ইউরোপের বুকে এক টুকরো লাতিন আমেরিকা!

আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৫:৪৪:২৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৫:৪৪:২৬ অপরাহ্ন
পনেরো বছর। একটা গোটা ক্লাবের ভোল পালটে দেওয়ার জন্য সময়টা নেহাত কম নয়। দিয়েগো সিমিওনে আতলেতিকো মাদ্রিদের ডাগআউটে ঠিক এই কাজটাই করে চলেছেন।

লা লিগা বললেই যে রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার একঘেয়ে ঘোড়দৌড় বোঝাত, সেই ছক সযত্নে ভেঙেছেন এই আর্জেন্তিনীয় ম্যানেজার। আর সিমিওনের সাফল্য য়ুরোপের মাটিতে এক চূড়ান্ত ব্যতিক্রম। কারণটা সহজ। লাতিন আমেরিকার ফুটবলাররা ইউরোপে এসে ভেলকি দেখালেও, লাতিন কোচদের ইউরোপিয়ান ফুটবলে সেভাবে ডাল গলে না। তাই সিমিওনে স্পেশাল। বিতর্কিত, সমালোচিত হলেও তাঁকে এড়ানো মুশকিল। 

ব্যতিক্রমী সিমিওনে ও লাতিন কোচদের খরা
ইউরোপে সফল লাতিন আমেরিকান ম্যানেজারদের তালিকা বেশ ছোট। ছয়ের দশকে ইন্টার মিলানে সাফল্য পেয়েছিলেন হেলেনিও হেরেরা। তাঁকে বলা হত ফুটবলে 'ডার্ক আর্টসে'র আদি কারিগর।

এ ছাড়া চিলির ম্যানুয়েল পেল্লেগ্রিনি। যিনি ম্যানচেস্টার সিটিকে প্রিমিয়ার লিগ জেতান। হোর্হে ভালদানো বা হালফিলের মাউরিসিও পচেত্তিনোরা ইতিউতি সাফল্য পেলেও, সিমিওনের মতো একটা গোটা ক্লাবের সংস্কৃতি বদলে দেওয়ার নজির সত্যি বিরল। আতলেতিকো একসময় লিগের মাঝামাঝি থাকত, এমনকি দ্বিতীয় ডিভিশনেও নেমেছিল। সেখান থেকে সিমিওনে তাদের জোড়া লা লিগা জিতিয়েছেন। তৈরি করেছেন হার না মানা মানসিকতা।

ফুটবলের 'ভিলেন' ও খাঁটি লাতিন মেজাজ
আতলেতিকো মাদ্রিদ নিরপেক্ষ ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের দল নয়। রেফারিদেরও নাপসন্দ। মাঠে নেমেই সবাই যেন চিরাচরিত 'ভিলেন' হয়ে ওঠে। অনেকেরই মনে থাকবে, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামকে উসকে দিয়ে লাল কার্ড খাইয়েছিলেন এই সিমিওনে। সেই চতুরতা, সেই আগ্রাসন এখন আতলেতিকোর মজ্জায়। ছেলে জিউলিয়ানোও দলের  সৈনিক। ডান প্রান্তে নিয়মিত খেলছেন।

মেজাজ হারানো, রেফারিকে ঘিরে ধরা, ফাউল করা—এসব লাতিন আমেরিকার ফুটবলে জলভাত। সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে ঠিক এই আগ্রাসন দেখা গিয়েছে। স্পেনের কাছে হেরে লাল কার্ড দেখে রেফারির জামা ধরেছিলেন উরুগুয়ের ফুটবলার! মেক্সিকোর কাছে হেরে ইকুয়েডরের ফুটবলাররা মাঠটাকে কার্যত এমএমএ-র রিং বানিয়ে ফেলে। ফরাসি তারকা এমবাপেকে ক্রমাগত উত্যক্ত করে গিয়েছিল প্যারাগুয়ে। আর স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে আর্জেন্তিনার ২৫টা ফাউল ও ম্যাচ শেষের হাতাহাতি তো গোটা বিশ্বে নিন্দিত।

এক কলম্বিয়া ছাড়া লাতিন দেশগুলোর বিদায়বেলার এই ছবিটাই তাদের ফুটবল-সংস্কৃতি। হারার আগে আক্ষরিক অর্থে লড়াই করে তারা। সিমিওনের আতলেতিকোও এই দর্শনে বিশ্বাসী। কর্পোরেট যুগে ইউরোপের গ্যালারি যখন শান্ত হয়ে আসছে, আতলেতিকোর স্টেডিয়ামে এখনও বারুদের গন্ধ! 

উরুগুয়ে-কানেকশন ও অধরা য়ুরোপ-সেরার স্বপ্ন
সিমিওনে নিজে আর্জেন্তিনীয় হলেও, তাঁর দলের সঙ্গে আর্জেন্তিনার চেয়ে উরুগুয়েরই মিল বেশি। উরুগুয়ের ফুটবল মানে রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা, আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং কিছুটা চালাকি। আতলেতিকোর গত দুই দশকের তিনটে বড় সাফল্যের পিছনে রয়েছেন কোনও না কোনও উরুগুয়েন। ২০১০ সালে ইউরোপা লিগ ফাইনালে জোড়া গোল দিয়েগো ফোরলানের। ২০১৪ সালের লা লিগা জয়ে ডিফেন্ডার দিয়েগো গডিনের মাথা। আর ২০২০-২১ মরশুমে লুই সুয়ারেজের ম্যাজিক। এমনকি দলের ফরাসি তারকা আঁতোয়া গ্রিজম্যানও মনে মনে উরুগুয়েন! ২০১৮ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে গোল করে তিনি সেলিব্রেট করেননি। বলেছিলেন, 'আমি ওদের সংস্কৃতি ভালবাসি।'

কিন্তু এত কিছুর পরেও একটা আক্ষেপ রয়ে গিয়েছে। সিমিওনে দু'বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেও পড়শি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের কাছে পরাস্ত হয়েছেন। ১৯৬৫ সালে হেরেরার পর আর কোনও লাতিন কোচ ইউরোপ সেরার ট্রফি জেতেননি। সিমিওনের হার না মানা লাতিন মানসিকতা কি পারবে খরা কাটাতে? নক-আউট ফুটবলের ওস্তাদ আতলেতিকোর কাছে এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com