যুদ্ধের নামে প্রকৃতি ধ্বংস, অপরাধীদের বিচারের দাবি ইরানের

আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৭:৩০:৩৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৭:৩০:৩৮ অপরাহ্ন
যুদ্ধের কারণে পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার মতে, পরিবেশ ধ্বংস শুধু যুদ্ধাপরাধ নয়, এটি স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বদলে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) ইরানের রাজধানী তেহরানে ‘পরিবেশ ধ্বংস: নীরব যুদ্ধাপরাধ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন আরাঘচি। তিনি বলেন, পরিবেশ সমগ্র মানবজাতির অভিন্ন সম্পদ। রাজনৈতিক বিরোধ, সামরিক সংঘাত কিংবা স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থে একে ধ্বংস করা উচিত নয়।

পরিবেশ ধ্বংসকে বোঝাতে ‘ইকোসাইড’ শব্দটি ব্যবহার করে আরাঘচি বলেন, ধারণাটি গণহত্যার মতোই গুরুতর। পরিবেশের ওপর যুদ্ধের প্রভাব যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও বহু বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত থাকতে পারে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে পানি, মাটি, বায়ু, বন, কৃষিজমি, জ্বালানি সম্পদ, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে মানুষ ও প্রকৃতিকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

উদাহরণ হিসেবে গাজার পরিবেশগত বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে জলপাইবাগান ধ্বংস হওয়া এবং পানি ও মাটি দূষিত হওয়ার মতো নজিরবিহীন ক্ষতি হয়েছে। লেবাননে আগুনে বনভূমি ও হাজার হাজার জলপাইগাছ ধ্বংস হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রসঙ্গ তুলে আরাঘচি বলেন, ২০২৬ সালের মার্চে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি এসব হামলায় বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর ফলে তেহরানে ‘কালো বৃষ্টি’ দেখা দেওয়ার ঘটনাও তিনি স্মরণ করেন।

পরিবেশ ধ্বংস মোকাবিলায় তিনটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন আরাঘচি। এগুলো হলো—পরিবেশ ধ্বংস শনাক্ত ও মোকাবিলায় স্পষ্ট আইন ও মানদণ্ড তৈরি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নথিবদ্ধ করতে নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পরিবেশ পুনরুদ্ধারে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

আরাঘচি বলেন, পরিবেশ ধ্বংসকে স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ইরান। এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক, আইনি ও কূটনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগাতেও দেশটি প্রস্তুত। সামরিক হামলায় পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা বাড়াতে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-কে উপযুক্ত সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আগ্রাসীদের তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় এড়িয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com