‘মাদকাসক্ত’ ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় বাবা, ফটকে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু

আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ০৭:৫৮:০০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ০৭:৫৮:০০ অপরাহ্ন
সারা জীবন কৃষিকাজ করে সংসার চালিয়েছেন আবু তাহের মজুমদার (৭৫)। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে বড় করেছেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে বড় ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগপত্র হাতে থানার ফটক দিয়ে ঢোকার সময় হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। আবু তাহের মজুমদারের বাড়ি উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে শরীফের বিরুদ্ধে বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিসও হয়েছে। তবে তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

শনিবার সকালে ছেলের সঙ্গে ঝামেলার পর দুপুরে তার বিরুদ্ধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ করতে থানায় যান আবু তাহের। থানার সামনে একটি কম্পিউটার দোকান থেকে অভিযোগপত্র লিখিয়ে নেন তিনি। এরপর অভিযোগপত্র হাতে থানার মূল ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকার সময় হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান।

পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আবু তাহের অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে আবু তাহেরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

এদিকে বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম। রোববার বেলা ১১টার দিকে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘আমি মাদক কারবারি বা মাদকসেবী নই, আমি একজন প্রবাসী। ছুটিতে দেশে এসেছি। কয়েক দিন পরই চলে যাব। বাবাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করার প্রশ্নই ওঠে না।’

শহিদুলের দাবি, তার বাবা কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার সকালে বাবা দা দিয়ে তাকে কোপ দেন। এরপর কী করবেন বুঝতে না পেরে তার বাবা থানায় চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।

তবে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর দাবি, শহিদুল দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে ছিলেন এবং প্রায় আড়াই মাস আগে ছুটিতে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর মাদক সেবন ও পরিবারের কাছে টাকা চাওয়া নিয়ে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বিরোধ তৈরি হয় বলে ওই প্রতিবেশী জানান। এ নিয়ে আবু তাহের ছেলেকে শাসন করতেন এবং একপর্যায়ে ছেলে তাকে মারধর করেন বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি। আবু তাহেরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]