‘ওর কথা খুব মনে পড়ে!’ মনীষা কৈরালার সঙ্গে ‘বিচ্ছেদে’ ভেঙে পড়েছিলেন নানা পটেকর?

আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:৫৯:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:৫৯:০৩ অপরাহ্ন
গত ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, গোয়ায় নিজের বাসভবনে প্রয়াত হয়েছেন নানা পটেকর। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার, অনুরাগী ও সহকর্মীরা। অভিনয়ের নিজস্ব ঘরানা তৈরি করেছিলেন তিনি। বলিউডের প্রচলিত নায়কের ছাঁচে কখনও নিজেকে বাঁধেননি নানা। তবে নব্বইয়ের দশকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষত মনীষা কৈরালার সঙ্গে সম্পর্ক, প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসত। দীর্ঘদিন সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি দু’জনেই। কিন্তু বিচ্ছেদের পর এক সাক্ষাৎকারে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নানা।

১৯৯৭ সালে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে প্রায় কেঁদে ফেলেছিলেন অভিনেতা। নানা বলেছিলেন, “খুব কঠিন সময় ছিল। এই যন্ত্রণা বুঝতে হলে নিজেকে সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আমি যে কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। দয়া করে, এ নিয়ে আর কথা বলবেন না। মনীষাকে খুব মনে পড়ে।”

‘খামোশী’ এবং ‘অগ্নিসাক্ষী’র মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন নানা ও মনীষা। দু’টি ছবিতেই তাঁদের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। ‘অগ্নিসাক্ষী’-তে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছিলেন অভিনেতা। ‘যুগপুরুষ’ ছবির শুটিং চলাকালীনই তাঁদের সম্পর্কে ছেদ পড়ে বলে শোনা যায়।

বিচ্ছেদের পরেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের তিক্ততা প্রকাশ্যে আনেননি নানা। বরং মনীষার প্রতিভার প্রশংসাই করেছিলেন তিনি। অভিনেতার কথায়, “মনীষার প্রতিভা সহজাত। ও আমার দেখা সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম। ও অনেকটা কস্তুরীমৃগের মতো। ওকে এখনও বুঝতে হবে যে, অন্য কারও সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলার প্রয়োজন নেই। ওর মধ্যে সব কিছুই রয়েছে, আর সেটাই যথেষ্ট।”

সেই সময় নিজের জীবনেও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন মনীষা। পরবর্তী সময়ে নিজের স্মৃতিকথা ‘হিল্‌ড’-এ মদ্যপানের প্রতি ঝোঁকের কথা জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তিনি লিখেছিলেন, “শুটিংয়ের চিন্তা থেকে মন সরাতে, নিজেকে অসাড় করে রাখতে মদ্যপান শুরু করেছিলাম। ডায়েট করলে ভড্‌কার উপর নির্ভর করতাম।”

নব্বইয়ের দশকে মনীষা যখন এই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনকার সাক্ষাৎকারে তাঁর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন নানা। তিনি বলেছিলেন, “ও নিজের সঙ্গে যা করছে, তা দেখলে আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারি না। হয়তো আজ ওর বিষয়ে কিছু বলার অধিকারও আমার নেই।”

উল্লেখ্য, মনীষার সঙ্গে সম্পর্কের সময় নানার স্ত্রী নীলকণ্ঠীর সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল। যদিও তাঁরা আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। অন্য দিকে, ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দহালকে বিয়ে করেন মনীষা। কিন্তু দু’বছরের মধ্যেই সেই বিয়ে ভেঙে যায়।

নানার প্রয়াণের পর সমাজমাধ্যমে প্রয়াত অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান মনীষা। তিনি লেখেন, “এক জন মহান অভিনেতা এবং অভিনয়শিল্পের প্রকৃত স্তম্ভের প্রয়াণে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। সিনেমার জগতে তাঁর অবদান এবং নিজের কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা চিরকাল মনে রাখা হবে।”

বৃহস্পতিবার রাতে পুণেয় নিজের খামারবাড়িতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় নানা পটেকরের।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com