সিডিএ প্রকৌশলী হাসানকে নিয়ে অপপ্রচার

আপলোড সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ১২:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ১২:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানকে নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করার অভিযোগ উঠেছে।সম্প্রতি নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানের বক্তব্য ছাড়াই তাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একপেশে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে প্রকাশিত এসব সংবাদ নিয়ে সিডিএ'র কর্মকর্তা-কর্মচারি ও জনমনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃস্টি হয়েছে,উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মুখরোচক নানা গুঞ্জন, প্রতিনিয়ত গুঞ্জনের ডালপালা মেলছে।এমনকি প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝেও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। 

সুত্র বলছে, তার বিরুদ্ধে উঙ্খাপিত অভিযোগের পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই না করেই তাকে কেন্দ্র করে একপাক্ষিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।এতে তার ব্যক্তিগত,সামাজিক ও পেশাগত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বিচারাধীন একটি বিষয়কে জনসমক্ষে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেনো আদালতের রায় ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে।

অথচ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ছিল মাত্র ১০ দিন ​প্রকৌশলী হাসানের ভাষ্যমতে, যে প্রকল্পের কাজকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্পেশাল মামলা নং-৪১/২০১২ ও ৪৩/২০১২ দায়ের করা হয়েছে, সেই প্রকল্পে তার দায়িত্ব পালনের সময়কাল ছিল মাত্র ১০ দিন। তিনি ২০০৮ সালের ৮ জুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান যে, প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কাজটি তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই পূর্ববর্তী সহকারী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হয়েছিল। পরবর্তীতে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর প্রত্যয়ন এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথিপত্রের ভিত্তিতে ঠিকাদারের প্রথম চলমান বা ১ম রানিং বিলের কার্যক্রম অগ্রসর করা হয় বলে জানান তিনি। তার দাপ্তরিক নোটেও দায়িত্ব গ্রহণের পর সরেজমিনে কাজ সম্পন্ন অবস্থায় পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।

এদিকে দুই মামলার বিল ও সুনির্দিষ্ট হিসাব ​প্রকৌশলী হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলা দুটির সঙ্গে জড়িত বিল ও দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ নিচে তুলে ধরা হলো- স্পেশাল মামলা নং-৪১/২০১২ এই মামলার প্রথম রানিং বিলের মোট পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৭ টাকা। এর মধ্যে ৫২ হাজার ৫৭৫ টাকা ৬০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

​স্পেশাল মামলা নং-৪৩/২০১২ এই মামলার প্রথম রানিং বিলের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৫৪ টাকা। এই বিলে ৬৪ হাজার ৪৪১ টাকা ৭০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

​অন্যদিকে ঠিকাদারসহ সিডিএর চার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল। প্রকৌশলী হাসানের প্রশ্ন প্রকল্পের কাজ যদি তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই সম্পন্ন হয়ে থাকে এবং তিনি দায়িত্ব পালনের মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বিলের কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে থাকেন, তবে পূর্ববর্তী পর্যায়ের কাজের দায় কীভাবে তার ওপর বর্তায় ? এটা অধিকতর তদন্তের দাবি রাখে।

এদিকে পুনঃপরিমাপের পদ্ধতি ও ২২ মামলার বৈষম্য ​তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে প্রকৌশলী হাসান বলেন, পরবর্তীতে পুনঃপরিমাপের সময় কার্পেটিংয়ের নিচে থাকা সাব-বেজ (Sub Base) ও সাব-গ্রেড (Sub Grade) কীভাবে নির্ধারণ ও পরিমাপ করে ঘাটতি দেখানো হয়েছে, তা প্রকৌশলগত দৃষ্টিকোন থেকে স্পষ্ট নয়। রাস্তার দৃশ্যমান স্তরের নিচে থাকা উপাদানের পরিমাণ নির্ধারণে অনুসরণ করা পদ্ধতি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এছাড়া, একই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দুদক মোট ২২টি মামলা দায়ের করলেও, অন্য মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকৌশলী বর্তমানে সিডিএতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ অন্যদের ছাড় দেওয়া হলেও তার ক্ষেত্রেই কেন সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তুলে সব অভিযুক্তের ক্ষেত্রে সম-মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা ও আইনি লড়াইয়ে মামলাগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। হাইকোর্ট সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মামলার ওপর স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছেন বলে জানান প্রকৌশলী হাসান। তার মতে, চূড়ান্ত রায় আসার আগেই কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা আইনগত ও নৈতিক উভয় দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ।

তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে বাস্তবায়িত প্রকল্প হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে মামলাগুলো দায়ের করা হয়ে থাকতে পারে বলে তার ধারণা। বিগত সরকারের সময়ে তিনি ন্যায্য শুনানির সুযোগ পাননি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

বক্তব্য প্রকাশ না করার অভিযোগ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান ​সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি এবং মামলার নথিপত্র ও প্রকৃত ভূমিকার বিষয়টি এড়িয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রকৌশলী হাসান।

তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের আগে মামলার এজাহার, চার্জশিট, আদালতের আদেশ, দাপ্তরিক নথি এবং বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়াও সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। তার দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা তিনি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি মাথা পেতে নেবেন, তবে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই যেন কাউকে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা না করা হয়।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]