​দুর্গাপুরে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে ‘জামাই মেলা, বাণিজ্যের অভিযোগ

আপলোড সময় : ১৫-১০-২০২৬ ০৯:৩৭:০২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-১০-২০২৬ ০৯:৩৭:০২ অপরাহ্ন
 রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুরে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে ‘জামাই মেলার নামে জমজমাট বাণিজ্যের আয়োজন করা হয়েছে।  বিদ্যালয়ের মাঠ ও সড়কের পাশজুড়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান বসানোর কাজ চলমান রয়েছে।

এবারে এ মেলায় দোকান প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা আদায়ের ছক কষেছেন আয়োজকেরা। এর নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া মেলা অনুমোদনের নামে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের কম্পিউটার সহকারী মো. সুমন আলীর বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদহ মেলার আয়োজন প্রশ্নবিদ্ধ করতে উপজেলার আলীপুরে জামাই মেলার নামে দোকান বরাদ্দ ও পার্কিংয়ের নামে অর্থ আদায়ের আয়োজন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ দখল ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা ব্যবহার করে কার স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে মেলা কমিটি।   

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলীপুর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, কলেজ এবং আলীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠসহ আশপাশের সড়কের পাশে বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে শত শত দোকান করা হয়েছে। এসব দোকানে খেলনা, প্রসাধনী, মিষ্টান্ন, মনিহারি ও গৃহস্থালি পণ্য বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। এছাড়াও মাঠ ভাড়া দেওয়া হ'য়েছে বিভিন্ন ধরনের খেলার রাইডের জন্য। মেলা কমিটির তথ্যনুযায়ী, ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেলা চলবে। আয়োজকেরা অনুমতির আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে অনুমোদনের শর্ত ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিশ্চিত না করেই কীভাবে এত বড় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মেলায় দোকান বরাদ্দ নেওয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্টলের আয়তন অনুযায়ী তাঁদের কাছ থেকে দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কয়েকজন দোকানির অভিযোগ, মেলা কমিটির চাপে তাঁরা এ অর্থ দিতে বাধ্য হতে হবে। অপরদিকে মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের জন্য প্রতি গাড়িতে ৪০ টাকা আদায়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

 তবে এসব আয়ের হিসাব, অর্থ সংগ্রহের প্রকৃত পরিমাণ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা, মেলার নামে এত টাকা আদায় করা হলে সেই অর্থ কোথায় যাবে, কারা হিসাব রাখবেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কী সুবিধা পাবে কমিটির কাছ থেকে এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, মেলা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান ও স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার প্রভাবে তাঁরা মেলা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছেন। তবে মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান দোকানিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ইউএনও, ডিসি, এসপি মেলার অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই আমরা মেলা শুরু করেছি। এ মেলার সার্বিক দায়িত্বে নওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলী রয়েছে বলে জানান তিনি। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার বলেন,  মেলার অনুমতি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসন দিয়ে থাকে। এ ধরনের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার স্থানীয় পুলিশের নাই। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে আমাদের শুধু অবহিত করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, মেলা পরিচালনার জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এব্যাপারে কোনো অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com