায় গেল? ক্যাবে? না কি কোথাও ফেলে এলাম? হেল্পলাইনে ফোন, অপেক্ষা, হতাশা — সব মিলিয়ে মনটা ভারী হয়ে উঠেছিল। ঠিক তখনই অচেনা নম্বর থেকে ফোন এল। ওপাশে শান্ত স্বরে বললেন একজন তরুণ — তিনি সেই ক্যাবের চালক। নাম তাঁর সৈকত দাস। এতবার কল দেখে বুঝেছিলেন, যাত্রী নিশ্চয়ই কিছু খুঁজছেন। ব্যাগটা তিনি যত্ন করে নিজের কাছে রেখেছেন, যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন, আর অবশেষে নিজেই ফোন করেছেন।
লোকেশন মিলল, সময় মিলল। সন্ধের দিকে এক নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে দেখা গেল, হাতে ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক তরুণ, মুখে সাধারণ একটা হাসি — না কোনও নাটক, না কোনও দাবি। শুধু কাজটা ঠিকঠাক করে দেওয়ার স্বস্তি।
স্বস্তিকার কাছে ব্যাপারটা শুধু ব্যাগ ফিরে পাওয়ার গল্পে থামেনি। তিনি সেই মুহূর্তটা ধরে রাখলেন, শেয়ার করলেন, আর মনে করিয়ে দিলেন — আমরা প্রায়শই ভুলে যাই ভালোটুকু নিয়ে কথা বলতে। অভিযোগ দ্রুত ছড়ায়, কিন্তু নিঃশব্দ ভাল কাজগুলো আড়ালেই থেকে যায়।
এই ঘটনাটা বড়দিনের সময় যেন তাঁর কাছে হয়ে উঠল এক অন্যরকম উপহার। তাঁর চোখে, আমাদের শহরের এই সাধারণ মানুষগুলোই আসলে রোজকার সান্তা ক্লজ — যাঁরা কোনও রিবন বাঁধা বাক্স দেন না, কিন্তু ফিরিয়ে দেন ভরসা, আস্থা আর মানুষের ওপর বিশ্বাস।
স্বস্তিকার গল্পে কোনও নাটকীয় মোড় নেই, কোনও চমকপ্রদ টুইস্ট নেই। আছে শুধু এক শহর, তার ভেতরের এক মানুষ, আর একটুখানি মানবিকতা। আর হয়তো এই ছোট্ট গল্পটাই মনে করিয়ে দেয় — ভিড়ের মধ্যেও এখনও কিছু আলো জ্বলে থাকে, যেগুলো আমাদের দিনটাকে একটু উজ্জ্বল করে তোলে। বড়দিনের ঠিক আগে এমন গল্প পাওয়াই যেন সবচেয়ে সুন্দর শুভেচ্ছা।
স্বস্তিকার কাছে সেদিনটা ছিল টানা ছুটোছুটি। মিটিং, বন্ধু তোলা, পোষ্যদের জন্য কেনাকাটা, তারপর পেট কার্নিভালে যাওয়ার প্রস্তুতি — দিনের শুরু থেকেই যেন ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়। তাড়াহুড়ো করে অ্যাপ ক্যাবে ওঠা, চালকের সঙ্গে হালকা গল্প, হাসিমুখ বিদায় — সবই ছিল একেবারে রোজকার মতো। শুধু সেই তাড়াহুড়োর মধ্যেই অজান্তে গাড়ির সিটে থেকে গেল একটা ব্যাগ। ভেতরে ছিল উপহার, পোষ্যদের খাবার, কিছু দরকারি আর কিছু একান্ত ব্যক্তিগত জিনিস।
ঘণ্টা দুয়েক পরে হঠাৎ তাঁর মনে পড়ে — ব্যাগটা নেই! সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল চেনা অস্থিরতা। কোথায় গেল? ক্যাবে? না কি কোথাও ফেলে এলাম? হেল্পলাইনে ফোন, অপেক্ষা, হতাশা — সব মিলিয়ে মনটা ভারী হয়ে উঠেছিল। ঠিক তখনই অচেনা নম্বর থেকে ফোন এল। ওপাশে শান্ত স্বরে বললেন একজন তরুণ — তিনি সেই ক্যাবের চালক। নাম তাঁর সৈকত দাস। এতবার কল দেখে বুঝেছিলেন, যাত্রী নিশ্চয়ই কিছু খুঁজছেন। ব্যাগটা তিনি যত্ন করে নিজের কাছে রেখেছেন, যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন, আর অবশেষে নিজেই ফোন করেছেন।
লোকেশন মিলল, সময় মিলল। সন্ধের দিকে এক নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে দেখা গেল, হাতে ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক তরুণ, মুখে সাধারণ একটা হাসি — না কোনও নাটক, না কোনও দাবি। শুধু কাজটা ঠিকঠাক করে দেওয়ার স্বস্তি।
স্বস্তিকার কাছে ব্যাপারটা শুধু ব্যাগ ফিরে পাওয়ার গল্পে থামেনি। তিনি সেই মুহূর্তটা ধরে রাখলেন, শেয়ার করলেন, আর মনে করিয়ে দিলেন — আমরা প্রায়শই ভুলে যাই ভালোটুকু নিয়ে কথা বলতে। অভিযোগ দ্রুত ছড়ায়, কিন্তু নিঃশব্দ ভাল কাজগুলো আড়ালেই থেকে যায়।
এই ঘটনাটা বড়দিনের সময় যেন তাঁর কাছে হয়ে উঠল এক অন্যরকম উপহার। তাঁর চোখে, আমাদের শহরের এই সাধারণ মানুষগুলোই আসলে রোজকার সান্তা ক্লজ — যাঁরা কোনও রিবন বাঁধা বাক্স দেন না, কিন্তু ফিরিয়ে দেন ভরসা, আস্থা আর মানুষের ওপর বিশ্বাস।
স্বস্তিকার গল্পে কোনও নাটকীয় মোড় নেই, কোনও চমকপ্রদ টুইস্ট নেই। আছে শুধু এক শহর, তার ভেতরের এক মানুষ, আর একটুখানি মানবিকতা। আর হয়তো এই ছোট্ট গল্পটাই মনে করিয়ে দেয় — ভিড়ের মধ্যেও এখনও কিছু আলো জ্বলে থাকে, যেগুলো আমাদের দিনটাকে একটু উজ্জ্বল করে তোলে। বড়দিনের ঠিক আগে এমন গল্প পাওয়াই যেন সবচেয়ে সুন্দর শুভেচ্ছা।