ভোলার নদ-নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ পাওয়ায় জেলে পাড়ায় উৎসবের আমেজ

আপলোড সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৬:২১:৪৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ০৬:২১:৪৯ অপরাহ্ন
উপকূলীয় জেলা ভোলার নদ-নদীতে জেলেদের জালে প্রচুর রুপালি ইলিশ মাছ ধরা পড়ায় জেলে পাড়ায় উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। নদীতে দীর্ঘদিনের ইলিশ শূন্যতার পর নদীতে আবারও জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে জেলেদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি ও আশার আলো।

জেলেরা জানিয়েছেন, মেঘনা, তেঁতুলিয়া, ইলিশা, কালাবাদর ও বুড়াগৌড়াঙ্গ নদীসহ ভোলার বিভিন্ন নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আগের তুলনায় বেশি ইলিশ পাওয়ায় ব্যস্ততা বাড়ছে তাদের। বর্তমান সময়ে জালে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় হতাশায় ছিলেন জেলেরা। এখন ইলিশের দেখা মেলায় তাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। জেলেদের আশা; নদীতে ইলিশের বিচরণ আরও বাড়লে সামনে বেশি এবং ভালো মানের মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, নদীতে ইলিশের উপস্থিতি বাড়ায় তারা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। আর এতে জেলে পরিবারগুলোর পাশাপাশি মাছঘাট ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২ টা থেকে দুপুর সোয়া ১ টা পর্যন্ত সরেজমিনে জেলা সদর ভোলার মেঘনা নদীর শিবপুর মাছঘাট, ইলিশা, তুলাতুলি এবং ভেদুরিয়াসহ তেতুলি নদীর বেশ কয়েকটি মাছঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ইলিশ সংরক্ষণ, কেনা বেঁচা, জেলে, আড়ৎদার ও ক্রেতা বিক্রেতাদের ব্যস্ততা। 

এসব ঘাটে থাকা জেলে মালেক মাঝি, শরিফ, মাইনউদ্দিন, কালাম ও ছিডু মাঝির সাথে কথা হয়। তারা জানান, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত থেকেই নদীতে তাদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে তাদের সবার চোখে মুখে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়ায় আনন্দ আর তৃপ্তির হাসি।

তারা জানান, এভাবে ইলিশ ধরা পড়লে তাদের ধারদেনা পরিশোধ করে তারা লোকসানের ঘানি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

ভোলা সদরের ইলিশা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো.বাদশা মিয়া বলেন, আমরা এতোদিন ইলিশ না পাওয়ায় খুবই হতাশ ছিলাম। ইলিশ সরবরাহের চুক্তিতে ঢাকার মোকামের মালিকদের কাছ থেকে এখানকার আড়ৎদারগণ লাখ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়েছিলো। ইলিশ দিতে না পারায় সবাই ছিলো টেনশনে। অবশেষে নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ায় আমরা এখন সবাই আনন্দিত।

জেলার সাগর পাড়ের উপজেলা চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্য বন্দর, মনপুরা, হাজির হাট, রামনেওয়াজ, পঁচা কোড়ালিয়া ও কলাতলী মাছঘাটেও প্রচুর পরিমানে ইলিশ বেঁচাকেনার খবর মিলেছে। 

সেখানকার জেলেরা জানান, হঠাৎ করে ইলিশের আগমন ঘটলেও দাম এখনো কমেনি। মনপুরা মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির নেতা আমির হাওলাদার বাসস'কে বলেন, ১ কেজি সাইজের ইলিশের মূল্য এখন ২৭শ’ টাকা, ৮শ’ গ্রামের মূল্য ১৪ শ’ এবং ৫ শ’ গ্রাম সাইজের ইলিশ মাছের মূল্য ৭শ’ টাকা হাকানো হচ্ছে।

জেলা সদর ভোলা ও তৎসংলগ্ন জেলাগুলোর আড়তেও ইলিশের এমন মূল্য উঠানামা করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তবে ইলিশের ব্যাপক প্রাপ্তি চলমান থাকলে আগামী ২/৪ দিনের মধ্যেই ইলিশের মূল্য ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে জানান মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।

ভোলার মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মৌসুমে জেলার নদী হতে ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ৮৯ হাজার থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন। গত অর্থবছরে এ জেলায় ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জন ভালো থাকায় নতুন বছরে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.দেলোয়ার হোসাইন বলেন, এখন ইলিশ মৌসুম চলছে। এখন থেকে নদী ও সাগরে যেভাবে ইলিশ ধরা পড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবো।

জেলা মৎস্য দপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, জেলায় সরকার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার। তবে নিবন্ধিতদের বাইরে আরও অনেক অনিবন্ধিত বা বেসরকারি জেলে রয়েছেন, যা সংখ্যায় ২ লাখের অধিক।

উল্লেখ্য, নদীতে জাটকা ও মা ইলিশ ধরায় ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে প্রণোদনার আওতায় ভোলার ৯০ হাজার ২১৩ জন নিবন্ধিত জেলেকে ভিজিএফ এর খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল দেওয়া হয়। এছাড়া ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত আরও ১৩ হাজার ৬০০ জন কর্মহীন জেলেকে বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]