দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন নিয়ে ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ফুলবাড়ী উপজেলা শাখা তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় স্থানীয় পৌরশহরের নিমতলা মোড়স্থ চেয়ারম্যান মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের
আহবায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য আব্দুল মজিদ চৌধুরী, হামিদুল হক, এসএম নূরুজ্জামান জামান, আব্দুল কাইয়ুম আনসারী, সঞ্জিত প্রসাদ জিতু, আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু, মাহমুদ হাসান বাবু, কমল চক্রবর্তী, নূরুন্নবী সরকার প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, এশিয়া এনার্জি কোম্পানি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে তিন ফসলি জমি, বসত ভিটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, শ্মশান, ভূগর্ভস্থ পানির সুপেয় ভান্ডার রক্ষার দাবিতে ফুলবাড়ীসহ আশপাশের মানুষ আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এশিয়া এনার্জিকে বহিস্কারসহ কয়লাখনি প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট এশিয়া এনার্জির স্থানীয় কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে কলেজ ছাত্র তরিকুল, কর্মজীবী সালেকিন ও আমিন ঘটনাস্থলেই নিহত এবং পুলিশ ও বিডিআরের লাঠিচার্জ ও গুলিতে দুই শতাধিক নারী ও পুরুষ আহত হন। জনগণের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ৬ দফা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। চুক্তির আংশিক বাস্তবায়ন হলেও দীর্ঘ ২০ বছরেও পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি বরং সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর পর গত ২রা সেপ্টেম্বর (বুধবার) জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকেও আবারও সেই পরিবেশ ধ্বংসকারী ও জনস্বার্থবিরোধী উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে বহুজাতিক কোম্পানি এশিয়া এনার্জি বা বর্তমান জিসিএম রিসোর্স (এঈগ জবংড়ঁৎপবং)-এর পুরোনো চক্রান্তকে নতুনভাবে জাগিয়ে তোলার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিশেষ করে ২০০৬ সালে অধ্যাপক নূরুল ইসলাম কমিটির, ২০০৭-২০০৮ সালে পাটোয়ারী কমিটির রিপোর্ট এবং ২০১১-২০১২ সালে মোশাররফ কমিটির রিপোর্টে ফুলবাড়ীর ভূ-তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, কৃষিজমি ও পরিবেশের ওপর উন্মুক্ত পদ্ধতির খনির সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হলে কৃষিজমি ও পানির উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে, ৬দফা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা এবং জাতীয় স্বার্থ ও পরিবেশ ধ্বংসকারী উন্মুক্ত
পদ্ধতিতে কয়লা খনির যেকোনো পরিকল্পনা চিরতরে বাতিল ঘোষণা করা। লন্ডন শেয়ার মার্কেটে ফুলবাড়ী কয়লাখনিকে নিজেদের দাবি করে বহুজাতি কম্পানি
জিসিএম (এঈগ জবংড়ঁৎপবং) শেয়ার বিক্রি করার অপরাধে অর্থদন্ডসহ দেশ থেকে চিরতরে বিতাড়িত করা এবং ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের নামে হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।
কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়ে সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমরা সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই, দেশ ও জনগণের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে জিসিএম-এর মুনাফার জন্য ফুলবাড়ী তথা উত্তরাঞ্চলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হলে এলাকার মানুষ তা মেনে নেবে না। অনতিবিলম্বে এই আত্মঘাতী পরিকল্পনা থেকে সরে না আসলে, ফুলবাড়ীসহ সারাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে তেল গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ২০০৬ সালের ২৬ আগস্টের মতোই আবারও কঠোর, সর্বাত্মক ও বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় স্থানীয় পৌরশহরের নিমতলা মোড়স্থ চেয়ারম্যান মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের
আহবায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য আব্দুল মজিদ চৌধুরী, হামিদুল হক, এসএম নূরুজ্জামান জামান, আব্দুল কাইয়ুম আনসারী, সঞ্জিত প্রসাদ জিতু, আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু, মাহমুদ হাসান বাবু, কমল চক্রবর্তী, নূরুন্নবী সরকার প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, এশিয়া এনার্জি কোম্পানি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে তিন ফসলি জমি, বসত ভিটা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, শ্মশান, ভূগর্ভস্থ পানির সুপেয় ভান্ডার রক্ষার দাবিতে ফুলবাড়ীসহ আশপাশের মানুষ আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এশিয়া এনার্জিকে বহিস্কারসহ কয়লাখনি প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট এশিয়া এনার্জির স্থানীয় কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে কলেজ ছাত্র তরিকুল, কর্মজীবী সালেকিন ও আমিন ঘটনাস্থলেই নিহত এবং পুলিশ ও বিডিআরের লাঠিচার্জ ও গুলিতে দুই শতাধিক নারী ও পুরুষ আহত হন। জনগণের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ৬ দফা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। চুক্তির আংশিক বাস্তবায়ন হলেও দীর্ঘ ২০ বছরেও পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি বরং সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর পর গত ২রা সেপ্টেম্বর (বুধবার) জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকেও আবারও সেই পরিবেশ ধ্বংসকারী ও জনস্বার্থবিরোধী উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে বহুজাতিক কোম্পানি এশিয়া এনার্জি বা বর্তমান জিসিএম রিসোর্স (এঈগ জবংড়ঁৎপবং)-এর পুরোনো চক্রান্তকে নতুনভাবে জাগিয়ে তোলার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিশেষ করে ২০০৬ সালে অধ্যাপক নূরুল ইসলাম কমিটির, ২০০৭-২০০৮ সালে পাটোয়ারী কমিটির রিপোর্ট এবং ২০১১-২০১২ সালে মোশাররফ কমিটির রিপোর্টে ফুলবাড়ীর ভূ-তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, কৃষিজমি ও পরিবেশের ওপর উন্মুক্ত পদ্ধতির খনির সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হলে কৃষিজমি ও পানির উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে, ৬দফা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা এবং জাতীয় স্বার্থ ও পরিবেশ ধ্বংসকারী উন্মুক্ত
পদ্ধতিতে কয়লা খনির যেকোনো পরিকল্পনা চিরতরে বাতিল ঘোষণা করা। লন্ডন শেয়ার মার্কেটে ফুলবাড়ী কয়লাখনিকে নিজেদের দাবি করে বহুজাতি কম্পানি
জিসিএম (এঈগ জবংড়ঁৎপবং) শেয়ার বিক্রি করার অপরাধে অর্থদন্ডসহ দেশ থেকে চিরতরে বিতাড়িত করা এবং ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের নামে হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।
কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়ে সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমরা সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই, দেশ ও জনগণের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে জিসিএম-এর মুনাফার জন্য ফুলবাড়ী তথা উত্তরাঞ্চলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হলে এলাকার মানুষ তা মেনে নেবে না। অনতিবিলম্বে এই আত্মঘাতী পরিকল্পনা থেকে সরে না আসলে, ফুলবাড়ীসহ সারাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে তেল গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ২০০৬ সালের ২৬ আগস্টের মতোই আবারও কঠোর, সর্বাত্মক ও বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।