জমি ছিল নিজস্ব, তবুও আসামের ৭৩ মুসলিম পরিবারের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

আপলোড সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৭:২৮:২৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৭:২৮:২৫ অপরাহ্ন
আসামের মুসলিমসংখ্যাগরিষ্ঠ গোয়ালপাড়া জেলার কৃষণাই এলাকায় গত সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর)এক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ৭৩টি বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কৃষি জমিতে অনুমতি ছাড়া বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়। খারিজা পাইকান, খামার মানিকপুর, ভোজমালা পার্ট-২, জটশারবাড়ি এবং টেঙ্গাবাড়ি—এই পাঁচটি রাজস্ব গ্রাম জুড়ে চালানো অভিযানে বুলডোজার, জেসিবি ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করে বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়।

জেলা প্রশাসনের দাবি, কৃষি জমিকে আবাসিক জমিতে রূপান্তরের বৈধ অনুমোদন না নিয়েই বাসিন্দারা সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন।গোয়ালপাড়ার জেলা কমিশনার প্রদীপ তিমুং জানান, কৃষি জমি, জলাশয় এবং প্রাকৃতিক জলনিষ্কাশন পথ রক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিমুং বলেন, “এটি সম্পূর্ণ কৃষি জমি ছিল, কিন্তু রাতারাতি লোকজন এখানে বসতি গড়ে তোলে।”

তিনি আরও বলেন, অনিয়ন্ত্রিত বাড়ি নির্মাণের ফলে জলের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল এবং জলাশয়গুলো সংকুচিত হয়ে আসছিল।মাটিয়া রাজস্ব সার্কেল অফিসারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা খালি করা এবং ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রশাসন জানায়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো পরিবারই তা সরিয়ে নেয়নি।

বাসিন্দাদের প্রশ্ন ও প্রতিবাদ

তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, উচ্ছেদের শিকার অনেক পরিবারের কাছেই জমির বৈধ মালিকানা দলিল রয়েছে।

নর্থ ইস্ট মাইনোরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, যাদের বাড়ি ভাঙা হয়েছে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত জমিতেই বসবাস করছিলেন। তিনি বলেন, “তারা নিজেদের জমিতে বৈধ কাগজপত্র নিয়েই ছিলেন, এগুলো কোনো সরকারি জমি নয়। তাদের একমাত্র অপরাধ ছিল জমিটি কাগজে-কলমে 'কৃষি জমি' হিসেবে চিহ্নিত।” ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং এ ধরনের অভিযান পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

মুসলিম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব আসামের সভাপতি আশিক রব্বানিও প্রশাসনের এই ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “নিজের কৃষি জমিতে বাড়ি তৈরি করা কখনো অপরাধ হতে পারে না।”

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলা কমিশনার প্রদীপ তিমুং। তিনি জানান, দরং, বরপেটা, ধুবড়ি ও মানকাচরের মতো বিভিন্ন জেলা থেকে এসে লোকজন এখানে বসতি গড়েছিল। তিনি বলেন, “এখানে হিন্দু-সংখ্যালঘুর কোনো বিষয় নেই।” এমনকি কিছু স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা নিজেই কৃষি জমিতে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, আসাম জুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও গোয়ালপাড়ার দহিকাটায় বনভূমির জায়গা দখলমুক্ত করতে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছিল জেলা প্রশাসন। 

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]