আত্মহত্যা প্রবণতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি ও সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভাগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি’ প্রকল্পের রাজশাহী কোয়ালিশন টিমের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বহ্নিশিখার সহযোগিতায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আক্তার বানু আত্মহত্যার প্রবণতার পেছনে থাকা সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক কারণগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি দোষারোপ বা অবহেলার পরিবর্তে সহমর্মী ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কারও মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা বা প্রবণতা দেখা দিলে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পেশাদার সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।
অধ্যাপক আক্তার বানু আরও বলেন, বিশেষ করে নারী ও তরুণদের মানসিক চাপ, হতাশা, সহিংসতা, বৈষম্য ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আত্মহত্যা প্রতিরোধ শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের একার দায়িত্ব নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী—সবাইকে সমন্বিতভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।
রাজশাহী কোয়ালিশন টিমের লিড অ্যাডভোকেট শামসুন্নাহার মুক্তির সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন কোয়ালিশন টিমের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোবাররা সিদ্দিকা, কোয়ালিশন টিমের মেন্টর প্রমিলা কিস্কু, সদস্য ছোটন সরদার, সুলতানা আহমেদ সাগরিকা, সম্রাট রায়হান ও জুলফিকার আলী হায়দারসহ সংশ্লিষ্টরা।
আলোচনায় আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি একটি নিরাপদ, সহমর্মী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, সংকটে থাকা মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা গেলে আত্মহত্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সভায় আত্মহত্যা প্রবণতার সামাজিক ও মানসিক কারণগুলো নিয়ে আলোচনা এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সহায়তায় সামাজিকভাবে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।