লজ্জা ঢেকেছে বেসবল ব্যাট! ‘সবচেয়ে খারাপ বিজ্ঞাপন’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ মহিলা ক্রীড়াবিদদের

আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০৬:২৬:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০৬:২৬:৪০ অপরাহ্ন
বিতর্কে হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। একটি স্পোর্টস বেটিং এবং ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের প্রচারে নতুন বিজ্ঞাপনে যোগ দিয়েছিলেন সিডনি। সেখানে বিভিন্ন ক্রীড়া সরঞ্জাম নিয়ে প্রায় নগ্ন অবস্থায় দেখা গিয়েছে আবেদনময়ী নায়িকাকে।

২০২৫ সালে ‘আমেরিকান ইগল’-এর ডেনিম ক্যাম্পেনে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন লাস্যময়ী আমেরিকান তারকা। এ বার ফের নেটাগরিকদের রোষের মুখে সিডনি সুইনি। স্পোর্টস ট্রেডিং অ্যাপ ‘নোভিগ’-এর জন্য করা একটি বিজ্ঞাপনের ভিডিয়োয় ক্যামেরার সামনে ‘নগ্ন’ অবস্থায় দেখা গিয়েছে ২৯ বছর বয়সি অভিনেত্রীকে। সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল সেই ভিডিয়োর ঝলক। বইছে বিতর্কের ঝড়ও।

সমাজমাধ্যমে মুহূর্তে ভাইরাল হওয়া বিজ্ঞাপনটিতে সুইনিকে প্রায় নগ্ন অবস্থায় দেখা গিয়েছে। ঝড় তুলে দেওয়া ভিডিয়োটিতে লজ্জা ঢাকতে ফুটবল, বাস্কেটবল, বাস্কেটবল নেট, টেনিস র‍্যাকেট, বেসবল ব্যাট-সহ বিভিন্ন ক্রীড়া সরঞ্জাম ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে নায়িকাকে।

ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের বহু মহিলা ক্রীড়াবিদ তোপ দেগেছেন সিডনির বিরুদ্ধে। তবে তিনিও জবাব দেওয়ার সুযোগ ছাড়েননি। বাস্কেটবল, ফুটবল, হকি, টেনিস খেলার ভঙ্গিতে ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে তাঁকে। বিজ্ঞাপনটিতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুটবল, টেনিস র‍্যাকেট এবং চুল দিয়ে আড়াল করা হয়েছে। এই নিয়ে সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং ক্রীড়াবিদদের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন তিনি।

একটি ‘স্পোর্টস প্রেডিকশন’ সংস্থার বিতর্কিত বিজ্ঞাপনে যোগ দিয়ে মহিলাদের ক্রীড়াদুনিয়াকে অবমাননা এবং যৌনতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকান অভিনেত্রী সিডনি সুইনির বিরুদ্ধে। বিশ্ব জুড়ে মহিলা অলিম্পিয়ান এবং অন্যান্য ক্রীড়াবিদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সুইনি।

খবর, ‘নোভিগ’-এর ভাইরাল বিজ্ঞাপনটি মুক্তির প্রথম দু’দিনেই প্রায় আড়াই কোটি বার দেখা হয়েছে। ভিডিয়োটিতে সিডনির শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুটবল, বাস্কেটবল এবং অন্যান্য খেলার সরঞ্জাম দিয়ে আবৃত করা হয়েছে। তিনি দর্শকদের জানান, ‘শুধুমাত্র খেলাধুলার’ উপর বাজি ধরা যাবে। ৯ বার ‘খেলাধুলা’ শব্দটি বলার পর, তাঁকে একটি পুল টেবিলের উপর ‘টপলেস’ অবস্থায় দেখা যায়। তিনি বলেন, “এটি কেনাবেচা করা যাবে না, আমাকে শুধু এখানেই দেখতে ভাল লাগে।”

