এক ক্যামেরাম্যানের সঙ্গে তিন বোনের বিয়ে, ভিডিও ভাইরাল

আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৭:২৮:০৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৭:২৮:০৬ অপরাহ্ন
সম্প্রতি ভারতের উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলায় এক ব্যক্তিকে তিন বোনের বিয়েরে ঘটনায় সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, বিয়ের পর আলাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। তাই নিজেদের ক্যামেরাম্যান বিকাশকে একই সঙ্গে বিয়ে করেছেন সরোজ (২০), সাবিত্রী (১৯) ও সন্তোষ (১৮)।

তাদের দাবি, ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হওয়া তিন বোন বিয়ের পরও একসঙ্গে থাকতে চেয়েছেন। সেই ইচ্ছা থেকেই একজনকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই চামুণ্ডা মাতা মন্দিরে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তিন বোনই হাসানপুরের ধৌরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করেন।

তাদের ক্যামেরাম্যান হিসেবে গত ছয় মাস ধরে কাজ করছিলেন বিকাশ। তাদের তৈরি বিভিন্ন ভিডিওতে প্রায়ই স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করতেন তিনি।

সম্প্রতি বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বিকাশ তিন বোনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছেন।

তবে অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনাটি নিয়ে কয়েকটি হিন্দু সংগঠনও আপত্তি জানিয়েছে।

কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা ব্যাখ্যা করে বড় বোন সরোজ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তারা একসঙ্গে থেকেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা বিয়ের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি আলাদা হয়ে যাওয়ার চিন্তা থেকে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন বলে জানান তিনি।

সরোজের ভাষ্য, ‘শৈশব থেকে আমরা একসঙ্গে থেকেছি। আলাদা হয়ে থাকার কথা কখনোই কল্পনা করতে পারিনি। যখন বুঝলাম, বিয়ের পর আমাদের আলাদা হয়ে যেতে হবে, তখন আমরা আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, মৃত্যুর পথ বেছে নেওয়ার বদলে একসঙ্গেই থাকব এবং একজনকেই বিয়ে করব।’

তাদের দাবি, চারজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিকাশও বলেন, তিন বোনের মধ্যে গভীর বন্ধনের বিষয়টি তিনি জানতেন। তারা বিয়ের পর আলাদা থাকতে চান না- এ কথা তাকে বারবার জানিয়েছেন।

তাদের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানান বিকাশ। একই সঙ্গে নিজেদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার জন্য মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা বাড়তে থাকলে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিন বোন।

সেখানে হিন্দু পুরাণের রাজা দশরথের তিন রানির প্রসঙ্গ টেনে তারা প্রশ্ন করেন, ‘প্রাচীনকালে রাজা দশরথের তিনজন রানি ছিলেন। তখন কি সেটাকে অপমান বলা হয়েছিল?’ তাদের দাবি, নিজেদের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা কোনো ভুল করেননি।

তবে এই বিয়ের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এলাহাবাদ হাইকোর্টের আইনজীবী অনুরাগ পান্ডে বলেন, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী একজন হিন্দু পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকা আইনত স্বীকৃত নয়। তার মতে, এ ধরনের বিয়ে আইনের দৃষ্টিতে বাতিল এবং এর মাধ্যমে বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না।

অন্যদিকে, মন্দিরের ব্যবস্থাপক ড. শিবচরণ দাসের বরাত দিয়ে দৈনিক ভাস্করের ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের সময় চামুণ্ডা মাতা মন্দিরে সংস্কারকাজ চলছিল। এ কারণে সেখানে কোনো পুরোহিত উপস্থিত ছিলেন না।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশও চারজনের সঙ্গে কথা বলেছে। হাসানপুরের সার্কেল অফিসার পঙ্কজ ত্যাগী জানান, ভাইরাল ভিডিওর পর পুলিশ চারজন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নিয়েছে।

তাদের সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

পঙ্কজ ত্যাগীর ভাষ্য, ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বা আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য সামনে এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু সংগঠন ধর্মীয় স্থানে এ ধরনের বিয়ের আয়োজনকে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com