নওগাঁর মান্দায় সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্ক বাড়ে উপজেলার কশব ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদকের বিস্তারের পাশাপাশি জ্যামিতিক হারে বেড়েছে চুরি। গত এক মাসে ইউনিয়নের চকসিদ্ধেশ্বরী, পাঁজরভাঙ্গা, তালপাতিলা ও চকবালু এই ৪ গ্রামে অন্তত ২৬টি বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির এসব ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, কশব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা, চোলাই মদ, ট্যাপেন্টাডল বড়িসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে মাদকাসক্তদের একটি অংশ চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক মাসে ওই চার গ্রামের অন্তত ২৬টি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। তালপাতিলা গ্রামের নাজিমের বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা ও সাড়ে ৫ ভরি সোনা চুরির অভিযোগ রয়েছে। মতিউরের বাড়ি থেকে ডাব, লিয়াকতের বাড়ি থেকে সুপারি ও ডাব, আবুদ্দিনের বাগান থেকে নেট এবং রইছের বাড়ি থেকে পানির ফিতা চুরি হয়েছে।
চকসিদ্ধেশ্বরী গ্রামের মজিবুর, এনামুল ও আবদুর রউফের বাড়ি থেকে স্মার্টফোন, প্রবাসী জাফরের বাড়ি থেকে সোনার কানের দুল, মমিনুল ইসলামের ভ্যান, জাহাঙ্গীরের বাগান থেকে বাতাবি লেবু, কইরের বাড়ি থেকে কলস ও গামলা, মাহমুদার বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও ব্যাগ এবং আনোয়ারের প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের ১০টি বোরিং পাইপ চুরি হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে দুটি ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছে।
পাঁজরভাঙ্গা গ্রামের এমদাদের বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন, নাজিমের বাড়ির টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল ও বাগান থেকে কলা-সুপারি, জিন্নাতুনের চার্জার ভ্যানের যন্ত্রাংশ চুরি এবং শম্ভু লালের নদী পারাপারের নৌকার মেশিনের তেল চুরি হয়। কয়েক মাস আগে কালামের বাড়ি থেকে এক ভরি ওজনের সোনার চেইন চুরি হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।
অন্যদিকে চকবালু গ্রামের জলিলের দোকান থেকে প্রায় ৫ হাজার টাকার মাছ, নুরুদ্দিনের বাড়ি থেকে রান্নার সরঞ্জাম, আনসেনের বাড়ি থেকে স্মার্টফোন, নাসিরের বাড়ি থেকে মোবাইল, শরীফের বাড়ি থেকে ডাব-সুপারি এবং মোকছেদের বাড়ি থেকে মোবাইলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে সাইকেল, পানির পাম্প, টিউবওয়েলের মাথা ও বৈদ্যুতিক মিটার চুরির ঘটনা ঘটছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, মাদকের মূল আস্তানা ও কারবারিদের দ্রুত চিহ্নিত করে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা হোক, যাতে তারা স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরে পান।
এদিকে মাদক ও চুরির উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে সম্প্রতি চকসিদ্ধেশ্বরী মধ্যপাড়া মসজিদে জুমার নামাজের পর এলাকাবাসী মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। সেখানে মাদক কেনাবেচা বন্ধ ও চুরি প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
পরবর্তীতে ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে চকসিদ্ধেশ্বরী গ্রামের পুকুরপাড় এলাকায় স্থানীয়রা মাদকসেবী ও কারবারিদের চিহ্নিত করে ধরার চেষ্টা চালান। এ সময় মাদকদ্রব্য ফেলে কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে পরিত্যক্ত অবস্থায় নেশাজাতীয় ট্যাবলেটগুলো উদ্ধার করে।
তালপাতিলা গ্রামের ভুক্তভোগী মো. নাজিম জানান, ফজরের নামাজের পর ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে তারা চুরির বিষয়টি টের পান। চোরচক্র ছাদের গেটের গ্রিলের ভেতর দিয়ে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। এই ঘটনায় আনুমানিক সাড়ে ৫ ভরি সোনা এবং প্রায় ১ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এই এলাকায় প্রায় প্রতিনিয়ত বাড়িতে চুরি হচ্ছে। আমাদের ধারণা এরা মাদকের সঙ্গে জড়িত। মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্যই এরা এসব করছে। সুযোগ পেলেই চুরি করছে।
পাঁজরভাঙ্গা গ্রামের ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার নাজিম আহম্মেদ বলেন, ঘরে কী আছে আর কখন চুরি হয়ে যায় এ নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকি। কিছুদিন আগে টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল, বাগানের কলা, সুপারি এবং আমার নাতির সাইকেল চুরি হয়েছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। এ নিয়ে পুলিশ যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