সম্প্রতি স্পোর্টস প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম বা বেটিং এবং ট্রেডিং সংস্থা ‘নোভিগ’-এর বিজ্ঞাপনের ভিডিয়োয় অধিকাংশ ফ্রেমেই ‘নগ্ন’ অবস্থায় দেখা মেলে সিডনির। কোথাও চুলের আড়ালে ঢাকা পড়েছে স্তনযুগল। কোনও দৃশ্যে আবার বাস্কেটবল, রাগবি বল, বাস্কেটবলের নেট বা টেনিস র‌্যাকেট দিয়ে কোনওক্রমে যৌনাঙ্গ আড়াল করেছেন অভিনেত্রী। কখনও বা আলোর কারসাজিতেই হয়েছে লজ্জা নিবারণ। পোশাক বলতে এই। কোনও দৃশ্যে ক্রীড়া সরঞ্জামের সঙ্গে ঊর্ধ্বাঙ্গ বা নিম্নাঙ্গে রয়েছে একটুকরো অন্তর্বাস।

তবে, বিজ্ঞাপনে সাহসী ফোটোশুট করে এর আগেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন তিনি। এ বার খেলাধুলোর ক্ষেত্রে এমন ‘নগ্ন’ অবস্থায় ফোটোশুট নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, স্পোর্টস ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের প্রচারে কেন তাঁর শরীরকে এ ভাবে ব্যবহার করা হল। নারীদেহকে পণ্য হিসাবে উপস্থাপন করার অভিযোগও করেছেন অনেকে।

বিজ্ঞাপনটি তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রিটিশ স্প্রিন্টার অ্যামি হান্ট। তিনি গত মাসে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে চারটি স্বর্ণপদক জিতেছেন। ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স আলটিমেট চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটারে চতুর্থ স্থান অধিকার করার পর হান্ট বলেন, “সিডনি সুইনি, খেলাধুলোর জগতে নারীরা এমনই দেখতে। কঠোর পরিশ্রম, রক্ত, ঘাম আর চোখের জল।”

বিজ্ঞাপনটির সমালোচনা করেছেন অলিম্পিক্সে পদকজয়ী বেশ কয়েক জন ক্রীড়াবিদও। অলিম্পিক্সে ওয়াটার পোলোতে রুপোজয়ী টিলি কার্নস ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “সিডনি সুইনির এই বিজ্ঞাপনটিকে আমি ঘৃণার চোখে দেখছি।”

ব্রিটিশ অলিম্পিক এবং সাইক্লিংয়ে স্বর্ণপদকজয়ী সোফি কেপওয়েল বিজ্ঞাপনটির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “এমন একটি পৃথিবীর কথা ভাবুন যেখানে খেলাধুলোয় মহিলাদের উপস্থাপনের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় উপাদান হিসাবে যৌন আবেদনকে তুলে না ধরা হয়।”

অস্ট্রেলিয়াতেও ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গিয়েছে বিজ্ঞাপনটিকে নিয়ে। নেতৃত্বে চার বারের অলিম্পিক সাঁতার চ্যাম্পিয়ন আরিয়ান টিটমাস। তিনি লিখেছেন, “এটা দেখে আমি যে কতটা ক্ষুব্ধ তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এটি শুধু সেই সব মহিলা ক্রীড়াবিদের মুখে লাথি মারার মতোই নয়, যাঁরা নিজেদের দক্ষতার মাধ্যমে খেলাকে নিখুঁত করতে জীবন উৎসর্গ করেছেন, বরং নিষ্ঠা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং ঐক্যের জন্য যাঁরা খেলাধুলো ভালবাসেন সেইসব মহিলাকেও অপমান।”

যদিও এই বিতর্ক নিয়ে এখনও সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি সিডনি। তবে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একাধিক জনপ্রিয় অ্যাথলিটের ছবি শেয়ার করেছেন তিনি। তাঁরা অতীতে একই ধরনের ফোটোশুটে স্বল্প পোশাকে দেখা দিয়েছিলেন। সেই তালিকায় রয়েছেন সেরেনা উইলিয়ামস, রোন্ডা রাউসি, সু বার্ড, মেগান র‍্যাপিনো এবং ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। এ ছাড়াও, মাইলস গ্যারেট, রব গ্রনকোস্কি, জেসন কেলসি এবং কার্ল অ্যান্থনি টাউনসের ছবিও শেয়ার করেন তিনি।

