সাত রোগে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা করে দেবে সরকার, আবেদন যেভাবে

আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬ ০৫:২০:৪১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-১০-২০২৬ ০৫:২০:৪১ অপরাহ্ন
ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ সাতটি জটিল ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন এক লাখ টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা দেবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬৫ হাজার রোগীকে এ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে সহায়তা করা এবং তাদের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানো এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

যে সাত রোগে মিলবে আর্থিক সহায়তা

সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় সাতটি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। রোগগুলো হলো-

১. ক্যান্সার
২. কিডনি রোগ
৩. লিভার সিরোসিস
৪. প্যারালাইসিস
৫. হৃদরোগ
৬. লিউকেমিয়া
৭. থ্যালাসেমিয়া

কারা পাবেন অগ্রাধিকার

আর্থিক সহায়তা পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ জন্য পরিবারের আয়-ব্যয় ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে।

এ ছাড়া যেসব রোগীর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এবং যাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগীরাও অগ্রাধিকার পাবেন।

তবে আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া, জাল কাগজপত্র জমা দেওয়া, একই বিষয়ে সরকারের অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা কিংবা তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সহায়তা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কমিটি আবেদন বাতিল করতে পারবে।

নিয়ম অনুযায়ী, একজন আবেদনকারী একই অর্থবছরে একবার এবং সারা জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ সহায়তা পেতে পারবেন।

আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি, নমিনির তথ্য, রোগী বা আবেদনকারী কিংবা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং ব্যাংকের চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি দিতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি এবং রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপিও জমা দিতে হবে।

রোগভেদে যেসব পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্টসহ প্রযোজ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে।

কিডনি রোগীদের রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয়ের রিপোর্ট এবং ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা সেবাকেন্দ্রের চিকিৎসকের সনদও প্রয়োজন হবে।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্তদের লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ফাইব্রোস্ক্যান রিপোর্টসহ প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে। প্যারালাইসিসের ক্ষেত্রে এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট কিংবা রোগের প্রমাণযোগ্য ছবি জমা দেওয়া যাবে।

হৃদরোগীদের এনজিওগ্রাম বা ইকোকার্ডিওগ্রামের রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে। অন্যদিকে, থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস বা প্রযোজ্য অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত এক বছরের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে; মূল কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

যেভাবে আবেদন করবেন

আর্থিক সহায়তা পেতে প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন লিংকে প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্রের স্বাক্ষরিত প্রিন্টকপি, চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি এবং পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।

অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আবেদন ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রত্যয়নপত্র পূরণ করে দুই কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা, নির্ধারিত অনলাইন আবেদনের লিংক এবং কাগজপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com