মুমূর্ষু বৃদ্ধ মাকে নিয়ে উত্তাল সাগর পাড়ি, স্পিডবোটের ভিডিও ভাইরাল

আপলোড সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ০৭:২১:৩৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ০৭:২১:৩৩ অপরাহ্ন
সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামে গুরুতর অসুস্থ ৮০ বছরের মাকে নিতে উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে হয়েছে স্বজনদের। নাকে অক্সিজেনের নল, পাশে অক্সিজেন সিলিন্ডার। কোলে শুয়ে থাকা বৃদ্ধাকে বৃষ্টি থেকে রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা। এর মধ্যেই উত্তাল ঢেউ আর মুষলধারে বৃষ্টি। এমনই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে ধারণ করা ভিডিওটিতে দেখা যায়, উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে কখনো ওপরে উঠে যাচ্ছে স্পিডবোট, আবার আছড়ে পড়ছে নিচে। এর মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ রওশন আরা বেগমকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টি থেকে তাকে রক্ষায় স্বজনরা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলেও বাতাসে তা বারবার সরে যাচ্ছিল।

রওশন আরা বেগম সন্দ্বীপ পৌরসভার তালতলি বাজারসংলগ্ন ছটাই বাড়ির বাসিন্দা। তার বয়স প্রায় ৮০ বছর। কয়েক বছর ধরে তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। শনিবার সন্ধ্যা থেকে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে রোববার সকালে তাকে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল সন্দ্বীপ মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দ্রুত তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে সকাল ১০টার দিকে স্বজনরা তাকে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়ায় একটি স্পিডবোটে করে সাগর পাড়ি দিতে হয় তাদের। প্রায় চার ঘণ্টা পর বেলা ২টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছান তারা।

রওশন আরার ছেলে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, জরুরি রোগী পারাপারের জন্য ঘাটে গিয়ে তারা কোনো বিশেষ সহায়তা পাননি। বাধ্য হয়ে স্পিডবোটে করে মাকে নিয়ে চট্টগ্রামে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, এমন দুর্ভাগ্য আমাদের, জরুরি চিকিৎসায় পারাপারের ব্যবস্থা নেই। উল্টো জীবনের শঙ্কা নিয়েই রোগী নিয়ে সাগরে ঝাঁপ দিতে হয়।

জাহাঙ্গীর জানান, বর্তমানে তার মা চট্টগ্রাম শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন। তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও এখনো আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহম্মেদ জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ সময় সাগর উত্তাল থাকে। ১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত এ সতর্কসংকেত বহাল থাকবে।

এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সন্দ্বীপের জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপে জরুরি রোগী পারাপারের জন্য দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দুটিই অচল।

একটি সি-অ্যাম্বুলেন্স ২০০৮ সাল থেকে গুপ্তছড়া ঘাটের কাছে কেওড়াবাগানে পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি, এক দিনের জন্যও সেটি রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা হয়নি।

অন্যদিকে, ২০১৫ সালে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পক্ষ থেকে আরও একটি সি-অ্যাম্বুলেন্স সন্দ্বীপে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেটিও একবারের জন্যও চলাচল করেনি। বর্তমানে সেটি হারামিয়া ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পড়ে আছে।

মুমূর্ষু রোগী পারাপারে সি-অ্যাম্বুলেন্স দুটি কেন ব্যবহার করা হচ্ছে না জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস বলেন, ওই দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্স অচল হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। আমরা নতুন সি-অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানিয়ে এখনো কোনো সাড়া পাইনি।

এদিকে মুমূর্ষু রোগীকে উত্তাল সাগরের মধ্যে স্পিডবোটে করে চট্টগ্রামে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সন্দ্বীপের জরুরি চিকিৎসা ও রোগী পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]