তবে বিতর্কের মধ্যে আখেরে লাভ হয়েছে ‘নোভিগ’-এরই। কারণ ইতিমধ্যেই তাঁদের ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে কয়েক কোটি দর্শক দেখে ফেলেছেন। সেটি বিজ্ঞাপনের অভিনবত্ব এবং সিডনির আবেদন, উভয় কারণেই হতে পারে। কিন্তু হঠাৎ কেন এমন বিজ্ঞাপন? বিতর্কের মুখে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানানো হয়, প্রচারের মূল লক্ষ্য ছিল খেলা নিয়ে একটি মজাদার ভাবনাকে তুলে করা।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বিজ্ঞাপনের সৃজনশীল ভাবনায় সিডনি নিজেই শুরু থেকে যুক্ত ছিলেন এবং সংস্থার ইকুইটি পার্টনার হয়েছেন। ‘নোভিগ’-এর সিইও জ্যাকব ফোর্টিনস্কি দাবি করেন, বিনোদনজগতের কোলাহল ছেড়ে খেলাধুলার দিকে মনোযোগ ফেরাতেই সিডনি এই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন। সিডনি নিজেই বলেছেন, “প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা রয়েছে।”

সিডনি নিজেও খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছোটোবেলায় ফুটবল এবং সফ্‌টবল খেলেছেন। স্কি টিমের সদস্যও ছিলেন তিনি। মিক্সড মার্শাল আর্টসের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে ওয়েকবোর্ডিংয়ে যোগ দিয়ে এক্স গেমসে খেলার স্বপ্নও ছিল তাঁর। তবে সেই স্বপ্ন শেষপর্যন্ত পূরণ হয়নি। এখন হকি এবং বক্সিং দেখতেই বেশি পছন্দ করেন তিনি। ২০২৫ সালে ‘ক্রিস্টি’তে বক্সার ক্রিস্টি মার্টিনের চরিত্রে অভিনয়ের পর বক্সিংয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ বেড়েছে বলেও জানান সিডনি।

বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তুকে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, এমন সমালোচনার বিরুদ্ধেও পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন জ্যাকব ফোর্টিনস্কি। তাঁর দাবি, ‘নোভিগ’ শুধুমাত্র ২১ বছর বা তাঁর বেশি বয়সিদের জন্যই সীমাবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, “সিডনি একটি ইকুইটি অংশীদারির জন্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং সৃজনশীল বার্তা তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন।”

তবে সিডনি সুইনিকে ঘিরে বিতর্ক এই প্রথম নয়। গত বছর ‘আমেরিকান ইগল’-এর প্রচারে ‘সিডনি সুইনির জিন্‌স দারুণ’ বাক্যে ‘জিন্‌স’ এবং ‘জিন’ শব্দ দু’টির উপর ভিত্তি করে একটি শ্লেষ ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখানে নীলাক্ষী অভিনেত্রীর উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জিনগত বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ ছিল। বিজ্ঞাপনটি একটি সাংস্কৃতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।

২০২৫ সালে সেই ‘আমেরিকান ইগল’-এর জন্য একই ধরনের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন অভিনেত্রী। নেটাগরিকেরা যুক্তি দেখান, এটি তাঁর শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ের উপর অযাচিত ভাবে জোর দিয়েছে। অনেকে এর পুরুষতান্ত্রিক আবেদনেরও বিরোধিতা করেছিলেন সেই সময়।

সেই সময়ে বিনোদন ম্যাগাজ়িন ‘পিপল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিডনি জানিয়েছিলেন, তীব্র বিরোধিতায় তিনি অবাক। জোর দিয়ে দাবি করেছিলেন, সমালোচকদের আরোপিত কারণগুলির জন্য নয়, বরং ব্র্যান্ডটিকে সমর্থন করার জন্যই তিনি ওই বিজ্ঞাপনে যোগ দিয়েছিলেন।

বিতর্কের আগুনে ঘি দিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের মন্তব্য। তাঁরা সিডনি এবং তাঁর বিতর্কিত বিজ্ঞাপনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। ক্যাম্পেন চালু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর অবশ্য ‘আমেরিকান ইগল’-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ব্র্যান্ডটি তার সর্বকালের সেরা বিক্রির রেকর্ড গড়েছে। সে সময় নাকি পুরুষ এবং মহিলা উভয় ডেনিম বিভাগেই ব্যাপক লাভের মুখ দেখেছিল তারা।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]