কশব ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রমজান আলী বলেন, এলাকায় মাদক ও চুরির বিষয়ে নিয়মিত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জনসচেতনতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ এখনও তাদের কাছে আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে বা ভুক্তভোগীরা সরাসরি যোগাযোগ করলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, কশব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা, চোলাই মদ, ট্যাপেন্টাডল বড়িসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে মাদকাসক্তদের একটি অংশ চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক মাসে ওই চার গ্রামের অন্তত ২৬টি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। তালপাতিলা গ্রামের নাজিমের বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা ও সাড়ে ৫ ভরি সোনা চুরির অভিযোগ রয়েছে। মতিউরের বাড়ি থেকে ডাব, লিয়াকতের বাড়ি থেকে সুপারি ও ডাব, আবুদ্দিনের বাগান থেকে নেট এবং রইছের বাড়ি থেকে পানির ফিতা চুরি হয়েছে।
চকসিদ্ধেশ্বরী গ্রামের মজিবুর, এনামুল ও আবদুর রউফের বাড়ি থেকে স্মার্টফোন, প্রবাসী জাফরের বাড়ি থেকে সোনার কানের দুল, মমিনুল ইসলামের ভ্যান, জাহাঙ্গীরের বাগান থেকে বাতাবি লেবু, কইরের বাড়ি থেকে কলস ও গামলা, মাহমুদার বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও ব্যাগ এবং আনোয়ারের প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের ১০টি বোরিং পাইপ চুরি হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে দুটি ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছে।
পাঁজরভাঙ্গা গ্রামের এমদাদের বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন, নাজিমের বাড়ির টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল ও বাগান থেকে কলা-সুপারি, জিন্নাতুনের চার্জার ভ্যানের যন্ত্রাংশ চুরি এবং শম্ভু লালের নদী পারাপারের নৌকার মেশিনের তেল চুরি হয়। কয়েক মাস আগে কালামের বাড়ি থেকে এক ভরি ওজনের সোনার চেইন চুরি হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।
অন্যদিকে চকবালু গ্রামের জলিলের দোকান থেকে প্রায় ৫ হাজার টাকার মাছ, নুরুদ্দিনের বাড়ি থেকে রান্নার সরঞ্জাম, আনসেনের বাড়ি থেকে স্মার্টফোন, নাসিরের বাড়ি থেকে মোবাইল, শরীফের বাড়ি থেকে ডাব-সুপারি এবং মোকছেদের বাড়ি থেকে মোবাইলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে সাইকেল, পানির পাম্প, টিউবওয়েলের মাথা ও বৈদ্যুতিক মিটার চুরির ঘটনা ঘটছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, মাদকের মূল আস্তানা ও কারবারিদের দ্রুত চিহ্নিত করে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা হোক, যাতে তারা স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ ফিরে পান।
এদিকে মাদক ও চুরির উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে সম্প্রতি চকসিদ্ধেশ্বরী মধ্যপাড়া মসজিদে জুমার নামাজের পর এলাকাবাসী মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। সেখানে মাদক কেনাবেচা বন্ধ ও চুরি প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
পরবর্তীতে ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে চকসিদ্ধেশ্বরী গ্রামের পুকুরপাড় এলাকায় স্থানীয়রা মাদকসেবী ও কারবারিদের চিহ্নিত করে ধরার চেষ্টা চালান। এ সময় মাদকদ্রব্য ফেলে কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে পরিত্যক্ত অবস্থায় নেশাজাতীয় ট্যাবলেটগুলো উদ্ধার করে।
তালপাতিলা গ্রামের ভুক্তভোগী মো. নাজিম জানান, ফজরের নামাজের পর ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে তারা চুরির বিষয়টি টের পান। চোরচক্র ছাদের গেটের গ্রিলের ভেতর দিয়ে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। এই ঘটনায় আনুমানিক সাড়ে ৫ ভরি সোনা এবং প্রায় ১ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এই এলাকায় প্রায় প্রতিনিয়ত বাড়িতে চুরি হচ্ছে। আমাদের ধারণা এরা মাদকের সঙ্গে জড়িত। মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্যই এরা এসব করছে। সুযোগ পেলেই চুরি করছে।
পাঁজরভাঙ্গা গ্রামের ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার নাজিম আহম্মেদ বলেন, ঘরে কী আছে আর কখন চুরি হয়ে যায় এ নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকি। কিছুদিন আগে টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল, বাগানের কলা, সুপারি এবং আমার নাতির সাইকেল চুরি হয়েছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। এ নিয়ে পুলিশ যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
কশব ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রমজান আলী বলেন, এলাকায় মাদক ও চুরির বিষয়ে নিয়মিত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জনসচেতনতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ এখনও তাদের কাছে আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে বা ভুক্তভোগীরা সরাসরি যোগাযোগ করলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।