ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৯:২৮:২৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৯:২৮:২৮ অপরাহ্ন
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে দেশজুড়ে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। এ সময় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্যারিসে মাস্ক পরা শত শত বিক্ষোভকারী বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি হন। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। বিক্ষোভের কারণে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং শহরের কেন্দ্রস্থলের বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়।

প্যারিসের পশ্চিমাঞ্চলে ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম সি-নিউজ ও ইউরোপ ১-এর কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে ভবন দুটির জানালার কাচ ভেঙে যায়। এ ছাড়া সরকারি ভবন, শঁজেলিজে অ্যাভিনিউ ও বিভিন্ন রেলস্টেশনের আশপাশে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে এসব এলাকা থেকে অন্তত ৬০ জনকে আটক করা হয়।

দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইতে বিক্ষোভকারীদের একটি দল সিটি হলে প্রবেশ করে। এ সময় তারা মেয়র ভবনের দরজায় ধাক্কা দেন এবং ভেতরের একটি দেয়ালে অ্যানার্কিস্ট প্রতীক আঁকেন। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তাদের বের করে দেয়। শহরটিতে বিক্ষোভকারীদের একটি পুলিশ ভবনে হামলা চালাতেও দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এএফপির এক আলোকচিত্রী।

এদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর রেনে-তে একটি বিপণিবিতানের সীমানায় আবর্জনার পাত্র ও কাঠের প্যালেট দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করেন বিক্ষোভকারীদের একটি দল।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, শনিবার দুপুরের কিছু পরেই প্যারিসের বাইরে দেশজুড়ে প্রায় ১৪০টি কর্মসূচিতে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। এর আগের দিন আয়োজকদের প্রকাশিত একটি ওয়েবসাইটে ফ্রান্সজুড়ে ৬০০টিরও বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জ্বালানির ব্যয় বাড়লেও আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং মাসের শেষ দিকে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

গ্যারে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ৩০০ মানুষের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ফরাসি সরকারি চাকরিজীবী ফ্রাঙ্ক বলেন, মাস শেষে তাঁর হাতে আর কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকে না। পণ্যের দাম বাড়লেও বেতন না বাড়ায় মানুষ ক্রমেই অসহায় হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্সেইতে ‘ওদে’ ছদ্মনামে পরিচিত এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং পুলিশের কঠোর আচরণের প্রতিবাদে তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন।

সাবেক ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারী ও কাঠমিস্ত্রি ক্রিস্তফও কিশোর-কিশোরীদের ওপর পুলিশের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি দমন-পীড়নের প্রভাব এখন তরুণদের ওপরও পড়ছে।

শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মধ্যেই নতুন করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে। এর আগে আন্দোলন দমনে পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার।

আট বছর আগে জ্বালানি কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো এবার ‘হলুদ ও তরুণদের’ যৌথ বিক্ষোভের ডাক দেয়। অর্ধ-বার্ষিক ছুটির প্রথম দিনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, পেনশনভোগী ও কৃষকদের এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ নাগরিকদের শান্ত ও শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিবাদ জানানোর অধিকার থাকলেও মানুষ ও সম্পত্তির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা প্রয়োজন।

চলতি মাসের শুরুতে দুই হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৪৫ শতাংশ ফরাসি নাগরিক জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

২০২৪ সাল থেকে ফ্রান্সে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমতে শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।

ইউরো অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ফ্রান্স সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণেও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দেশটির সরকারি ঋণ আগামী বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত সীমা জিডিপির ৬০ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া এই ঋণের বোঝা কমানো কঠিন। সম্ভাব্য সংস্কারের অংশ হিসেবে পেনশনসহ বিভিন্ন সামাজিক সুবিধায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়।

এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অতি-বামপন্থি ‘ফ্রান্স আনবাউড’ দলের নেতা জাঁ-লুক মেলঁশঁ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে ডানপন্থি ‘ন্যাশনাল র‍্যালি’ দলের নেত্রী মেরি লি পেন তাঁর দলকে পুলিশের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্য, সরকারি ঋণ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মধ্যে নতুন এই বিক্ষোভ ফ্রান্সের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com