সৌদি আরবের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের প্রস্তুতি হুথিদের

আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৬:৩২:২৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৬:৩২:২৯ অপরাহ্ন
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে হুথিরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার শক্তিশালী করেছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামো, বিমানবন্দর এবং ইয়েমেন সরকারের সামরিক অবস্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়ানোই তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের হাতে রয়েছে বিভিন্ন পাল্লার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালীতে সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে হামলার ক্ষেত্রেও এই অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে সানা দখলের সময় ইয়েমেনের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার থেকে পাওয়া অস্ত্র, বিদেশ থেকে পাচার হওয়া যন্ত্রাংশ এবং স্থানীয় উৎপাদনব্যবস্থার সমন্বয়ে নিজেদের অস্ত্রের মজুত বাড়িয়েছে হুথিরা। সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও উৎপাদনে ইরানের সহায়তার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণে ‘খাইবার শেকান’ নামের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ‘আসেফ’ অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘কুদস-৪’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ‘ওয়াইদ-১’ ও ‘ওয়াইদ-২’ নামের ড্রোন ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। এগুলির নকশা ও প্রযুক্তির সঙ্গে ইরানের তৈরি শাহেদ সিরিজের ড্রোনের মিল রয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই অস্ত্রগুলির নির্দিষ্ট সংস্করণ, কার্যকর পাল্লা এবং বর্তমান মজুতের পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, সমুদ্রপথে ছোট নৌকার মাধ্যমে যন্ত্রাংশ পাচার এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার সাহায্যে হুথিদের কাছে সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছয়। ইরানের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ তাদের অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করা হয়।

তবে ইজরায়েলি বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচের মতো বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন, হুথিরা কেবল ইরানের নির্দেশে পরিচালিত কোনও বাহিনী নয়। বরং নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও হুথিদের নিজস্ব কৌশলগত হিসাবকে উপেক্ষা করা যায় না।

বছরের পর বছর ধরে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সংঘাত এবং বিভিন্ন বিদেশি সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হয়েছে হুথিরা। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা অস্ত্রের মজুত, স্থানীয় উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা, লোহিত সাগরের সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে সংঘাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং নির্দিষ্ট হামলার দাবিগুলি স্বাধীন সূত্রে যাচাই না করে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com