পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা, হৃদরোগ বলে চালানোর চেষ্টা

আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৩:৫৭:০৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৩:৫৭:০৫ অপরাহ্ন
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে ডেকে এনে স্বামীকে পিটিয়ে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পরে ঘটনাটি হৃদরোগে মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে নিহতের মুঠোফোনে থাকা একটি চ্যাটের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে মিরাটের লোহিয়া নগর এলাকায়। নিহতের নাম তালিব (৩০)। চার বছর আগে পেশায় বিউটিশিয়ান ইলমা (২৭)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ইলমা তার বড় ভাই আকরামকে জানান, কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পর তালিব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বিছানায় ঢলে পড়েন এবং সেখানেই মারা যান। আকস্মিক হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে মনে করে পরিবারের সদস্যরা কোনো সন্দেহ ছাড়াই ধর্মীয় রীতি মেনে মরদেহ দাফন করেন।

তবে দাফনের কয়েকদিন পর পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। গত ১ অক্টোবর তালিবের চাচাতো ভাই রইস তথ্যের সন্ধানে ইলমার বাড়িতে যান। সেখানে তালিবের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তল্লাশি চালিয়ে কাপড়ের স্তূপের নিচ থেকে ফোনটি উদ্ধার করেন তিনি।

ফোনের মেসেজ ঘেঁটে রইস আমান নামের এক যুবকের সঙ্গে তালিবের তীব্র বাদানুবাদের চ্যাট দেখতে পান। ওই চ্যাটে তালিব আমানকে তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ ও কথা বলতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন।

এই তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যরা ইলমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।

ইলমার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পারিবারিক কলহের কারণে তালিব তাকে প্রায়ই মারধর করতেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এমনই এক বিবাদের পর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তার কথিত প্রেমিক আমানকে বাড়িতে ডেকে পাঠান। আমান এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে আসেন।

এরপর ইলমা, আমান ও তার বন্ধু মিলে তালিবকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমান তালিবের গলায় ওড়না বা চুন্নি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। হত্যাকাণ্ডের পর ইলমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন আমান বলে দাবি করা হয়েছে।

কোতোয়ালি অঞ্চলের সার্কেল অফিসার (সিও) সংগ্রাম সিং জানান, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার কবর থেকে তালিবের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্ত্রী ইলমাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কথিত প্রেমিক আমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com