বড়কুঠি ঘাটে মাশুল নিয়ে জেলে-ইজারাদার দ্বন্দ্ব

আপলোড সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ০৫:০০:৪৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ০৫:০০:৪৬ অপরাহ্ন
রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি এলাকার পদ্মা নদীর ঘাটে মাশুল আদায় নিয়ে জেলে ও ইজারাদারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। চর খানপুর ও চর মাজারদিয়ার কয়েকজন জেলের অভিযোগ, ঘাটে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মাশুলের বাইরে মাছের ব্যাগ বা থলে অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তবে ইজারা আদায়ের প্রতিনিধির দাবি, দীর্ঘদিনের পুরোনো মাশুল তালিকার সঙ্গে বর্তমান ইজারার বাস্তবতার সমন্বয় না থাকায় এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের অভিযোগের প্রতিবাদে বড়কুঠি ঘাটে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেন চরাঞ্চলের প্রায় ৫০ জন জেলে। তাঁদের অভিযোগ, আধা কেজি থেকে এক-দুই কেজি মাছ নিয়েও ঘাটে এলে ব্যাগ বা থলে প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। মানববন্ধনে বাধা এবং এ সময় ইজারাদারের লোকজনের সঙ্গে তাঁদের বাকবিত-ার অভিযোগও করেন তাঁরা। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

জেলেদের ভাষ্য, নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় কয়েক ঘণ্টা পরিশ্রম করেও অল্প মাছ পাওয়া যায়। সেই মাছ বিক্রির আয়ের একটি অংশ অতিরিক্ত মাশুল হিসেবে দিতে হলে তাঁদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়। তাঁদের দাবি, ঘাটে টাঙানো মাশুলের তালিকায় মাছের ব্যাগ বা থলের জন্য পৃথক কোনো হার উল্লেখ নেই। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেছেন, তালিকায় মানুষের পারাপারের মাশুল ৩ টাকা থাকলেও ১০ টাকা, গবাদিপশুর ক্ষেত্রে ৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা এবং মোটরসাইকেলে ৭ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইজারা আদায়ের প্রতিনিধি সেরাজুল ইসলাম (সেরালী) বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে সিটি করপোরেশন যে মাশুলের তালিকা দিয়েছিল, সেটিই বর্তমানে ঘাটে রয়েছে। তাঁর দাবি, এর মধ্যে বিভিন্ন খরচ বেড়েছে এবং বর্তমান ইজারার বিষয়ে নতুন কোনো স্পষ্ট মাশুল নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে পুরোনো তালিকা ও বর্তমান ইজারা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থেকেই বিরোধ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, মাছের ব্যাগসহ একজন ব্যক্তি এলে ২০ টাকা এবং যাত্রীর ১০ টাকা-মোট ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

৬ নম্বর হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রমিজ আলম বলেন, ঘাটটি চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। নির্ধারিত মাশুলের বাইরে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে ইজারাদারেরও যদি মাশুল নিয়ে কোনো দাবি থাকে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালে মোঃননুর-ঈ সাইদ বলেন, খেয়াঘাট ইজারা প্রশাসন শাখার মাধ্যমে টেন্ডারে দেওয়া হয় এবং ইজারাসংক্রান্ত বিষয়গুলো তারাই মনিটরিং করে। নির্ধারিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের অভিযোগ থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]