বদলগাছীতে বিকাশ ব্যবসায়ী সাহিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ

আপলোড সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০৩:২২:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০৪:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন
নওগাঁর বদলগাছীতে মোঃ সাহিদ হোসেন (২৬) নামে এক বিকাশ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, অর্থ আত্মসাৎ, মিথ্যা ঋণের দাবি তুলে মামলা করে হয়রানি এবং সুদের কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পাওনা আদায়ে মামলা ও সামাজিক চাপকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন সাহিদ।

লক্ষীকুল গ্রামের আছমা বেগমের অভিযোগ, ২০২২ সালের ২১ আগস্ট বিকাশের পিন-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে তিনি সাহিদের দোকানে যান। পরে সাহিদের কথায় মোবাইলে আসা একটি ওটিপি দেওয়ার পর তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ সাহিদের হাতে চলে যায়। এরপর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হলে তা অন্য নম্বরে সরিয়ে নেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।

আছমার দাবি, একপর্যায়ে সাহিদ তাঁর মেয়ের কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওনা দাবি করেন। যদিও মেয়ের সঙ্গে সাহিদের কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল না বলে দাবি পরিবারের। পরে আছমা, তাঁর মেয়ে ও শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মজনু রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা করেন সাহিদ। মামলাটি ২৮৬/২২ নম্বরের।

আছমার ভাষ্য, মামলায় তাঁদের ১৩ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। প্রায় তিন বছর পর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে আপস করতে হয়েছে।

অন্যদিকে জিধিরপুর গ্রামের বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক মোঃ আরিফ উল করিম রাব্বি অভিযোগ করেন, সাহিদের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন ছিল। লেনদেন বন্ধ করার পর সাহিদের কাছে তাঁর পাওনা ছিল ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু সাহিদের কাছে তাঁর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা একটি ব্যাংক চেক ছিল।

রাব্বি বলেন, আমি ভাবতে পারিনি, কোনো কারণ ছাড়া সুসম্পর্কের মধ্যে থেকেও সে ওই চেক ব্যবহার করে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় আমার বিরুদ্ধে মামলা করবে। মামলাটি ৪৩৫/২৫ নম্বরের। তবে ওই মামলায় আদালত থেকে তাঁর কাছে কোনো সমন আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি। পরে হঠাৎ পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাহিদের বাবা একজন ভ্যানচালক এবং সাহিদ নিজে একসময় কাটমিস্ত্রির দোকানের কর্মচারী ছিলেন। বর্তমানে বিকাশ ব্যবসা ও চড়া সুদের কারবার করে তিনি প্রায় কোটিপতি হয়েছেন বলে দাবি করেন রাব্বি। তাঁর অভিযোগ, সাহিদের কর্মকাণ্ডে বদলগাছীর অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাহিদের আয়ের প্রকৃত উৎস জানতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, বিকাশ ব্যবসার পাশাপাশি সাহিদ সুদের কারবারেও জড়িত। কম পরিমাণ অর্থ দিয়ে পরে বেশি টাকা দাবি করা এবং পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে মামলা করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ব্যাংকঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদলগাছী থানার এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, বিকাশ সাহিদ কোর্টে গিয়ে যেগুলো মামলা করে সেই মামলার তদন্তকারী অফিসার যদি সাহিদের পক্ষে রিপোর্ট না দিলে সাহিদ সেই তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিসেল সহ পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করে হয়রানী পেরেশানী করে থাকে। যেমন এই বিকাশ সাহিদ জনৈক শাকিলের নিকট থেকে ৪ লক্ষ টাকা পাবে মর্মে শাকিলের নামে একটি সিআর মামলা করে যার মামলা নং ১০৩, ধারা ৪০৬/৪২০, তদন্তকারী অফিসার ওই মামলা তদন্ত করে ৫৪ হাজার টাকা প্রাপ্তীর সত্যতা সংক্রান্তে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করায় তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে বিকাশ সাহিদ পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স, ডিআইজি অফিস, সিকিউরিটি সেল এমনকি মন্ত্রনালয়েও লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে সাহিদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সাহিদের আর্থিক লেনদেন, বিকাশ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, ঋণসংক্রান্ত মধ্যস্থতা এবং দায়ের করা মামলাগুলোর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রাহকের ওটিপি নিয়ে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে, তা ব্যক্তিগত বিরোধের পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে বলে মনে করছেন তাঁরা।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]