শুধু প্লেটলেট কমে না, বিকল হতে পারে লিভারও, ডেঙ্গি নিয়ে সতর্ক থাকতে যা যা জানা জরুরি

আপলোড সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ০৮:৩২:১৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ০৮:৩২:১৭ অপরাহ্ন
বর্ষার জমা জলে ডেঙ্গি মশার উৎপাত বাড়ছে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়েই। ডেঙ্গি রোগীর ভিড়ও বাড়ছে হাসপাতালগুলিতে। স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী, অগস্ট মাসের মাঝামাঝি অবধি রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজারের বেশি, ডেঙ্গির কারণে মৃত্যুও ঘটছে। কাজেই সতর্ক থাকা খুবই প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে জমা জল যদি পাঁচ দিন বা সাত দিনের বেশি থাকে, তা হলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাবে ও খুব তাড়াতাড়ি মশার বংশবৃদ্ধি হবে। ইদানীং যা হয়েছে। শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি। খামখেয়ালি আবহাওয়ার কারণে ডেঙ্গি আরও বেশ কয়েক মাস ভোগাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাজেই রোগ ঘাঁটি গেড়ে বসার আগেই কিছু বিষয়ে সাবধান থাকা খুব প্রয়োজন।

কখন কামড়ায় ডেঙ্গি মশা?

সকালে ও বিকেলের পরে, দুই সময়েই সক্রিয় থাকে ডেঙ্গির বাহক এডিস ইজিপ্টাই মশা। মেডিসিনের চিকিৎসক রণবীর ভৌমিকের কথায়, ‘‘সকাল ৮টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৮টা অবধি ডেঙ্গি মশা সবচেয়ে বেশি কামড়ায়। সাধারণত পায়ের দিকে মশা বেশি কামড়ায়। তাই যে এলাকায় মশার উৎপাত বেশি, সেখানে সন্ধ্যার পর থেকেই মশারির ব্যবহার করতে পারলে ভাল। খেয়াল রাখতে হবে বাড়ির ভিতরে ও আশপাশে যাতে জল জমে না থাকে। আবর্জনা পরিষ্কার রাখাও জরুরি।’’

কী ভাবে ছড়ায় ডেঙ্গি?

এডিস মশা দু’ভাবে ছড়ায়। প্রথমত, ডেঙ্গি রোগীর রক্ত খাওয়ার পর মশার শরীরে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি হয়। এর ৮ থেকে ১০ দিন পর ওই মশা যদি কোনও সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ায়, তা হলে তাঁর ডেঙ্গি হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, এডিস মশা ডেঙ্গি রোগীর রক্ত খাওয়ার পর পরই যদি কোনও সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ায়, তা হলে ৬ থেকে ৮ দিনের মাথায় ওই ব্যক্তিও ডেঙ্গি আক্রান্ত হতে পারেন।

ডেঙ্গি মানেই শুধু জ্বর বা প্লেটলেট কমে যাওয়া নয়

ডেঙ্গি মানেই যে ঘন ঘন জ্বর আসবে তা কিন্তু নয়। বেশির ভাগ লোকেরই ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে ডেঙ্গি হলে জ্বর হবে বা প্লেটলেট দ্রত কমতে থাকবে। ডেঙ্গি কিন্তু এর চেয়েও বেশি ভয়ানক হতে পারে, এমনটাই জানালেন চিকিৎসক রণবীর ভৌমিক। তিনি বলেন, ‘‘ডেঙ্গি হলে যে ভয়টা সবচেয়ে বেশি থাকে তা হল লিভারের গোলমাল। শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ (ভাইরাল লোড) যত বেশি হবে, লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে থাকবে। পেটে জলও জমে যেতে পারে। সেই সঙ্গেই প্লেটলেট কমতে থাকে। তবে যতক্ষণ না প্লেটলেট ২০ হাজার বা ১০ হাজারের নীচে নামছে, ততক্ষণ ভয়ের কারণ নেই। ডেঙ্গি হলে তাই লিভার ফাংশন টেস্ট ও পেটে জল জমছে কি না, সে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।’’

ডেঙ্গি ভাইরাস তার রূপ বদালাচ্ছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যায়নি। তবে রোগের উপসর্গে যে বদল আসছে, সে বিষয়ে একমত চিকিৎসকেরা। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সংক্রামক রোগ বিষয়ক চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানান, উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে, বদল আসছে স্থানীয় আবহাওয়ার চরিত্রে। বৃষ্টি আসার সময়ও এলোমেলো হয়ে গিয়েছে এখন। এই সবই ডেঙ্গির মশার বংশবৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছে। ডেঙ্গিতে ‘মাল্টি অর্গ্যান ফেলিয়োর’-এর ঝুঁকি বাড়ছে। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা, জন্ডিস, কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

জ্বর সেরে গিয়েছে মানেই যে ডেঙ্গি রোগী সুস্থ হয়ে গিয়েছেন, এমনটা ধরে নিয়েই বিপদের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছেন সাধারণ মানুষ। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, জ্বর সেরে গেলেও ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা ডেঙ্গি রোগীকে বিশেষ নজরে রাখা ভীষণ জরুরি। ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে শরীরে জলের ঘাটতি শুরু হয়। শরীরের কোষগুলিতে জল কমে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন অঙ্গের কাজ ব্যাহত হয়। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি বাড়াবাড়ি পর্যায় পৌঁছোলে ফুসফুস, হৃদ‌্‌যন্ত্র, লিভারের মতো একাধিক অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

কী কী রক্তপরীক্ষা প্রয়োজন?

জ্বর ও পেট খারাপের উপসর্গ দেখা দিলেই এনএস-১ কিংবা আইজিএম (অ্যালাইজ়া) পরীক্ষার মাধ্যমে দেখে নিতে হবে ওই রোগী ডেঙ্গি আক্রান্ত কিনা।

জ্বর হওয়ার প্রথম দু’দিনের মাথায় এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট করে দেখা হয়, ডেঙ্গি পজ়িটিভ কি না। যদি পাঁচ দিন পেরিয়ে যায়, তা হলে আইজিএম অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়।

‘নিউক্লিক অ্যাসিড অ্যামপ্লিফিকেশন টেস্ট’ (এনএএটি) এখন অনেক জায়গায় করানো হয়। পরীক্ষাটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মতো, ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে এতে।

সতর্কীকরণ

ছোটদের ক্ষেত্রে বাবা-মাকে খেয়াল রাখতে হবে, জ্বরের সঙ্গে গাঁটে গাঁটে ব্যথা হচ্ছে কি না, পেশির খিঁচুনি হতে পারে ছোটদের। সেই সঙ্গে শরীরের গ্রন্থিগুলি ফুলে উঠবে। তখন দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

ডেঙ্গি জ্বরে শ্বাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। জ্বর ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখলে সাবধান হতে হবে।

প্রচুর জল খেতে হবে। বারে বারে অল্প করে খাবার খান। ঘরে তৈরি হালকা খাবার খেতে হবে।

বাড়ির ভিতর কোথাও যেন জল জমে না থাকে।

মশারির ব্যবহার আবশ্যিক।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]