খোয়াই নদীর বাঁধ ফের ভেঙে প্লাবনের শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৩০ গ্রামের মানুষ

আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৬:০১:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৬:০১:৫৩ অপরাহ্ন

ভারতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের মেরামত করা অংশ দ্বিতীয় দফায় ভেঙে গেছে। এতে বাঁধের আশপাশের অন্তত ৩০টি গ্রামে আবারও প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি অংশ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ শুরু করে। এর আগে গত মাসে একই স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে মেরামতের কাজ চলছিল।

সায়েদুর রহমান জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার থেকে ভারতের পানির ঢল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রায় ছয় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ায় মেরামতাধীন বাঁধটি পানির চাপ সহ্য করতে পারেনি। দুপুরের দিকে বাঁধটি আবারও ভেঙে যায় এবং পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৫৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ জুলাই কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একই স্থান ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। ওই সময় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন এবং ফসল, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়। তবে দেড় মাসেও মেরামতের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

কালীগঞ্জের বাসিন্দা শওকতুল ইসলাম বলেন, একই স্থান দিয়ে আবার পানি ঢোকায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আগের ভাঙনে ফসল, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এবারও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপারের নেতা তোফাজ্জল সোহেল বলেন, দেড় মাস আগে বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। অথচ এত অল্প সময়ের মধ্যে একই স্থানে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। তার অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড যথাযথভাবে কাজ করলে পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব হতো।

এদিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, গত মাসের বন্যায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবারও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাদুর্গত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।

খোয়াই নদীর পানি আরও বাড়লে নতুন করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]