'সাধারণ সভা ছাড়াই নির্বাচন! রাজশাহী মোটর শ্রমিকদের প্রশ্ন, ‘হিসাব কোথায়?’

আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০৬:২২:০৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০৬:২২:০৭ অপরাহ্ন
চাঁদা দেন নিয়মিত, কিন্তু প্রাপ্য সুবিধা মেলে না—এমন অভিযোগ রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ শ্রমিকদের। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কন্যাদায় সহায়তা, মৃত্যুকালীন অনুদান, শিক্ষা ভাতা, দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকের চিকিৎসা সহায়তাসহ বিভিন্ন পাওনা আটকে আছে। সব মিলিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নের কোনো সাধারণ সভা হয়নি। প্রকাশ করা হয়নি এ সময়ের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাবও। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ সভা ও হিসাব প্রকাশ না করে ত্রিবার্ষিক নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের স্পষ্ট দাবি—আগে হিসাব দিতে হবে, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে হবে; এরপর হবে নির্বাচন।

সোমবার রাজশাহীর নওদাপাড়া আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান ইউনিয়নের চাঁদা প্রদানকারী নিয়মিত সদস্য ও সাধারণ শ্রমিকরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ শ্রমিক মো. স্বপন ইসলাম। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ মো. জহুরুল ইসলাম জনি।

শ্রমিকরা বলেন, বছরের পর বছর তারা নিয়মিত চাঁদা দিয়ে ইউনিয়নের তহবিল সমৃদ্ধ করেছেন। অথচ বিপদে পড়লে অনেক শ্রমিকই তাদের প্রাপ্য সহায়তা পাচ্ছেন না। পঙ্গু, অসহায় ও বয়োজ্যেষ্ঠ শ্রমিকদের ভাতা, সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা, কন্যাদায় সহায়তা, মৃত্যুকালীন অনুদান এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে পাওনা রয়েছে।

তাদের প্রশ্ন, যে শ্রমিকের চাঁদার টাকায় ইউনিয়নের তহবিল গড়ে উঠেছে, সেই শ্রমিকই যদি প্রয়োজনের সময় তার প্রাপ্য না পান, তাহলে সংগঠনটি কাদের জন্য?

আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নের আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন শ্রম পরিচালকের কাছে দাখিল করা হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।

তাদের দাবি, জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করে গত কয়েক বছরের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সদস্যদের সামনে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি সংগঠনের তহবিল ও সম্পদের বর্তমান অবস্থাও জানাতে হবে।

শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, বিগত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের বিরুদ্ধে ইউনিয়নের অর্থ লুটপাট ও আত্মসাৎ এবং শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ওই কমিটির নেতারা ইউনিয়ন থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

নির্বাচন কমিটি নিয়েও অনাস্থা
আসন্ন ত্রিবার্ষিক নির্বাচন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা। তাদের দাবি, সাধারণ সভা না করে এবং সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা তারা মেনে নেবেন না।

তাদের অভিযোগ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়েও সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি। ফলে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের আস্থা নেই।

শ্রমিকদের দাবি, সাধারণ সভা আহ্বান করে প্রথমে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করতে হবে। এরপর সাধারণ শ্রমিকদের অংশগ্রহণে নতুন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

হোটেল গোল্ডেন স্টার নিয়েও প্রশ্ন
ইউনিয়নের ছয় কাঠা জমির ওপর নির্মিত দুইতলা হোটেল গোল্ডেন স্টার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শ্রমিকরা। তাদের দাবি, ইউনিয়নের জমি, হোটেলসহ সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, মালিকানা এবং এসব সম্পদ থেকে অর্জিত আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করতে হবে।

তারা ছয় কাঠা জমি সংগঠনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানান।

শ্রমিক নেতারা বলেন, ইউনিয়নের সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এসব সম্পদ শ্রমিকদের চাঁদা ও শ্রমের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। তাই সম্পদের ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের স্বার্থ এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

‘নির্বাচন হলেই সবকিছুর সমাধান’
শ্রমিকদের অভিযোগ ও সাধারণ সভা আহ্বানের দাবির বিষয়ে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বেলায়েত হোসেন বলেন, “সাধারণ সভা বা হিসাব-নিকাশের বিষয়ে আমার আসলে এখতিয়ার নেই। শ্রমিকদের মধ্যে দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষ নির্বাচন চায়, অন্য পক্ষ নির্বাচন চায় না। তবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এসব বিষয়ে সমাধান আসবে। সে জন্যই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূলত নির্বাচন হলেই সবকিছুর সমাধান হবে।”

সাধারণ শ্রমিকরা বলছেন, তাদের দাবি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা, ইউনিয়নের অর্থ ও সম্পদের স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ শ্রমিকদের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই তাদের লক্ষ্য।

দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে মো. মনজুর আলী, মো. জুয়েল, মো. স্বপন, মো. রানটু, মো. শামীম, মো. সাদ্দাম, মো. তরিকুল, রাশেদুল, হায়দারসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com