অবৈধ মোটরের মাধ্যমে চলছে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, তানোরে এক সপ্তাহে অকেজো ৩০ নলকূপ

আপলোড সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ০৬:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ০৬:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন
বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেলেও রাজশাহীর তানোরে আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে অবৈধ মোটরের মাধ্যমে চলছে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব মোটরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ায় নির্বিচারে পানি উত্তোলন ও অপচয় হচ্ছে। এতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপভিত্তিক সেচ প্রকল্পও হুমকির মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তানোরে গত এক সপ্তাহে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় প্রায় ৩০টি গভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি সংকটে থাকা এ অঞ্চলে এ পরিস্থিতি কৃষি ও মানুষের ভবিষ্যৎ পানির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির গড় স্তর ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৬ ফুট নিচে। ২০১০ সালে তা নেমে দাঁড়ায় ৫০ ফুটে এবং ২০২১ সালে প্রায় ৬০ ফুটে। বর্তমানে কোনো কোনো এলাকায় পানির স্তর ১১৩ ফুটেরও নিচে নেমেছে। এমনকি রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় ১৭০ ফুট পর্যন্ত খনন করেও গভীর নলকূপে পানি না পাওয়ার তথ্য রয়েছে।

পানি সংকট মোকাবিলায় ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর প্রকাশিত গেজেটে বরেন্দ্র অঞ্চলের ৪ হাজার ৯১১টি মৌজাকে আগামী ১০ বছরের জন্য পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজা অতি উচ্চ, ৮৮৪টি উচ্চ এবং ১ হাজার ২৪০টি মৌজা মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত।

তানোরে বিএমডিএর ৫৩৬টি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ১৬টি, মোট ৫৫২টি গভীর নলকূপ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অগভীর নলকূপ ও সেচ পাম্প রয়েছে আরও ৮০০টির বেশি। উপজেলার ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর জমি সেচের আওতায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গভীর নলকূপে উত্তোলিত পানির প্রায় ৮০ শতাংশ সেচে ব্যবহার হলেও অবৈধ মোটরের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় মাত্র ৪০ শতাংশ। বাকি ৬০ শতাংশই অপচয় হয়। ফলে অনিয়ন্ত্রিত মোটর ব্যবহারে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাঁচন্দর, তালন্দ, বাধাইড় ও বৈদ্যপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক সংযোগ নিয়ে ২ থেকে ৪ হর্সপাওয়ারের মোটর বসিয়ে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী আবাসিক সংযোগ দিয়ে সেচ দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা থাকলেও তা না করে জরিমানার নামে প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

বিএমডিএ তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল হাসান বলেন, গভীর নলকূপের কমান্ড এলাকায় সেচ মোটর স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করেও সেচ দেওয়া যাবে না।

তানোর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রেজাউল করিম খান বলেন, বোরো চাষের আগে কৃষকদের সেচ না দিতে মাইকিংসহ প্রচারণা চালানো হয়েছে। এরপরও সেচ দেওয়ায় ৫ থেকে ৬ হাজার কৃষককে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। লিখিতভাবে ভবিষ্যতে সেচ না দেওয়ার অঙ্গীকার করলে আর জরিমানা করা হবে না বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, অবৈধ মোটর বন্ধ করে ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে তানোরে সেচের পাশাপাশি নিরাপদ খাবার পানির সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। কৃষকদের প্রশ্ন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় নেওয়া বিএমডিএর উদ্যোগ ব্যর্থ হলে এর দায় নেবে কে?

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]