রোবট ভ্যাকুয়ামের ক্যামেরায় স্ত্রীর গোপন মুহূর্ত, স্বামীই পেলেন কারাদণ্ড

আপলোড সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ০১:০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ০১:০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
প্রযুক্তি যে ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তাও কখনও কখনও বিপদের মুখে ফেলতে পারে, তাই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল তাইওয়ানের একটি ঘটনা। স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ক্যামেরায় তাঁর অন্তরঙ্গ মুহূর্ত রেকর্ড করেছিলেন এক ব্যক্তি। সেই ভিডিও আদালতে প্রমাণ হিসেবে পেশ করে স্ত্রীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও পান তিনি। কিন্তু পরে একই ভিডিও রেকর্ড করার অপরাধে ওই স্বামীকেই পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাঁকে ১ লাখ ৫০ হাজার তাইওয়ানি ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

ঘটনাটি ২০২৩ সালের। ২০২১ সালে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিয়ে হয়। তাঁরা স্বামীর বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন এবং ছুটির সময়ে একটি আলাদা বাড়িতেও যেতেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে স্ত্রীর আচরণ নিয়ে স্বামীর মনে সন্দেহ তৈরি হয়। ছুটির বাড়িতে একটি ব্যবহৃত টুথব্রাশ দেখতে পেয়ে তাঁর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

এরপর তিনি আশপাশের একটি পার্কিং গ্যারাজের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন। সেখানে এমন এক ব্যক্তিকে দেখতে পান, যিনি এর আগে তাঁর স্ত্রীকে গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন। এতে স্ত্রীর সঙ্গে ওই ব্যক্তির সম্পর্ক নিয়ে তাঁর সন্দেহ আরও বাড়ে।

এর প্রায় তিন মাস পর, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে বাড়ির রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি চালু করেন তিনি। যন্ত্রটিতে ঘর পরিষ্কারের পাশাপাশি অডিও এবং লাইভ ভিডিও ফিড দেখার সুবিধাও ছিল। সেই লাইভ ফিডে স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে ওই দৃশ্য ভিডিও করে সংরক্ষণ করেন।

ভিডিওটি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে স্ত্রী ও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন স্বামী। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁদের সম্পর্ক তাঁর বৈবাহিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তিনি প্রায় ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। আদালত পুরো দাবি মঞ্জুর না করলেও ওই সম্পর্ককে নিছক বন্ধুত্ব হিসেবে বিবেচনা করেনি এবং স্বামীকে ৫ লাখ তাইওয়ানি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

তবে এই আইনি জয়ই শেষ পর্যন্ত তাঁর জন্য বিপদ ডেকে আনে। স্ত্রী পাল্টা অভিযোগ করেন, তাঁর অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন স্বামী। বিষয়টি গড়ায় ফৌজদারি আদালতে।

স্বামীর দাবি ছিল, রোবট ভ্যাকুয়াম চালু হওয়ার সময় আলো ও শব্দের মাধ্যমে সেটি সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি বোঝা সম্ভব ছিল। এছাড়া ভিডিওটি যেহেতু দেওয়ানি মামলায় আদালত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে, তাই সেটি ধারণ করাও আইনসঙ্গত ছিল বলে তিনি যুক্তি দেন।

কিন্তু ফৌজদারি আদালত তাঁর সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, বৈবাহিক সম্পর্ক থাকলেও একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার নষ্ট হয় না। স্ত্রী ওই সময় রেকর্ডিং সম্পর্কে জানতেন কিংবা তাতে সম্মতি দিয়েছিলেন-এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

শেষ পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত রেকর্ড করার অপরাধে ওই ব্যক্তিকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১ লাখ ৫০ হাজার তাইওয়ানি ডলার জরিমানা করা হয়, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার সমান।

ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, প্রযুক্তি যেমন প্রমাণ সংগ্রহের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, তেমনই অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য বা দৃশ্য ধারণ করলে সেটিই আইনি বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]