রাস্তার পাশে পিঠা-পেঁয়াজুর ব্যবসা করতেও লাগবে নিবন্ধন

আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬ ০৫:৩১:০২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-১০-২০২৬ ০৫:৩১:০২ অপরাহ্ন
দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে। একইসঙ্গে খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর আওতায় এ ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রণীত প্রবিধানমালাটি গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ীদের আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন বিধানের আওতায় রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি-পেঁয়াজুর দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং নির্ধারিত খাদ্য আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসবেন।

প্রবিধানমালায় নির্ধারিত প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে তা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন ব্যবস্থায় পণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএ’র নিবন্ধন নম্বর উল্লেখের ফলে উৎপাদক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা সহজ হবে। ভোক্তারাও পণ্যের প্যাকেট থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং অভিযোগের প্রয়োজনে নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে নিবন্ধন নম্বর থাকাই পণ্যের নিরাপত্তার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা নয়; খাদ্যের মান বজায় রাখতে অন্যান্য প্রযোজ্য বিধিবিধানও অনুসরণ করতে হবে।

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে পৃথক অনুমোদনব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বয়স্ক ব্যক্তি ও নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য তৈরি বিশেষ খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনে প্রযোজ্য লাইসেন্স নিতে হবে।

এ ছাড়া জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব-খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ বা ফোর্টিফায়েড খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সহায়ক বা রোগের ঝুঁকি হ্রাসের দাবি-সংবলিত পণ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট শর্ত অনুযায়ী নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন যথেষ্ট নয়; পণ্যের ধরন ও কার্যক্রম অনুসারে অতিরিক্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রবিধানমালায় নির্ধারিত ফি ও শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স ফি ৬০ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীদের আবেদন করার আগে প্রবিধানমালার তফসিল-১০-এ উল্লিখিত ফি এবং নিজ নিজ ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইন আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়মে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।

কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসাকে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় আনা, পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ভোক্তাদের অভিযোগের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে। 

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com