শিক্ষকের মৃত্যু: মানসিক নিপীড়নের অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ

আপলোড সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ১০:১৭:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ১০:৪০:০৩ অপরাহ্ন
স্ট্রোকে এক শিক্ষকের মৃত্যুর পর তাঁর লেখা পুরোনো একটি চিরকুটকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষকের ‘মানসিক নিপীড়নে’ সহকারী শিক্ষক সাহাদুল হকের মৃত্যু হয়েছে' এমন অভিযোগ তুলে বুধবার বিক্ষোভ করেছেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাঁরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন।

বুধবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। প্রায় ১০ মিনিট পর পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সাহাদুল হক গত সোমবার বানেশ্বরে নিজ বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তাঁর মৃত্যুর পর ২০২২ সালের ২৭ জুলাই লেখা একটি চিরকুট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই চিরকুটে সাহাদুল হক লিখেছিলেন, ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা কিংবা স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হলে এর জন্য প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী দায়ী থাকবেন। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষককে সহযোগিতা করা কয়েকজনকেও দায়ী করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের মানসিক চাপ ও দুর্ব্যবহারের শিকার ছিলেন সাহাদুল হক। তাঁর মৃত্যুর পর পুরোনো চিরকুটটি সামনে আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই বুধবারের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি মাহবুব সরকার। তিনি বলেন, “মানসিক টর্চারের বিষয়টা আসলে আপেক্ষিক। প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে অনেক কথা বলতে হয়। কোন কথাটা কীভাবে কতটুকু বলা যাবে, তার তো কোনো প্যারামিটার নেই। তাই এটাকে নিপীড়ন বলা যাবে না।”

সভাপতি জানান, বিক্ষোভের পর তাঁরা সাহাদুল হকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তাঁর পাওনা-দেনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে এবং তা দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০২২ সালের চিরকুটের বিষয়ে মাহবুব সরকার বলেন, সাহাদুল হক তখন আবেগের বশবর্তী হয়ে সেটি লিখেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সে সময় তদন্তও হয়েছিল। পরে সাহাদুল নিজেই জানিয়েছিলেন, আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি ওই চিরকুট লিখেছিলেন এবং এটি ঠিক হয়নি।

এদিকে, প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে যান। সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাসও সেখানে যান। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, “মানসিক নিপীড়নের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।”

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]